চাকার চলে যাওয়া অভিরামের জীবন নাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
'কাকতাড়ুয়া' গল্পের অভিরাম একজন বিশ্বস্ত চাকর। সে খ্যাতনামা সাহিত্যিক মৃগাঙ্কবাবুদের বাড়িতে কাজ করত। বিশ বছর সে বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করেছে। একদিন মৃগাঙ্কবাবুর বিয়েতে পাওয়া স্বর্ণের ঘড়িটি হারিয়ে যায়। সকলে অভিরামকে সন্দেহ করে এবং ওঝা ডেকে কুলোয় চাল ছুড়ে প্রমাণ করে দেয় যে, সেই চোর। চুরির অপবাদে অভিরামের চাকরি চলে যায়। তারপর আর সে কোথাও কাজ করেনি। কারণ তার কঠিন রোগ হয়। তার টাকা-পয়সাও ছিল না। উদুরি রোগে ভুগতে থাকে সে। ঔষধ-পথ্য জোগাড় করার সামর্থ্য ছিল না তার। সেই পেটের পীড়ায় ভুগেই মারা যায় সে। মৃত্যুর অনেকদিন পর প্রমাণিত হয় সে চোর ছিল না। কেননা ঘড়িটি আলমারি খোলার সময় নিচে পড়ে গিয়েছিল। ফলে বিনা অপরাধে বিনা চিকিৎসায় ভুগে মরতে হয় অভিরামকে।
Related Question
View All'কাকতাড়ুয়া' গল্পের চরিত্রগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো-
'কাকতাড়ুয়া' গল্পের প্রধান চরিত্র মৃগাঙ্কবাবু। তিনি খ্যাতনামা সাহিত্যিক। বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা বের হয়। সম্প্রতি তাকে দুর্গাপুর ক্লাব থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা নিয়ে ফেরার পথে তিনি পুরোনো দিনের একটি সত্যও উদ্ঘাটন করেন। পূর্বতন চাকর অভিরামকে তারা চুরির দায়ে বাড়ি থেকে বের করে দিলেও অভিরাম ছিল নির্দোষ। বিশেষ মুহূর্তে বিশেষ পরিবেশে অবচেতনে তিনি এই সত্যের সন্ধান পেয়েছেন। তিনি অনুশোচনাদগ্ধ হয়েছেন এই ঘটনা থেকে। ভবিষ্যতে কোনো জিনিস হারানো গেলে তিনি আর এমন কুসংস্কারের আশ্রয় নেবেন না বলে শপথ করেছেন।
'কাকতাড়ুয়া' গল্পের বিশ্বস্ত চরিত্র অভিরাম। সে মৃগাঙ্কবাবুর বাড়ির পুরাতন চাকর। বিশ বছর পর্যন্ত সে খুবই বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু মৃগাঙ্কবাবুর বিয়েতে পাওয়া স্বর্ণের ঘড়ি খুঁজে না পেয়ে সবাই অভিরামকে সন্দেহ করে। এক প্রকার বিনা অপরাধে চুরির দায়ে চাকরি চলে যায় তার। চাকরি হারিয়ে উদুরি রোগে আক্রান্ত হয় সে। শেষমেশ বিনা চিকিৎসায় রোগে ভুগে মরতে হয় তাকে।
'কাকতাড়ুয়া' গল্পের মৃগাঙ্কবাবুর বাবা অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ। তিনি তার বিশ বছরের পুরোনো চাকরকে ঘড়ি চুরির দায়ে সন্দেহ করেন। অভিরাম অস্বীকার করলেও তিনি তা মেনে নেন না। চোর শনাক্ত করার জন্য তিনি ওঝা ডেকে নিয়ে আসেন। ওঝা কুলোয় চাল ছুড়ে দিয়ে অভিরামকে চোর প্রমাণ করলে তিনি তা বিশ্বাস করে অভিরামকে চাকরিচ্যুত করেন।
'কাকতাড়ুয়া' গল্পের মৃগাঙ্কবাবুর নতুন চাকর সুধীর। সে বেখেয়ালি। গাড়ির পেট্রোল পরীক্ষা করতে বললেও সে তার করেনি। ফলে মাঝ পথে গাড়ি বন্ধ হয়ে গিয়ে যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে। তাছাড়া সুধীর দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে না। ঘরদোর ঠিকমতো ঝাড় দেয় না। মৃগাঙ্কবাবুর অবচেতনে অভিরাম এসে বলেছে সুধীর ঠিকমতো ঘর ঝাড়ু দিলে অনেক আগেই স্বর্ণের ঘড়ি পাওয়া যেত। সে আলমারির নিচে কখনো ঝাড়ু দেয় না। তাই বলা যায়, সুধীর চরিত্রটি তার দায়িত্বে অবহেলা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!