"চারদিকে সীমাহীন অন্ধকার"- উদ্ধৃতিতে মীর আলির বার্ধক্যজনিত অন্ধত্ব প্রকাশ পেয়েছে। '১৯৭১' উপন্যাসে বর্ণিত, মীর আলি চরিত্রটি চোখে দেখে না। তার বয়স প্রায় সত্তর বছর।
আগে আবছা আবছা দেখতে পেত। দুপুরের রোদের দিকে তাকালে হলুদ কিছু ভাসত চোখে। দুই বছর ধরে তা-ও দেখতে পায় না। তাই তার চারদিকে সীমাহীন অন্ধকার। বয়সের ভারে তার এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ বয়সে অনেকেরই চোখ-কান নষ্ট হতে থাকে। পৃথিবী শব্দহীন, বর্ণহীন হতে থাকে। মীর আলির কান অবশ্য ভালো আছে। কিন্তু আজকাল তার শব্দও সহ্য হয় না। সবচেয়ে বড় যন্ত্রণার বিষয় হলো আজকাল প্রায়ই তার রাতদুপুরে বাইরে যেতে হয়। একা একা সে চলতে পারে না। ছেলে বদিউজ্জামান অথবা পুত্রবধূ অনুফার সাহায্য নিতে হয় তাকে। অন্যের ওপর নির্ভরশীল বার্ধক্যজীবনের নানামাত্রিক সমস্যাকে লেখক মীর আলির চারদিকে সীমাহীন অন্ধকারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। একই সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে সমস্যাবহুল পরনির্ভরশীল অনিশ্চিত জীবনের প্রতীক।
Related Question
View All"মানুষকে এভাবে লজ্জা দেওয়ার অর্থ হয় না"- উক্তিটি মেজর এজাজ আহমেদকে উদ্দেশ্য করে রফিক বলেছে।
মেজর এজাজ আহমেদের বাঙালি দোসর রফিক দোভাষীর কাজ করে। শুরু থেকে পাক মেজর এজাজ আহমেদের সব কাজ রফিক বিশ্বস্ততার সঙ্গে করে এসেছে। তবে বাঙালিদের প্রতি রফিকের মমত্ববোধ রয়েছে।
আজিজ মাস্টারকে মিলিটারি হেফাজতে নিয়ে এলে রফিক তাকে এজাজ আহমেদের প্রশ্নের সত্য উত্তর দিতে বলে। রফিক বুঝতে পারে আজিজ মাস্টার সম্পূর্ণ নির্দোষ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেননা আজিজ মাস্টার এই গ্রামের লোক নয়। চাকরিসূত্রে তার নীলগঞ্জে বসবাস। তাই এই এলাকায় কোনো সামষ্টিক সিদ্ধান্তে তার অন্তর্ভুক্তি প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া আজিজ মাস্টার আত্মভোলা মধ্যবিত্ত কবি মানুষ। প্রকৃতি বিচারেও সে অনেক ভীতু প্রকৃতির। ফলে তার পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের খবর জানা সম্ভব নয়।
মেজর এজাজ আহমেদ সন্দেহের বশে আজিজ মাস্টারকে ধরে আনেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস, আজিজ মাস্টারের সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর কোনো না কোনো যোগসূত্র আছে। তাই তিনি প্রথমে ভালো ব্যবহার, আদর-আপ্যায়নের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে চান। তাতে কোনো ফল না পাওয়া গেলে চোখের সামনে মৃত্যু দেখিয়ে কথা বের করার চেষ্টা করেন। এই চেষ্টাও ব্যর্থ হলে মেজর এজাজ আজিজ মাস্টারকে চরম অবমাননাকার শাস্তি দেন। এতে রফিক প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।
মেজর এজাজের সঙ্গে কাজ করলেও জাতিগত দিক থেকে রফিক বাঙালি। বাঙালি জাতির কারও' এমন অবমাননা সব বাঙালির আত্মসম্মানের প্রশ্ন। ফলে রফিক মেজর এজাজের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। নিজের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে বলে ওঠে, "মানুষকে এভাবে লজ্জা দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।" রফিক জানে মেজর এজাজের বিরুদ্ধাচার করা মানে নিজের প্রাণ সংশয়। তবু সে স্বজাতির অপমান মেনে নিতে পারেনি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!