বর্তমান বিশ্বের বহুল আলোচিত বিষয়ের মধ্যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব অন্যতম একটি বিষয়। 'চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলো আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচলিত উৎপাদন এবং শিল্প ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়করণের একটি চলমান প্রক্রিয়া।' আজকের যুগের ডিজিটাল বিপ্লব, যাকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শব্দটির উৎপত্তি ২০১১ সালে, জার্মান সরকারের একটি হাই টেক প্রকল্প থেকে। একে সর্বপ্রথম বৃহৎ পরিসরে তুলে নিয়ে আসেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান ক্লস শোয়াব ।
বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে শিল্পবিপ্লবের ফলে। বর্তমান বিশ্বও টিকে আছে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ওপর। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট তিনটি শিল্পবিপ্লব ঘটেছে। এ শিল্পবিপ্লবগুলো বদলে দিয়েছে সারা বিশ্বের গতিপথ, বিশ্ব অর্থনীতির গতিধারা। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মূলত তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিপ্লব। এ বিপ্লবের ফলে নানামুখী সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে দেশের সামগ্রিক চালচিত্রে। যেমনঃ অটোমেশনের প্রভাবে কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাস, উৎপাদন শিল্পে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে বড় পরিবর্তন, বিশেষায়িত পেশার চাহিদা বৃদ্ধি, সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। এ বিপ্লব অর্জনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তিতে অনেক ভালো করেছে এবং বর্তমান বিশ্বের আধুনিক সব তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে।
আগামীর প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতেও প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতকেই সমানভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও ই-গভর্নেন্স, সার্ভিস ডেলিভারি, পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ইমপ্লিমেনটেশন, তথ্যপ্রযুক্তি, বিকেন্দ্রীকরণ, নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা এবং এসডিজি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও প্রশাসনিক নীতি কৌশল নিয়ে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ক্লাউড সার্ভার, ইন্টারনেট অব থিংস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে ।
ডিজিটাল বাংলাদেশকে টেকসই করতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং উচ্চতর প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত যেমনঃ ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, অ্যাডভান্স টেকনোলজি, ইন্সট্রাকশনাল টেকনোলজি Robotics, IT / ITES, Cloud Computing, VLSI (Very-Large-Scal-Integration), Navigation (Vehicle), Hardware Navigation, Green technology, ই-কমার্স, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজমেন্ট, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজমেন্ট, সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের ব্যবস্থা করা হবে।
Related Question
View Allকম্পিউটারের মেমরি (Memory) ব্যবস্থায় RAM (Random Access Memory) এবং ROM (Read Only Memory) উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের মৌলিক প্রকৃতি ও কার্যকারিতার মধ্যে বেশ কিছু সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান, যা নিচে একটি সারণীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হলো:
| বৈশিষ্ট্য (Feature) | RAM (র্যাম) | ROM (রম) |
|---|---|---|
| পুরো নাম (Full Name) | Random Access Memory | Read Only Memory |
| প্রকৃতি (Nature) | এটি একটি Volatile (উদ্বায়ী) মেমরি। | এটি একটি Non-volatile (অনুদ্বায়ী) মেমরি। |
| ডেটা সংরক্ষণ (Data Storage) | অস্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণ করে। কম্পিউটার চালু থাকাকালীন ডেটা ও প্রোগ্রাম লোড করে। | স্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণ করে। গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম ফাইল ও ফার্মওয়্যার (Firmware) থাকে। |
| ডেটা পরিবর্তন (Data Modification) | ডেটা পড়া (Read) এবং লেখা (Write) উভয়ই করা যায়, অর্থাৎ ডেটা পরিবর্তনযোগ্য। | সাধারণত শুধু ডেটা পড়া যায়; ডেটা লেখা বা পরিবর্তন করা কঠিন বা বিশেষ পদ্ধতির প্রয়োজন। |
| গতি (Speed) | ROM-এর চেয়ে অনেক দ্রুত কাজ করে। | RAM-এর চেয়ে ধীর গতিসম্পন্ন। |
| বিদ্যুৎ চলে গেলে (Power Off) | বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে এতে সংরক্ষিত সমস্ত ডেটা হারিয়ে যায়। | বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেও এতে সংরক্ষিত ডেটা অক্ষত থাকে। |
| ব্যবহার (Usage) | অপারেটিং সিস্টেম (Operating System), অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম (Application Program) এবং বর্তমান কাজের ডেটা লোড করার জন্য ব্যবহৃত হয়। | কম্পিউটার চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় বুটস্ট্র্যাপ নির্দেশাবলী (Bootstrap Instructions) এবং বায়োস (BIOS) বা ইউইএফআই (UEFI) ফার্মওয়্যার সংরক্ষণ করে। |
| ক্ষমতা (Capacity) | সাধারণত GB (গিগাবাইট)-এর এককে পরিমাপ করা হয় (যেমন: 4GB, 8GB, 16GB)। | সাধারণত MB (মেগাবাইট)-এর এককে পরিমাপ করা হয় (যেমন: 4MB, 8MB, 16MB)। |
| উদাহরণ (Examples) | DRAM (Dynamic RAM), SRAM (Static RAM)। | PROM (Programmable ROM), EPROM (Erasable PROM), EEPROM (Electrically Erasable PROM)। |
সংক্ষেপে, RAM একটি দ্রুত, অস্থায়ী কার্যকারী মেমরি যা কম্পিউটারকে বর্তমান কাজগুলো সম্পাদন করতে সাহায্য করে, অন্যদিকে ROM একটি ধীর, স্থায়ী মেমরি যা কম্পিউটার চালু করার জন্য অপরিহার্য মৌলিক নির্দেশাবলী সংরক্ষণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!