চার সন্তানের জনক দুলুমিয়া ছোট মুদি দোকানদার। দোকান দিয়ে তার সংসার ভালো না চলায় সে দোকানের পাশাপাশি একটি এন. জি. ওতে নাইট গার্ডের চাকরি নেয়। সারারাত তাকে ঘন্টায় ঘন্টায় বাঁশী বাজাতে হয় ও চলাফেরা করতে হয়। চোর-ডাকাতের ভয় তাকে তাড়া করে। একবার ডাকাতেরা তাকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রেখে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। 

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

'আলোর স্পর্শে কবে কেটে যাবে এই দুঃখের কাল' পঙক্তিটি দ্বারা জীবনের দুঃখ, কষ্ট ও হতাশার অন্ধকার সময় পেরিয়ে আলোর আগমন বা সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। এটি বিদ্যমান প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে মুক্তির তীব্র আকুতি এবং একটি সুন্দর ও আনন্দময় দিনের প্রত্যাশাকে নির্দেশ করে।

এখানে 'আলোর স্পর্শ' বলতে ইতিবাচক পরিবর্তন, সংকট থেকে মুক্তি, সুদিন বা কল্যাণকে বোঝানো হয়েছে। আর 'দুঃখের কাল' বলতে বোঝানো হয়েছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, অভাব-অনটন ও মানসিক যন্ত্রণা। পঙক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, একসময় এই কষ্টদায়ক পরিস্থিতি শেষ হবে এবং জীবনে আশার আলো আসবে।

Satt AI
Satt AI
2 days ago
উত্তরঃ

দায়িত্বশীলতা মানবজীবনের এক মহৎ গুণ। ব্যক্তি ও সমাজের প্রতি মানুষের অঙ্গীকারবদ্ধতার নামই দায়িত্বশীলতা। উদ্দীপকের দুলু মিয়া এবং 'রানার' কবিতার রানার উভয়ই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত দায়িত্বশীল। তবে তাদের দায়িত্বশীলতার পরিধি, প্রেক্ষাপট এবং গভীরতার মধ্যে ভিন্নতা বিদ্যমান, যা বিচার করে দেখা প্রয়োজন।

উদ্দীপকের দুলু মিয়া একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। চার সন্তানের জনক এই মুদি দোকানদার শুধুমাত্র নিজ পরিবারের আর্থিক সংস্থান নিশ্চিত করার জন্য কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তার ছোট মুদি দোকানের আয় দিয়ে সংসার না চলায় তিনি রাতে নাইট গার্ডের চাকরি নেন। সারারাত জেগে বাঁশী বাজানো, চলাফেরা করা এবং চোর-ডাকাতের ভয় মোকাবিলা করা নিঃসন্দেহে এক দুরূহ কাজ। একবার ডাকাতদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মারধর ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা সত্ত্বেও তিনি তার দায়িত্ব ত্যাগ করেননি। দুলু মিয়ার এই নিরন্তর সংগ্রাম মূলত তার পরিবারের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধের পরিচায়ক, যা তার ব্যক্তিগত আর্থিক সংকট থেকে উদ্ভূত এবং পরিবারকে রক্ষা করার জন্য একান্ত বাধ্যবাধকতার ফল।

অন্যদিকে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'রানার' কবিতার রানার এক প্রতীকী চরিত্র, যিনি রাতের আঁধারে জীবন হাতে নিয়ে ছুটে চলেন দেশ ও মানুষের সেবায়। রানার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সংবাদ বহন করেন, জন্ম-মৃত্যু, আনন্দ-বেদনার খবর পৌঁছে দেন ঘরে ঘরে। তার এই কাজ কেবল একটি চাকরি নয়, বরং সমাজের প্রতি এক বৃহত্তর অঙ্গীকার। সে নিজের ঘুম, ক্ষুধা, ভয় সবকিছু বিসর্জন দিয়ে কেবল মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য অবিরাম দৌড়ায়। তার কোনো ব্যক্তিগত লাভ বা বাধ্যবাধকতা নেই, যা তার এই কাজকে চালিত করে। রানারের দায়িত্ববোধ ব্যক্তিগত জীবনের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এক সামাজিক সেবামূলক মহান ব্রতে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে সে তার নিজের সুখ-দুঃখের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতাকে সেবা করে চলে।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, দুলু মিয়ার দায়িত্বশীলতা পরিবারের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও আর্থিক সংকটের ফলস্বরূপ। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় হলেও এর পরিধি মূলত ব্যক্তিগত জীবনের প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ। পক্ষান্তরে, 'রানার' কবিতার রানারের দায়িত্বশীলতা দেশ, সমাজ ও মানবতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। তার দায়িত্ব পালনের পেছনের অনুপ্রেরণা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে এক মহৎ আত্মত্যাগ। তাই, "উদ্দীপকের দুলু মিয়ার চেয়ে 'রানার' কবিতার রানার অধিকতর দায়িত্বশীল" – মন্তব্যটি যথার্থ এবং বিচারসিদ্ধ। রানার তার কর্মের মাধ্যমে যে নিঃস্বার্থ সেবা ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা তাকে অধিকতর দায়িত্বশীলতার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
108

রানার ছুটেছে তাই ঝুম্‌ঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে

রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে,

রানার চলেছে, রানার!

রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার ।

দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার -

কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার ।

রানার ! রানার !

জানা-অজানার

বোঝা আজ তার কাঁধে,

বোঝাই জাহাজ রানার চলেছে চিঠি আর সংবাদে;

রানার চলেছে, বুঝি ভোর হয় হয়,

আরো জোরে, আরো জোরে, এ রানার দুর্বার দুর্জয়।

তার জীবনের স্বপ্নের মতো পিছে সরে যায় বন,

আরো পথ, আরো পথ – বুঝি হয় লাল ও পূর্ব কোণ ।

অবাক রাতের তারারা, আকাশে মিটমিট করে চায়;

কেমন করে এ রানার সবেগে হরিণের মতো যায়!

কত গ্রাম কত পথ যায় সরে সরে -

শহরে রানার যাবেই পৌঁছে ভোরে;

হাতে লণ্ঠন করে ঠনঠন, জোনাকিরা দেয় আলো

মাভৈঃ রানার ! এখনো রাতের কালো ।

এমনি করেই জীবনের বহু বছরকে পিছু ফেলে,

পৃথিবীর বোঝা ক্ষুধিত রানার পৌঁছে দিয়েছে ‘মেলে'।

ক্লান্তশ্বাস ছুঁয়েছে আকাশ, মাটি ভিজে গেছে ঘামে

জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে ।

অনেক দুঃখে, বহু বেদনায়, অভিমানে, অনুরাগে,

ঘরে তার প্রিয়া একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে ।

রানার! রানার!

এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে?

রাত শেষ হয়ে সূর্য উঠবে কবে?

ঘরেতে অভাব; পৃথিবীটা তাই মনে হয় কালো ধোঁয়া,

পিঠেতে টাকার বোঝা, তবু এই টাকাকে যাবে না ছোঁয়া,

রাত নির্জন, পথে কত ভয়, তবুও রানার ছোটে,

দস্যুর ভয়, তারো চেয়ে ভয় কখন সূর্য ওঠে ।

কত চিঠি লেখে লোকে-

কত সুখে, প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, কত দুঃখে ও শোকে ।

এর দুঃখের চিঠি পড়বে না জানি কেউ কোনো দিনও,

এর জীবনের দুঃখ কেবল জানবে পথের তৃণ,

এর দুঃখের কথা জানবে না কেউ শহরে ও গ্রামে,

এর কথা ঢাকা পড়ে থাকবেই কালো রাত্রির খামে।

দরদে তারার চোখ কাঁপে মিটিমিটি,-

এ-কে যে ভোরের আকাশ পাঠাবে সহানুভূতির চিঠি-

রানার! রানার! কী হবে এ বোঝা বয়ে?

কী হবে ক্ষুধার ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে?

রানার! রানার! ভোর তো হয়েছে – আকাশ হয়েছে লাল

আলোর স্পর্শে কবে কেটে যাবে এই দুঃখের কাল?

রানার! গ্রামের রানার!

সময় হয়েছে নতুন খবর আনার;

শপথের চিঠি নিয়ে চলো আজ
              ভীরুতা পিছনে ফেলে -

পৌঁছে দাও এ নতুন খবর,

              অগ্রগতির ‘মেলে’,

দেখা দেবে বুঝি প্রভাত এখুনি-

             নেই, দেরি নেই আর,

ছুটে চলো, ছুটে চলো, আরো বেগে

                  দুর্দম, হে রানার ॥

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews