বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো সুসংবদ্ধ জ্ঞান আহরণ।
একটি সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দুই বা ততোধিক সামাজিক ঘটনা বা প্রপঞ্চের মধ্যে কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার পদ্ধতিকে সমাজ গবেষণায় ব্যবহৃত পরীক্ষণ পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়।
সমাজ গবেষণায় দুটি চলকের মধ্যকার সম্পর্কের রূপ-প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো কল্পনা, যাচাই বা পরীক্ষা করে দেখার জন্য পরীক্ষণ পদ্ধতির সাহায্য নেয়া হয়। এর একটি চলক হলো স্বাধীন, যার প্রভাব লক্ষ করা যায় আরেকটি নির্ভরশীল চলকের ওপর। যেমন- পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে স্বাধীন চলক এবং এর ফলে পরিবর্তনকে নির্ভরশীল চলক বলে আখ্যায়িত করা যায়।
উদ্দীপকের সাফোয়ানের মৃত্যুতে এমিল ডুখেইমের আত্মহত্যা তত্ত্বের প্রতিফলন দেখা যায়।
আত্মহত্যা তত্ত্ব এমিল ডুর্খেইমের সৃষ্টিকর্মের এক অনন্য সাধারণ বিষয়। এর মাধ্যমে তিনি সামাজিক ঘটনাবলিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ডুর্খেইম আত্মহত্যা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, প্রতিটি মৃত্যু যিনি মারা গেলেন তার দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পাদিত কাজ। সেটা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক হতে পারে। এরকম কোনো কাজের ফলশ্রুতিতে কেউ মারা গেলে সে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে। যেমন- কোনো ব্যক্তি যদি নিজের বুকে গুলি করে নিজেকে হত্যা করে তবে তা আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচিত হবে। ডুর্খেইম আত্মহত্যাকে তিনভাগে ভাগ করেছেন। যথা- আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা, পরার্থমূলক আত্মহত্যা এবং নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা। আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা সংঘটিত হয় সামাজিক অবচিতির ফলে। এ অবস্থার সৃষ্টি তখনই হতে পারে যখন ব্যক্তি, সমাজ ও জীবন থেকে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং ব্যক্তিস্বার্থ যখন সমাজে কল্যাণ চিন্তাকে ছাপিয়ে ওঠে। যেমন- প্রোটেস্ট্যান্টরা তাদের ধর্মীয় গোষ্ঠীর সাথে কম সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাদের মধ্যে ক্যাথলিকদের চেয়ে আত্মহত্যার হার বেশি। পরার্থমূলক আত্মহত্যা সংঘটিত হয় সমষ্টির ইচ্ছায়, সমাজের স্বার্থে। যেমন- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন। অন্যদিকে সমাজে যখন কোনো বিপর্যয় দেখা দেয়, তখন মানুষের মনে বিতৃষ্ণার সৃষ্টি হয়। এ বিতৃষ্ণা থেকে যে আত্মহত্যা সংঘটিত হয় তাই নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা। যেমন- যৌতুকের দাবিতে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার আত্মহত্যা।
উদ্দীপকের সাফোয়ান মাধ্যমিকের রেজাল্ট খারাপ করে সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করে। সাফোয়ানের এ আত্মহত্যাটি আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যাকে নির্দেশ করে, যা ডুর্খেইমের আত্মহত্যা তত্ত্বের অন্যতম দিক। তাই বলা যায়, সাফোয়ানের মৃত্যুতে ডুর্খেইমের আত্মহত্যা তত্ত্বের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক ও রক্ষণাবেক্ষণমূলক কাজের অভাবে সাফোয়ানের এমন পরিণতি বলে আমি মনে করি।
প্রতিটি পরিবারেরই একটি মনস্তাত্ত্বিক ভূমিকা রয়েছে। সন্তান- সন্ততি জন্মদান করেই পিতা-মাতার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সন্তানকে উপযুক্ত মানুষ করার জন্য স্নেহ-মমতা, আদর- যত্নসহকারে লালন-পালন করতে হয়। পরিবারের যে পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতায় একটি শিশু মানুষ হয় তা জীবনে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে। অনাদরে শিশুরা মানুষ হলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করে। ভবিষ্যতে বেপরোয়া জীবনযাপন করে এবং অপরাধপ্রবণ হয়।
শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জন্মের পর বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে সন্তানকে রক্ষার জন্য পরিবার নানা কাজ করে। তাছাড়া সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে কীভাবে চলাফেরা করছে, কাদের সাথে মেলামেশা করছে, সন্তান বিপথগামী হচ্ছে কি না- এসব দিকে লক্ষ রাখাও পরিবারের দায়িত্ব। কারণ পরিবার এসব রক্ষণাবেক্ষণমূলক কাজের মাধ্যমে সন্তানের নিরাপত্তা বিধান করে। কিন্তু উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সাফোয়ান বাবা-মার একমাত্র সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তাদের আদর-যত্ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা তার মনস্তাত্ত্বিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করেছে। আবার সন্তানের প্রতি পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণমূলক যে দায়িত্ব রয়েছে তা থেকেও সে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে সাফোয়ানের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করেছে বলেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
পরিশেষে বলা যায়, পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক ও রক্ষণাবেক্ষণমূলক ভূমিকার অভাবেই সাফোয়ানের এমন পরিণতি হয়েছে।
Related Question
View Allনৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত সূক্ষ্ম অনুভূতি।
আদিম সমাজে মানুষে মানুষে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। আদিম সমাজে সংহতি ও সম্প্রীতিবোধ ছিল দৃঢ়। ঐ সময় সংগৃহীত খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য জিনিসপত্র জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দান ও উপহার হিসেবে লেনদেন চলত। জিনিসপত্র ক্রয় বা সঞ্চয় করে রাখার মন- মানসিকতা মানুষের মধ্যে গড়ে উঠে নি। এ ধরনের লেনদেন। সমাজের সংহতি রক্ষায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে মানিকের কাজের মধ্যে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরিবারের ভরণপোষণ করার জন্য আয় ও উৎপাদন করতে হয় এবং তা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। আয়ের কিছু অংশ দুর্দিনের জন্য জমা করেও রাখা হয়। জীবন বিমা, শিল্পে লগ্নি, ব্যবসা, জমি ক্রয় অথবা চাকরি ইত্যাদি যেভাবেই হোক, কিছু না কিছু সঞ্চয় করতেই হয়। এসব আয় ব্যয় ও সঞ্চয় মূলত পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। মানিক সংসারের অর্থ উপার্জনের জন্য একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করে। আর এ কাজ পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
তাই বলা যায়, মানিকের কাজে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থাৎ বিবাহ ও পরিবার সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত।
মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করে।
সমাজবিজ্ঞানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো পরিবার সমাজবিজ্ঞান। পরিবারের উৎপত্তি, বিবর্তন, বিকাশ, ধরন, পরিবর্তনশীল পরিবারের কার্যাবলি ও পরিবারের সমস্যা সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানের এ শাখায় আলোচনা করা হয়। তাছাড়া পরিবার গঠিত হওয়ার মূল ভিত্তি বিবাহ নিয়েও সমাজবিজ্ঞানের এ শাখা আলোচনা করে। বিবাহ সম্পর্কিত আলোচনায় স্থান, কাল ও পাত্রভেদে বিবাহের ধরন, প্রকৃতি, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয় প্রাধান্য লাভ করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, বিবাহ ও পরিবার নিশ্চিতভাবেই সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো সুসংবদ্ধ জ্ঞান আহরণ।
একটি সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দুই বা ততোধিক সামাজিক ঘটনা বা প্রপঞ্চের মধ্যে কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার পদ্ধতিকে সমাজ গবেষণায় ব্যবহৃত পরীক্ষণ পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়।
সমাজ গবেষণায় দুটি চলকের মধ্যকার সম্পর্কের রূপ-প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো কল্পনা, যাচাই বা পরীক্ষা করে দেখার জন্য পরীক্ষণ পদ্ধতির সাহায্য নেয়া হয়। এর একটি চলক হলো স্বাধীন, যার প্রভাব লক্ষ করা যায় আরেকটি নির্ভরশীল চলকের ওপর। যেমন- পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে স্বাধীন চলক এবং এর ফলে পরিবর্তনকে নির্ভরশীল চলক বলে আখ্যায়িত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!