বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী ভারসাম্যহীন উন্নয়ন হচ্ছে।
টেকসই উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সম্পদের অসম বণ্টন।
পুরো পৃথিবীতে দারিদ্রদ্র্য বিমোচনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সম্পদের বৈষম্য বেড়েই চলেছে। সমাজের একশ্রেণির মানুষ অন্যায়ভাবে সম্পদ কুক্ষিগত করছে। এতে অন্যরা দারিদ্র্যের কবলে পড়ছে এবং সমাজে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য। ধনী-গরিবের ক্রমবর্ধমান ব্যবধান দারিদ্র্যকে আরও প্রকট করে তুলছে। এ অবস্থা টেকসই উন্নয়নের পথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
লাউদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাগুলো প্রশমনের জন্য জাতিসংঘের 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট' (এসডিজি) কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাপী সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি ঘোষণা করেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির অন্যতম লক্ষ্য হলো জলবায়ুর পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বিশ্বকে মুক্ত করা। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন দুর্যোগের কবলে পড়ে আমাদের পৃথিবী বিপর্যস্ত হতে বসেছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য এসডিজিতে এ কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে।
এসডিজির আরও দুটি অভীষ্ট হলো জেন্ডার সমতা অর্জন ও অসমতা হ্রাস। এ দুটি বিষয় নারী অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারী নির্যাতন রোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এছাড়া শোভন কর্মসুযোগ প্রদানের মাধ্যমে নারীদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে এসডিজি কার্যক্রম যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ একটি দুর্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক ফল। আর ঘটনা-২ এ কাজের ক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং নারী নির্যাতনের চিত্র দেখানো হয়েছে। এ বিষয়গুলো এসডিজি কার্যক্রম সফল করার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। এ কারণে বলা যায়, এসডিজি কার্যক্রম সফল করার মাধ্যমেই উদ্দীপকের ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
উক্ত কার্যক্রম অর্থাৎ 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট' অর্জিত হলে শুধু উদ্দীপকের ঘটনা প্রশমনই নয়, বরং আরও অনেক সুফল লাভ করা যাবে।
এসডিজি বাস্তবায়িত হলে শুধু জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব এবং নারী নির্যাতন হ্রাস পাবে তাই নয় এর পাশাপাশি আরো অনেক সুযোগ লাভ করা যাবে। সারা পৃথিবীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের সমন্বয়ে 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট' পরিচালিত হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আমরা বিভিন্ন ধরনের সুফল লাভ করতে পারব।
উদ্দীপকে শুধু দুর্যোগ ও নারী নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়িত হলে এগুলো দূর করা যাবে। এর পাশাপাশি আশা করা যায় দারিদ্র্যের হার হ্রাস পাবে, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমবে, আয় ও ভোগের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি হবে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা সৃষ্টির ফলে বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিরাজ করবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চার দ্বার উন্মোচিত হবে। অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং তথ্য অধিকার সংরক্ষিত হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়নের ফলে আমরা নিজেদেরকে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে ভাবতে শিখব। খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেও আমরা এগিয়ে যাব।
সার্বিকভাবে বলা যায়, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়িত হলে উদ্দীপকের ঘটনা দূর করাসহ উন্মুক্ত বিশ্বে বাস করার সকল সুযোগ সুবিধা আমাদের দোরগোড়ায় পৌছে যাবে। আমরা সুখী ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে নিজেদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করত পারব।
Related Question
View Allজলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হলো জলবায়ু কার্যক্রম।
জলবায়ু কার্যক্রম হলো 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট' এর ১৩তম লক্ষ্যমাত্রা।
সবার অংশীদারিত্ব ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না বলে টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
অংশীদারিত্ব হলো কোনো উন্নয়ন কার্যক্রমে যার যা দায়িত্ব ও কর্তব্য তা পালন করা। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজের সর্বস্তরের অংশগ্রহণসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। কাউকে বাদ দিয়ে বা পিছিয়ে রেখে অন্যরা এগিয়ে গেলে সেই উন্নয়ন জাতীয় ও বৈশ্বিকভাবে টেকসই হবে না।
এজন্য টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!