বুদ্ধ মাঘী পূর্ণিমায় মহাপরিনির্বাণের কথা ঘোষণা করেন।
একদা কৌশাম্বিবাসী ভিক্ষুদের কলহ মেটাতে ব্যর্থ হয়ে বৃদ্ধ নির্জন বনে আশ্রয় নেন। গহীন বনে বুদ্ধের প্রতি বন্য এক হাতির সেবায় উৎসাহিত হয় এক বানর। সে চেতনায় বানরটি মধু সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করলে বুদ্ধ খুব খুশি হন। মনের সুখে বানরটি গাছে গাছে লাফাতে গিয়ে হঠাৎ মাটিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করলে বুদ্ধ দিব্য চক্ষুতে দেখলেন বানরটি দেবলোকে পুনর্জন্ম নিয়েছে। এ ঘটনাটি ভাদ্র পূর্ণিমাতে ঘটেছে যেটির স্মৃতিতে বৌদ্ধরা এখন মধু পূর্ণিমা উদ্যাপন করে।
ঘটনা-১ আমরা পাঠ্যবইয়ের আষাঢ়ী পূর্ণিমার ইঙ্গিত বহন করে।
এ পূর্ণিমা তিথিতে সিদ্ধার্থ মাতৃজঠরে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন। এমনই এক আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে সংসারের ভোগবিলাস ত্যাগ করে দুঃখ মুক্তির অন্বেষণে তিনি গৃহত্যাগ করেন। বুদ্ধত্ব লাভের পর আরেক আষাঢ়ী তিথিতে তিনি বুদ্ধের মহৎ জীবনের স্মৃতিবিজড়িত এ আষাঢ়ী পূর্ণিমার সাথে আরও কিছু ধর্মীয় বিষয় যুক্ত আছে। তাই এটি বৌদ্ধদের কাছে বিশেষ স্মরণীয় ও বরণীয় তিথি। এদিন অনেকে বর্ষাব্রত পালন করেন, উপোসথ শীল গ্রহণ করেন, ধ্যান সমাধির চর্চা করেন।
হ্যাঁ, ঘটনা-২ 'প্রবারণা পূর্ণিমার প্রতিচ্ছবি'; এর সাথে আমি একমত।
আমাদের পাঠ্যবইয়ে আমরা পড়েছি যে, প্রবারণা পূর্ণিমা তিথির সঙ্গে, বুদ্ধের জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা জড়িত আছে। যেমন- এ পূর্ণিমা তিথিতেই বুদ্ধ মাতাকে এবং দেবতাদের অভিধর্ম দেশনা করে তাবতিংস স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে ফিরে এসেছিলেন। এ পূর্ণিমাতে ভিক্ষুদের ত্রৈমাত্রিক বর্ষাব্রত পালন শেষ হয়। এছাড়াও এদিকে বুদ্ধ কর্তৃক ভিক্ষুদের পর মঙ্গলের জন্য নির্দেশ দেওয়া, অভিধর্ম দেশনা করে তাবতিংস স্বর্গ থেকে বুদ্ধের প্রত্যাবর্তন প্রভৃতি নানা কারণে বৌদ্ধরা উৎসব পালন করে। এ আনন্দমুখর উৎসবে তারা ফানুস উড়ায়। পাঠ্যবইয়ের এ আলোচনার সাথে উদ্দীপকে আলোচনার যথেষ্ট মিল রয়েছে।
তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ঘটনা-২ প্রবারণা পূর্ণিমার প্রতিচ্ছবি'।
Related Question
View Allভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিকে মধু পূর্ণিমা বলা হয়।
বুদ্ধপূর্ণিমা বৈশাখ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের দিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সূত্র পাঠ ও বুদ্ধকীর্তনের মাধ্যমে প্রভাতফেরি করে উৎসবের সূচনা হয়। সকালে পূজা, সমবেত প্রার্থনা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করা হয়। দুপুর বারোটার আগে আহার সম্পন্ন করে বৌদ্ধবিহারে ধ্যান সমাধি করে। বিকাশে ধর্মসভা হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমার দিনই ফানুস উত্তোলন উৎসব হয়। সন্ধ্যায় প্রার্থনা ও প্রদীপ পূজার পর বৌদ্ধ বিহারে কিংবা বাড়ির উঠানে ফানুস উড়ানোর উৎসব শুরু হয়। নানারকম বাদ্য-বাজনার তালে তালে, সংকীর্তনের ঝংকারে নেচে গেয়ে বর্ণিল ফানুস আকাশে উড়ানো হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমার দিন বুদ্ধ ভিক্ষুদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, "ভিক্ষুগণ! বহুজনের মঙ্গলের জন্য হিতের জন্য তোমরা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়। প্রচার কর সেই ধর্ম, যে ধর্মের আদিতে কল্যাণ, মধ্যে কল্যাণ এবং অন্তে কল্যাণ।"
বৌদ্ধ আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবসমূহ চান্দ্রবছরের নিয়মে অনুষ্ঠিত হয়, সেগুলো ধর্মীয় তিথি বা পর্ব। যেমন- বুদ্ধপূর্ণিমা, মধু পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা প্রভৃতি। আর যে অনুষ্ঠানগুলো বছরের যে কোনো সময় করা যায়, সেগুলোকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বলা হয়।
যেমন- সঙ্ঘ দান, প্রব্রজ্যা, উপসম্পদা প্রভৃতি।
বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো প্রধানত পূর্ণিমাকেন্দ্রিক। প্রতিটি পূর্ণিমার সঙ্গে গৌতম বুদ্ধের জীবনের কোনো না কোনো স্মরণীয় ঘটনা রয়েছে। বুদ্ধের জীবনাদর্শ স্মরণ ও অনুশীলন করা এবং আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনাগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!