ঘ বিভাগ-নাটক

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

"Victory or death" সংলাপটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রক্তকরবী' নাটকের বিশু পাগলের।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

“ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়” – এই উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, যারা কাপুরুষ, দুর্বলমনা এবং প্রতারণাপরায়ণ, তাদের মধ্যে কোনো দৃঢ়তা বা সাহস থাকে না। বিপদের মুখোমুখি হলে অথবা কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লে তারা দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সহজে পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে চায়, কারণ তাদের মধ্যে নৈতিক শক্তি বা আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা অনুপস্থিত থাকে।

প্রতারক ও ভীতু ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যের ক্ষতি করতে দ্বিধা করে না এবং যেকোনো প্রতিকূলতা থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য সহজে পিছু হটে যায়। এরা কখনো সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে পারে না। তাদের এই পলায়নপর মনোভাব তাদের চারিত্রিক দুর্বলতা ও ভীরুতার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। উদ্দীপকে প্রজাপীড়ক জমিদারদের বিপরীতে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন থাকার বর্ণনা এই উক্তির বিপরীত চরিত্রের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রজাবান্ধব ও স্বাধীনতাপ্রিয় মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকেও একই রকম প্রজাঅন্তঃপ্রাণ এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় আপসহীন হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যদিও তার চারপাশের প্রতিকূল পরিস্থিতি তাকে পরাভূত করে।

উদ্দীপকের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র যেমন তৎকালীন অত্যাচারী জমিদারদের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন এবং দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে দৃঢ় ছিলেন, ঠিক তেমনি সিরাজউদ্দৌলাও তাঁর সভাসদদের বিশ্বাসঘাতকতা ও ইংরেজদের চক্রান্তের মুখে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একাগ্রভাবে চেষ্টা করেছেন। কৃষ্ণচন্দ্রের মতো সিরাজও তাঁর প্রজাদের কল্যাণে এবং মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর ছিলেন।

সুতরাং, উদ্দীপকের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রজাপীড়কদের বিপরীতে প্রজাবৎসল রূপ এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় আপসহীন মনোভাব 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় চরিত্রই নিজেদের দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের মঙ্গল সাধনে দৃঢ়চেতা ছিলেন, যদিও তাদের পরিণাম ভিন্ন ছিল।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন থাকার অর্থ হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় বা সমঝোতা না করা। এটি এমন একটি দৃঢ় মনোভাব যা জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়। উদ্দীপকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের চরিত্র এই আপসহীন মনোভাবের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে তিনি প্রজাবৎসল ও কোমল হৃদয়ের হওয়া সত্ত্বেও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ছিলেন অবিচল।

উদ্দীপকের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র যেমন দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় আপসহীন ছিলেন, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও নবাব সিরাজউদ্দৌলা তেমনি বিদেশি শক্তির আগ্রাসন ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তার কোমল হৃদয়ের পরিচয় পাওয়া যায় যখন তিনি শুরুতেই শত্রুদের ক্ষমা করে দেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাদের বিশ্বাসঘাতকতায় দেশের স্বাধীনতা যখন বিপন্ন হয়, তখন তিনি দৃঢ়চিত্তে এর মোকাবিলা করেন। পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ঘোষণা এবং ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে দেশের সুরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়া তার আপসহীন মনোভাবেরই পরিচায়ক।

তবে নাটকের প্রেক্ষাপটে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন থাকলেও তার চারপাশের কুচক্রী মহল, যেমন মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, জগৎশেঠ প্রমুখ ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দেশের স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে দ্বিধা করেনি। তাদের আপসকামিতা ও বিশ্বাসঘাতকতাই বাংলার স্বাধীনতার সূর্যকে প্রায় দুইশ বছরের জন্য অস্তমিত করেছিল। এদিক থেকে উদ্দীপকের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এবং সিরাজউদ্দৌলা উভয়ই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন চরিত্রের প্রতীক হলেও, সিরাজের পরিণতি হয়েছিল ভিন্ন, যা মূলত তার সহযোগীদের আপসকামিতার ফল।

সুতরাং, “স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন” কথাটি উদ্দীপকের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মাধ্যমে একটি আদর্শিক চরিত্রকে তুলে ধরে, যিনি সফলভাবে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরিত্র এই আপসহীনতার প্রতীক হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে অন্যান্য চরিত্রের আপসকামিতা কীভাবে দেশের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত তা বিলীন করে দেয়, সে বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নবাবের এই আপসহীন মনোভাবই তাকে একজন দেশপ্রেমিক শাসক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রেখেছে, যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম ছিল লুৎফুন্নেসা বেগম।
Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

"আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়" উক্তিটির মাধ্যমে ব্যক্তিজীবনে অসহনীয় চাপ, হতাশা ও সীমাহীন প্রতিবন্ধকতার এক নিদারুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর দ্বারা এমন এক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বোঝানো হয় যেখানে মানুষ নিজেকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ এবং মুক্তির সকল পথ রুদ্ধ অনুভব করে, যেন তার সত্তা অসংখ্য অদৃশ্য দেয়াল দ্বারা বেষ্টিত।

এই উক্তি মূলত ব্যক্তিজীবনের স্বাধীনতা হরণ, আকাঙ্ক্ষার অপূর্ণতা এবং মানসিক যন্ত্রণা প্রকাশ করে। এখানে 'দেয়াল' কেবল শারীরিক বাধা নয়, বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানসিক বা পারিপার্শ্বিক সকল প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে নির্দেশ করে যা একজন মানুষকে কোণঠাসা করে দেয় এবং তার স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করে দেয়, ফলে সে এক গভীর বিচ্ছিন্নতা ও হতাশার চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের সেলিম মিয়া 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। রহমান সাহেব বিশ্বাস করে তার সম্পত্তির দেখাশোনার ভার সেলিম মিয়াকে দিলে, সেলিম মিয়া সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করে। এটি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মতোই, যেখানে মীরজাফর নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি হয়েও তার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করেছিল।

নাটকের মীরজাফর ছিলেন একজন উচ্চাভিলাষী ও ক্ষমতালোভী ব্যক্তি। নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তিনি নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলার সিংহাসন দখল করা, যা ইংরেজদের প্রলোভনে আরও দৃঢ় হয়। মীরজাফর নবাবের সরল বিশ্বাস ও দেশের প্রতি তার কর্তব্যকে পদদলিত করে ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে যান এবং এর ফলস্বরূপ পলাশীর প্রান্তরে নবাবের পরাজয় ও দেশের স্বাধীনতা হারানোর প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

এই দিক থেকে, উদ্দীপকের সেলিম মিয়া রহমান সাহেবের বিশ্বাস ভঙ্গ করে তার জমিজমা নিজের নামে করে নেওয়ার মাধ্যমে যেমন নিজের স্বার্থসিদ্ধি করেছে, ঠিক তেমনি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মীরজাফরও নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছে। উভয়ের চরিত্রেই বিশ্বাসভঙ্গ, লোভ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য অন্যের ক্ষতি করার প্রবণতা সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়, যা তাদের সাদৃশ্যপূর্ণ করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

মানুষের জীবনে বিশ্বাস স্থাপন এক অপরিহার্য গুণ, কিন্তু বিচারহীন বা অন্ধবিশ্বাস প্রায়শই চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। যে বিশ্বাস যুক্তি ও বিচারবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, সেই অন্ধবিশ্বাস মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে এবং চূড়ান্তভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যটির যথার্থতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।

উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, রহমান সাহেব তার অঢেল সম্পত্তির দেখাশোনার ভার সেলিম মিয়ার মতো ভুল মানুষকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে তুলে দেন। তিনি তার বিশ্বাস যাচাই না করেই সেলিম মিয়ার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হন। এই অন্ধবিশ্বাসের ফলস্বরূপ একদিন তিনি আবিষ্কার করেন যে, তার সমস্ত সম্পত্তি সেলিম মিয়ার নামে হয়ে গেছে এবং তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন। রহমান সাহেবের এই পরিণতি প্রমাণ করে যে, অন্ধবিশ্বাস মানুষকে কীভাবে পথে বসিয়ে দেয় এবং তার জীবনকে চরম সংকটে ফেলে দেয়।

'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মূলে ছিল তাঁর কতিপয় সভাসদ ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি অন্ধবিশ্বাস। নাটকে দেখা যায়, নবাব মীরজাফর, ঘসেটি বেগম, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ প্রমুখের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত থাকলেও তাদের বারবার ক্ষমা করে দেন এবং তাদের প্রতি অন্ধবিশ্বাস স্থাপন করেন। বিশেষ করে মীরজাফরের প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাসই ছিল তার জন্য সবচেয়ে মারাত্মক। মীরজাফর নবাবের প্রধান সেনাপতি হয়েও বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলান এবং পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করেন। সিরাজউদ্দৌলার এই ভুল মানুষের প্রতি বিশ্বাস এবং তাদের ষড়যন্ত্র বুঝতে না পারার অক্ষমতা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তার এই করুণ পরিণতি শুধুমাত্র তার একার নয়, সমগ্র বাংলার স্বাধীনতারও পতন ডেকে আনে।

সুতরাং, উদ্দীপকের রহমান সাহেবের সম্পত্তি হারানোর ঘটনা এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ও তার করুণ পরিণতি—উভয় ক্ষেত্রেই অন্ধবিশ্বাসের ভয়াবহ ফলাফল অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে ফুটে উঠেছে। বিচারহীন বিশ্বাস বা অন্ধবিশ্বাস যে মানুষকে ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জীবনে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং পথে বসিয়ে দেয়, এই মন্তব্যটি উভয় প্রেক্ষাপটেই গভীরভাবে যথার্থ ও সত্য প্রমাণিত হয়।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
78

Related Question

View All
উত্তরঃ আমিনা বেগম

সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম ছিল আমিনা বেগম। তিনি ছিলেন নবাব আলীবর্দি খানের কনিষ্ঠ কন্যা এবং বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার মাতা। মির্জা মুহাম্মদ আলী (যিনি আলীবর্দি খান নামে পরিচিত) এবং শরফুন্নিসা বেগমের পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। নবাব আলীবর্দি খান তাঁর বড় ভাই ও প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলীর সাথে ষড়যন্ত্র করে এবং ইংরেজদের সহায়তায় সিংহাসন দখল করেন। আমিনা বেগম ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় সন্তান।

আমিনা বেগম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফরের হাতে কারারুদ্ধ হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাদেরকে মুর্শিদাবাদ থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় এক নৌকাডুবির ঘটনায় আমিনা বেগম ও তাঁর বোন ঘসেটি বেগম নিহত হন।

Satt AI
Satt AI
6 days ago
560
উত্তরঃ

“আমার নালিশ আজ আমার বিরুদ্ধে” – সৈয়দ শামসুল হকের কালজয়ী কাব্যনাট্য ‘নূরলদীনের সারাজীবন’-এর একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি। এটি মূলত আত্মানুসন্ধান, আত্মোপলব্ধি এবং গভীর অনুশোচনার বহিঃপ্রকাশ। এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে ব্যক্তি বা সমষ্টিগতভাবে নিজেদের ব্যর্থতা, নিষ্ক্রিয়তা বা অন্যায়ের প্রতিবাদ না করার দায় স্বীকার করা হয়েছে।

এর তাৎপর্য হলো, যখন কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে কোনো অন্যায়, শোষণ বা অবিচারের শিকার হয়, তখন এক পর্যায়ে তারা বুঝতে পারে যে তাদের এই বঞ্চনার জন্য শুধুমাত্র অত্যাচারী শাসক নয়, বরং তাদের নিজেদের নীরবতা, অনৈক্য এবং প্রতিবাদহীনতাও দায়ী। এই উক্তির মাধ্যমে সেই আত্ম-আবিষ্কারের যন্ত্রণা এবং দায়বদ্ধতার উপলব্ধি প্রকাশ পায়। এটি নিজের ভেতরের দুর্বলতা, ভীরুতা বা বিভেদকে চিহ্নিত করার একটি সাহসী পদক্ষেপ।

‘নূরলদীনের সারাজীবন’ কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি মূলত পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা ও আত্মবিস্মৃতির প্রতি ইঙ্গিত করে। এটি শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, লজ্জা এবং সেই সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্পকে তুলে ধরে। যখন নালিশ বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে না হয়ে নিজের বিরুদ্ধে হয়, তখন তা এক বিপ্লবী চেতনার জন্ম দেয়। কারণ, নিজের ভুল স্বীকার করার মাধ্যমেই পরিবর্তনের সূচনা হয় এবং আত্মশক্তির প্রকৃত জাগরণ ঘটে। তাই এই উক্তিটি আত্মশুদ্ধি ও ভবিষ্যতের পথচলার জন্য এক নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে, যা সমষ্টিগত মুক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে তোলে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
517
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের পটভূমিগত সাদৃশ্য অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। উদ্দীপকে বর্ণিত ইতিহাসের কুটিল বাঁক, বারুদের জয়ধ্বনি, বিশ্বাসঘাতকতা এবং প্রজাপুঞ্জের আর্তনাদ—এ সবই সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মূল পটভূমিকে প্রতিফলিত করে।

"ইতিহাস পথ নিলো কুটিল পদ্মার বাঁকে বাঁকে" এবং "বারুদে জোয়ার লাগে, পীতাঙ্গ গোঁয়ার বান ডাকে" পঙ্‌ক্তিগুলো অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার সেই রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ঔপনিবেশিক শক্তির (ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি) আগ্রাসী মনোভাবের প্রতি ইঙ্গিত করে, যা সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রধান উপজীব্য। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সময়কালে বাংলা অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদেশি বণিকদের ঔদ্ধত্যের কারণে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছিল, যেখানে বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের হুমকি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

এছাড়াও, "আর্তনাদ করে নিতে অগণিত প্রজাপুঞ্জ" সাধারণ মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে, যা নাটকেও প্রতিফলিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য হলো "বিশ্বাসঘাতক প্রভু নিয়েছে বিদায়" বাক্যটি, যা নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে মীরজাফর, ঘসেটি বেগম ও ইংরেজদের ষড়যন্ত্র এবং মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ও ক্ষমতাচ্যুতির ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্পষ্ট করে তোলে। উদ্দীপকের শেষ বাক্য "যে ক্লীব পালাবে তার মুক্তি নেই আর" যেন সিরাজের করুণ পরিণতি এবং বিশ্বাসঘাতকদের চূড়ান্ত বিচারে প্রকৃতির প্রতিশোধের ইঙ্গিত বহন করে, যা নাটকের ট্র্যাজিক পরিণতিতে পরিস্ফুট হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
431
উত্তরঃ

মীর জাফরের পুত্র মীর মীরনের নির্দেশে সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করা হয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
2k
উত্তরঃ

সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করে শওকত জঙ্গকে নবাব বানানোর ষড়যন্ত্রকারীরা মনে করত, তিনি দুর্বলচিত্ত ও বিলাসী হওয়ায় তাঁকে সহজেই হাতের পুতুল করে রাখা যাবে। এর ফলে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারবে এবং নবাবের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।

মীরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ প্রমুখ সিরাজবিরোধী শক্তি শওকত জঙ্গকে নবাব পদে বসিয়ে নিজেদের ক্ষমতা ও বিত্তের লোভ পূরণের সুযোগ দেখেছিল। তারা বিশ্বাস করত যে শওকত জঙ্গের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দেশীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারবে, যা তাদের সকল গোপন উদ্দেশ্য পূরণের মূল চাবিকাঠি ছিল।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.6k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews