স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র চট্টগ্রামের কালুরঘাটে অবস্থিত।
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী দেশ ভারত নানাভাবে আমাদের সাহায্য করে। ভারতীয় বাহিনী মধ্য নভেম্বর থেকে পাকিস্তানি = সেনাদের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীকে কার্যকরী সহায়তা দিতে থাকে। পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আরও সুদৃঢ় আক্রমণের জন্য ২১শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত সরকার একটি যৌথ কমান্ড গঠন করে। মূলত পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে গতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যেই যৌথবাহিনী গঠন করা হয়।
ঘটনা-১ দ্বারা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ২৫শে মার্চ কালরাত্রির গণহত্যার ঘটনাকে ইঙ্গিত করে, যা ইতিহাসে অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত।
এ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যা করে বহু মানুষকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করে অসংখ্য ছাত্র-শিক্ষককে। একইভাবে গণহত্যা চালায় পুরনো ঢাকা, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়ের বাজার, ধানমন্ডি, কলাবাগান প্রভৃতি স্থানে। ঢাকার বাইরে সারাদেশে সেনানিবাস, ইপিআর, ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালি সেনাকে হত্যা করে। সে রাতেই ঢাকায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। ২৫শে মার্চ রাত দেড়টায় (২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধুকে তার ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাসা থেকে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেফতার করে। একই ধরনের বর্ণনা উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ বিবৃত হয়েছে। এখানে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহের এক মধ্য রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর শাসকগোষ্ঠীর আক্রমণের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা-১ দ্বারা ২৫শে মার্চ কালরাত্রির গণহত্যার ঘটনাকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘটনা-২-এ উল্লিখিত বিষয়টি হলো মুজিবনগর সরকার, যা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের বিজয়ী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দ্বারা সুসংগঠিত হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে মুজিবনগর সরকার মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কেননা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ও বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত প্রথম বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট যোগ্যতা, দক্ষতা ও দূরদৃষ্টির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য মুজিবনগর সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিদেশে সমর্থন আদায় ও জনমত গঠনের চেষ্টা করেন। তার চেস্টায় জাতিসংঘে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই মুজিবনগর সরকার দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশের দুটি মিশন স্থাপন করে। এছাড়াও মুজিবনগর সরকার ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও লন্ডনে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন, করে। এসব মিশন বাংলাদেশের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ, অনুষ্ঠান, পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থন আদায়, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখে। অবশেষে মুজিবনগর সরকারের সাংগঠনিক নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ করে এবং বিশ্বমানচিত্রে উদিত হয় লাল-সবুজের পতাকা।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে মুজিবনগর সরকার মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View All১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালিদের ক্ষমতা গ্রহণে বাধা দেওয়ার জন্য ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেন। তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংকট তৈরি করেন। এই পদক্ষেপ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভআরও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
২রা মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। এটি স্বাধীন বাংলার প্রথম আনুষ্ঠানিক পতাকা ছিল।
৩রা মার্চ ১৯৭১-এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিন পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে আন্দোলন আরও গতিশীল হয় এবং জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা বৃদ্ধি পায়।
শাজাহান সিরাজ ৩রা মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এটি মুক্তি আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা এনে দেয় এবং ছাত্র-জনতাকে আরও সংগঠিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!