নীলগঞ্জ গ্রামে হঠাৎ পাকিস্তানি মিলিটারি প্রবেশ করলে গ্রামের সকলেই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। সবার মধ্যে আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কেননা কেউই ভাবেনি যে গ্রামে কখনো মিলিটারি আসবে। চার-পাঁচজন মুসল্লি মাগরিবের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যায়। আজানের পরপরই কয়েকটি গুলির শব্দ হওয়ায় তারা নামাজ না পড়েই ফিরে যেতে চায়। কাজটা ঠিক হবে না ভেবে তারা পুনরায় ফিরে আসে এবং মাগরিবের নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তারা মিলিটারি দেখে। তাই ভয়ে তারা মসজিদেই রাত কাটায়।
Related Question
View All"পাকিস্তানিদের ব্যাপারে গ্রামের মানুষের বিশ্বাস ভিত্তিহীন"-মন্তব্যটি যৌক্তিক। '১৯৭১' উপন্যাসে দেখা যায়, নীলগঞ্জ গ্রামে পাকিস্তানি মিলিটারি প্রবেশ করলে গ্রামের মানুষগুলো ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত এ হানাদার বাহিনীর প্রতি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ভীত হলেও তাদের মধ্যে কিছু মানুষ আবার ইতিবাচক বিশ্বাসও ধারণ করে। তারা মনে করে যেহেতু তারা কোনো অন্যায় করেনি সেহেতু পাকিস্তানি বাহিনী তাদের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে তাদের এমন বিশ্বাস ভেঙে যায়।
বদিউজ্জামান মনে করে, মিলিটারিরাও আল্লাহর বান্দা, তারাও তো মানুষ। তাদের রক্ত একটু গরম আর পোশাকটাই ওই রকম। তাই বদি মনে করে, এটা দোষের কিছুই নয়। অথচ এই মিলিটারি থেকে নিজের প্রাণ রক্ষা করার জন্য সে পাগলের মতো দৌড়েছে, জঙ্গলে লুকিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে, গুলির আওয়াজ শুনে ভয়ে অস্থির হয়েছে।
মিলিটারিরা গ্রামে এসে স্কুলঘরে অবস্থান করলে জয়নাল মিয়া মনে করে ওরা মুসলমানদের কোনো ক্ষতি করবে না। তারা মনে করে তাদের কোনো ক্ষতি করার প্রশ্নই ওঠে না। কেননা তারা মিলিটারির কোনো ক্ষতিই করেনি।
ঝড়ের সময় মিলিটারি সুবাদার ও রাজাকার মিলে সফদরউল্লাহর ঘরে ঢুকে তার স্ত্রী ও শ্যালিকার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। তাদের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়। অথচ জয়নাল মিয়া সফদরউল্লাহকে বলেছিলেন মুসলমান মেয়েদের কোনো ভয় নেই। মুসলমানদের শরীরে নাকি এরা হাত দেয় না।
মেজর এজাজের কথাবার্তায়ও মানুষগুলোর এমন বিশ্বাস ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। তিনি মনে করেন, মুসলমানরা যদি মন্দিরে ঢুকে মূর্তিকে প্রণামও করে তবুও নাকি তিনি কিছুমাত্র অবাক হবেন না। আবার মেজর এজাজের নির্দেশেই ইমাম ও আজিজ মাস্টারকে শারীরিক নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়। ফলে মিলিটারিদের এমন নৃশংস আচরণগুলোর ভিত্তিতে নিঃসন্দেহে বলা যায়, "পাকিস্তানিদের ব্যাপারে গ্রামের মানুষের বিশ্বাস ভিত্তিহীন।"-মন্তব্যটি যৌক্তিক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!