বিয়ের সময় বর বা কনে বিপরীত পক্ষের কাছ থেকে যে অর্থ বা সম্পত্তি দাবি বা গ্রহণ করে তাই যৌতুক।
মানুষের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে সামাজিক সমস্যা অন্যতম।
সামাজিক সমস্যা হলো এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত অবস্থা যা সমাজে উন্নয়নের পথে বাধার সৃষ্টি করে এবং সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি ও মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে সমাজে অশান্তির জন্ম দেয়। যার প্রতিকারের জন্য সমাজের মানুষ এককভাবে বা যৌথভাবে প্রচেষ্টা চালায়।
ঘটনা-১ এ যে সামাজিক সমস্যাটি ফুটে উঠেছে তা হলো বাল্যবিবাহ।
বাল্যবিবাহ বলতে বোঝায় যে বিয়েতে বর ও কনে উভয়ই শিশু বা বর ১ও কনের মধ্যে যেকোনো একজন শিশু বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ অনুযায়ী শিশু বলতে ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়সের ছেলেকে বোঝায়। সুতরাং যাদের মধ্যে বিয়ে হয় তাদের মধ্যে যদি ছেলের বয়স ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম অর্থাৎ বিয়ের জন্য আইন অনুমোদিত বয়সের চেয়ে উভয়ই অথবা একজন যদি কম বয়সি হয় তাহলে সে বিয়েকে বাল্যবিবাহ বলে।
ঘটনা-১ এ লক্ষ করা যায়, ৭ম শ্রেণির ছাত্রী জমিলার পাশের গ্রামের এক জনাঢ্য পরিবারের ছেলের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। যেহেতু জমিলা ৭ম শ্রেণির ছাত্রী, সেহেতু তার বয়স ১৮ বছরের নিচে অর্থাৎ বয়সের বিচারে জমিলা একজন শিশু তাই তার বিয়ে বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত এ কারণে ঘটনা-১ এর সামাজিক সমস্যাটি হলো বাল্যবিবাহ।
ঘটনা-২ এর সামাজিক সমস্যাটির চিহ্নিত কারণটিই ঐ সমস্যার একমাত্র কারণ নয়।
ঘটনা-২ এ বলা হয়েছে, সোহাগকে লেখাপড়া করাতে গিয়ে তার পিতার সামান্য জমিটুকুও শেষ হয়ে যায়। তাই সে ছেলের বিয়েতে মেয়ের রাবার নিকট থেকে শর্ত মোতাবেক মোটা অঙ্কের টাকা এনে ঐ জমি উদ্ধার করে। ঘটনা-২ এর এসব তথ্য বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক শমস্যা যৌতুকের দারিদ্র্য কারণটিকে নির্দেশ করে। তবে দরিদ্রতা যৌতুকের পেছনে আরও কারণ রয়েছে।
বাংলাদেশের অনেক সম্পদশালী মানুষ তাদের কন্যার বিয়েতে বিপুল যৌতুক দেয়। ধনী পিতামাতার ধারণা যৌতুকের কারণে তাদের ন্যা স্বামীর ঘরে মাথা উঁচু করে থাকবে। এ কারণেও যৌতুক প্রথা মাজের গভীরে বাসা বেঁধেছে। আমাদের দেশে যৌতুক নিরোধের জন্য রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এ বিষয়ে না জানার কারণেও যৌতুক প্রথা মাজে স্থায়ী রূপ লাভ করেছে। এছাড়া এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ হওয়ায় যৌতুক সমস্যা বেড়েই চলেছে।
পরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, ঘটনা-২ এ যৌতুক সামাজিক মস্যার দারিদ্র্য কারণটি চিহ্নিত হলেও উল্লিখিত অন্যান্য কারণগুলো জিত হয়নি। তাই এ সমস্যার জন্য দারিদ্র্যই একমাত্র কারণ নয়, রিও বহুবিধ কারণ রয়েছে।
Related Question
View Allএথেন্সে বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে অর্থসম্পদ নিয়ে যেত।
কন্যা সন্তানকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কন্যাসন্তান শিক্ষিত হলে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার মাধ্যমে তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে। নারীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক এমনকি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।
জাহিদের বাবা-মায়ের প্রস্তাবটি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা যৌতুক প্রথাকে ইঙ্গিত করে।
যৌতুক একটি প্রাচীন প্রথা। প্রাচীন চীন ও এথেন্সে এ প্রথা চালু ছিল। খৌতুক হচ্ছে বিয়ের সময় বরকে প্রদত্ত অর্থ, সম্পত্তি ও নানা ধরনের মূল্যবান আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম। বাংলাদেশের বিবাহ আইনে যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দুটোই নিষিদ্ধ।
উদ্দীপকের জাহিদের বাবা-মা তার বিয়েতে নানা উপহারসামগ্রী ও টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এখানে ছেলেপক্ষকে উপহার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটি পরোক্ষভাবে যৌতুক প্রথাকেই সমর্থন করে।
যৌতুক বাংলাদেশে প্রচলিত সামাজিক সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম একটি প্রথা। আমরা এ জঘন্যতম সামাজিক প্রথা রোধে যেসব পদক্ষেপ নিতে পারি তা হলো-
প্রথমত, পরিবারের কন্যা সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শিক্ষিত হয়ে মেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হলে যৌতুকের অভিশাপ তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নারীসমাজ এ জঘন্য প্রথার কারণে প্রতিনিয়ত অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এমনকি তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে বা তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। তাই এ প্রথার বিরুদ্ধে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মনে যৌতুকবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
তৃতীয়ত, যৌতুক নিরোধ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। আইন শুধু কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না। এর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন হয় ১৯২৯ সালে।
যৌতুক নিরোধের জন্য বাংলাদেশে ফৌজদারি আইন প্রচলিত আছে।
যৌতুক বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে 'যৌতুক নিরোধ আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৮৬ সালে যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া যৌতুক প্রথা দমনের জন্য ১৯৮৩ সালে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। সবগুলো আইনেই অপরাধীর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!