'প্রেমনিবাস' হলো কুষ্ঠরোগীদের আবাসন।
বাংলাদেশে মাদার তেরেসার সেবামূলক কাজের বড় দৃষ্টান্ত হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
১৯৭১ সালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে বাঙালি ও বাংলার মানুষের জন্য তিনি সেবার হাত বাড়িয়ে দেন। এ ছাড়াও স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি প্রথম ঢাকায় আসেন এবং বাংলাদেশে শুরু করেন 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি'র কাজ। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় তেরেসার বয়স একাশি বছর। । তিনি সেই সময়ও বাংলাদেশে ছুটে আসেন সেবা দেওয়ার জন্য।
উদ্দীপকের পদ্মর সঙ্গে 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধের মাদার তেরেসার সাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষ হয়ে মানুষের জন্য কাজ করাই মানবতা। স্বতা। মানবতাবাদী মানবতাবাদী। মানুষেরা, সেবা দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তারা মানবসেবা করে সুখ লাভ করেন।
উদ্দীপকে সেবাপরায়ণ পদ্মবউয়ের কথা প্রকাশ পেয়েছে। যে তার কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত স্বামীর সেবা করে। কুষ্ঠরোগে চন্দ্রমশায়ের নাক ফুলে যায়, চোখের পাতা ঝুলে পড়ে, সাদা-কালো দাগে দেহের চামড়া ছেয়ে যায়। পদ্মবউ এসব যন্ত্রণা থেকে স্বামীকে মুক্ত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে। 'মাদার তেরেসা' রচনায়ও দেখা যায় মাদার তেরেসা কুষ্ঠরোগীদের আবাসন 'প্রেমনিবাস' প্রতিষ্ঠা করেন। অসুখটা ছোঁয়াচে ভেবে এবং রোগীর শরীরে ঘা হয় বলে সমাজের অনেকে কুষ্ঠরোগীকে পরিত্যাগ করে। মমতাময়ী মাদার তেরেসা নিজের হাতে তাদের সেবা করতেন। তাদের ঘা ধুয়ে যান করিয়ে দিতেন। মমতা ও সেবাপরায়ণতার দিক থেকে তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের পদ্মর সঙ্গে 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধের মাদার তেরেসার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সামগ্রিক বিষয় প্রকাশ করে না-মন্তব্যটি যথার্থ।
ভালো কাজ মানুষকে মহৎ করে। যুগে যুগে মানুষ পৃথিবীতে অন্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই মানুষেরা মানবিক। তাঁরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানবসন্তান।
উদ্দীপকে দেখা যায় পদ্মবউ তার কুষ্ঠরোগ আক্রান্ত স্বামীর সেবা-যত্ন করে। নিজের জীবনের কথা না ভেবে দিন-রাত স্বামীর সুস্থতার জন্য কাজ করে। তার মতো এই মানবিক ও মহৎ মানসিকতার অধিকারী 'মাদার তেরেসা' রচনার মাদার তেরেসা। তিনিও অসুস্থ মানুষের সেবা করেছেন। তাদের জন্য চিকিৎসা ও সেবাকেন্দ্র স্থাপন করেছেন। কুষ্ঠরোগীদের নিজের হাতে সেবা করতেন তিনি। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও যে বিষয়টি তার কর্মের মধ্যে প্রকাশ পায় তা হলো সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবমুক্তি ও মানুষকেই বড় করে দেখার বিষয়টি। এ ছাড়াও আলোচ্য রচনায় প্রকাশ পেয়েছে তাঁর বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মজীবন যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
উদ্দীপকে পদ্মবউয়ের সেবার মাধ্যমে যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো মানবিকতা ও সেবাপরায়ণতা। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও 'মাদার তেরেসা' রচনায় প্রকাশ পেয়েছে সাম্য, মনুষ্যত্ব, মানবমুক্তি ইত্যাদি বিষয়। এ বিষয়গুলো উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allসেবা কাজের জন্য মাদার তেরেসার প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ সম্মাননা হলো নোবেল পুরষ্কার।
বাংলার মানুষের প্রতি মাদার তেরেসার বিশেষ দরদ ছিল বলেই তিনি গাউন ছেড়ে বাঙালি নারীর পোশাক শাড়ি পরেছিলেন।
বাংলার মানুষের জন্য মাদার তেরেসার বিশেষ দরদ ছিল। বাংলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা মোচন ও তাদের সেবায় কাজ করার জন্য তিনি মনে মনে তাগিদ অনুভব করছিলেন। তাই বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে তিনি বাঙালির জীবনকে শান্তিতে ভরিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। বাংলার মানুষের জন্য তাঁর এ বিশেষ দরদ থেকেই তিনি গাউন ছেড়ে বাঙালি নারীর পোশাক শাড়ি পরেছিলেন।
উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের টাকা বাঁচানোর কাজটিতে মাদার তেরেসা নোবেল পুরষ্কারের অর্থ ক্ষুধার্ত মানুষকে দেওয়ার ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে।
মানুষের মহত্ত্ব আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তাঁদের অনুসরণে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রসর হই। সমাজে নিগৃহীত মানুষের প্রতি সবাই সাহায্যের হাত বাড়াই।
'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধে মাদার তেরেসার মহত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। সেবা কাজের সম্মাননাস্বরূপ প্রাপ্ত পুরষ্কারের অর্থ তিনি দান করেছেন গরিব-দুঃখীদের সেবার জন্য। আর নোবেল পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে যে ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছিল সেটা বাতিল করে ক্ষুধার্ত মানুষকে সেই অর্থ দেওয়া হয়। উদ্দীপকের রহিমা খাতুন তার নিজের ঈদের কেনাকাটা থেকে টাকা বাঁচিয়ে সবচেয়ে গরিব ও লেখাপড়ায় আগ্রহী মহিলাকে পুরষ্কার দেন। উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের টাকা বাঁচানো তাই মাদার তেরেসার ঘটনার প্রতিফলন মনে হয়।
"উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের চেয়ে মাদার তেরেসার সেবামূলক কাজের পরিধি ছিল ব্যাপক কিন্তু তাদের লক্ষ্য অভিন্ন।"- কথাটি যথার্থ হয়েছে।
ছোট ছোট উদ্যোগ থেকেই মানুষের কাজের পরিধি আরও ব্যাপক ও 'বিস্তৃত হয়। মহৎ মানুষেরা কালে কালে দেশে দেশে এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
উদ্দীপকের রহিমা খাতুন প্রতিবেশী নিরক্ষর মহিলাদের অক্ষরজ্ঞান দিতে শুরু করেন। বেতন ছাড়াই তিনি এ কাজ করেন। এছাড়া ঈদের কেনাকাটা থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে গরিব ও লেখাপড়ায় আগ্রহী মহিলাদের পুরষ্কার দেন। 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধের মাদার তেরেসা সেবার ব্রত নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তাঁর সেবা কোনো দেশ বা সমাজে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে পৃথিবীজুড়েই তাঁর সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের চেয়ে মাদার তেরেসার সেবামূলক কাজের পরিধি ব্যাপক হলেও উভয়ের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন। অতএব রলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য মাদার তেরেসা কর্তৃক স্থাপিত প্রতিষ্ঠানটির নাম 'নবজীবন আবাস'।
“ধর্মের ফারাক, দেশের ভিন্নতা, জাতির পার্থক্য মাদার তেরেসা কখনও বিবেচনায় নেননি।"- কারণ তিনি মানুষকেই সবচেয়ে বড় করে দেখেছিলেন।
মাদার তেরেসা ছিলেন একজন অসাধারণ মানবসেবী। যেখানে রোগ, শোক, দুঃখ-দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগের নির্মমতা সেখানে মাদার তেরেসা তাঁর সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গা, দেশ ও মানুষের মাঝে ছুটে গিয়েছেন তাদের বিপদ। তিনি দেশ, ধর্ম, জাতির পার্থক্য না করে সেবাকাজে মানুষকেই বড় করে দেখেছেন। মানুষকে ভালোবেসে তিনি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। তার কাছে জাত-ভেদ পার্থক্য ছিল না। তার কাছে মানুষের একমাত্র পরিচয় ছিল মানুষ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
