লালদিঘির পাড় পাহাড়ের গায়ে হাত বুলায়।
দিঘির কালো জলেরা রক্তজবার ঝোঁপের কাছে কাব্য হওয়ার কথা বলেছিল।
কবি যখন গভীর রাতে প্রকৃতির সঙ্গে কল্পনায় হারিয়ে যান, তখন তিনি দেখেন প্রকৃতিও তাঁকে সঙ্গ দিতে প্রস্তুত। তারা তাঁকে কলকলিয়ে এসে বলে যে তারাও না-ঘুমানোর দল। তারা কবির পকেট থেকে পদ্য লেখার ভাঁজ খুলতে বলে, তারা সবাই মিলে রক্তজবার ঝোঁপে কাব্য রচনা করতে চায়।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতার প্রকৃতিকে নিয়ে কল্পনার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রকৃতি মানুষের স্বস্তির সবচেয়ে বড় স্থান। মানুষ একটু স্বস্তির জন্য প্রকৃতির আশ্রয় নেয় আর মানুষের সেই স্বস্তি ফেরানোর জন্য প্রকৃতি তার সমস্ত সৌন্দর্য ঢেলে দেয়। এ কারণে মানুষ সবকিছু থেকে বিতাড়িত হলেও প্রকৃতি তাকে কখনো ফেরায় না।
উদ্দীপকে প্রকৃতিকে নিয়ে অনেক রকম কল্পনা করতে দেখা যায়। নিজের কল্পনার তুলিতে প্রকৃতিকে অন্যভাবে আবিষ্কার করা হয়েছে। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায়ও করি প্রকৃতির রূপকে নিজের কল্পনায় এনে 'দিয়েছেন ভিন্ন রূপ। কোথাও চাঁদকে ডাবের মতো, আবার মিনারকে দেখা যাচ্ছে মানুষের মত্যে। তাই বলা যায়, কল্পনার দিক থেকে উদ্দীপক এবং কবিতার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটিই কবিতার মূল বিষয়বস্তু- মন্তব্যটি সম্পর্কে আমি একমত।
প্রকৃতি মানুষের পরম বন্ধু। প্রকৃতির সাহায্য ছাড়া মানুষ চলতে পারে না একদমই। মানুষের সার্বিক বিকাশে প্রকৃতির অবদান অপরিসীম। মানুষের চলার পথের সঙ্গী হলো প্রকৃতি।
উদ্দীপকে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, ভালো লাগা ফুটে উঠেছে। এই অনুভূতি থেকেই প্রকৃতি নিয়ে কল্পনাবিলাসিতা প্রকাশ পেয়েছে। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবি প্রকৃতি নিয়ে কল্পনাবিলাসে মত্ত হয়েছেন। হারিয়ে গেছেন প্রকৃতির মাঝে তার সৌন্দর্যময়তায়। কবির প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার অনুভূতিই তাকে এই কল্পনায় উদ্বুদ্ধ করেছে।
উদ্দীপকের মূল বিষয় হলো প্রকৃতির প্রতি কবির ভালোবাসা যা আলোচ্য কবিতারও মূল বিষয়। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্য সম্পর্কে আমি একমত।
Related Question
View Allআমার পঠিত 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় রক্তজবার ঝোপের কাছে আজ কাব্য হবে।
করি আল মাহমুদের দৃষ্টিতে প্রকৃতির সাথে মানুষের পরম আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান।
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবির নিসর্গপ্রেম গভীর মমত্বের সঙ্গে ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। কবির দৃষ্টিতে প্রকৃতি যেন মানুষের পরম আত্মীয়।
কবিতাংশ দুটিতে পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ ফুটে উঠেছে।
প্রকৃতির বিচিত্র রূপ পরিলক্ষিত হয় এই পৃথিবীতে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুভব করে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষের মনকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে কবি পরম মমতায় পল্লি-প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে লালদিঘির পাড় ঘেঁষেই পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। তার একটু সামনে এগুলেই থোকায় থোকায় জোনাক পোকা দেখা যায়। আর দিঘির কালো জল যেন কলকলিয়ে কবির সঙ্গে কথা বলে। উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের কবিতাংশেও পল্লি-প্রকৃতির রূপ ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায় বাঁশবাগান, তার মাঝখান দিয়ে আধখানা চাঁদ ঝুলে রয়েছে। ঝোপঝাড়ে জোনাকিরা আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ায়।
'কবিতাংশ দুটিতে কবিদ্বয়ের নিসর্গ-প্রেম ফুটে উঠেছে'-উক্তিটি যথার্থ।
প্রকৃতির আশ্রয়ে মানুষ বেড়ে ওঠে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষকে সাহায্য করে। কখনো আনন্দের কখনো দুঃখের সাথি হয় প্রকৃতি। আবার নতুন কোনো কাজের উৎসাহও মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকে পেয়ে থাকে।
উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে কবি পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ সযত্নে বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতির প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকেই কবি প্রকৃতির - রূপ উপস্থাপন করেছেন। লালদিঘির পাড়ে পাহাড়, জোনাক পোকার দল, দিঘির কালো জলের শব্দ- সবকিছু প্রকাশেই কবির নিসর্গপ্রেম ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও কবি' নিসর্গের বর্ণনা দিয়েছেন। বাঁশবাগান, চাঁদ, জোনাক পোকার আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ানো এগুলো কবির নিসর্গপ্রেমকেই প্রকাশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশ দুটিতে কবিদ্বয়ের নিসর্গপ্রেম ফুটে উঠেছে। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কবি 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় নিসর্গপ্রেম বলতে প্রকৃতির প্রতি তাঁর মমত্ব ও প্রেমের কথা বুঝিয়েছেন।
বাংলাদেশের লোকজ জীবন ও পল্লিপ্রকৃতি আল মাহমুদের কবিতার প্রাণ। পল্লির স্নিগ্ধ-শ্যামল রূপ তাঁর কবিতায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবির এই নিসর্গপ্রেমের প্রগাঢ় পরিচয় পাওয়া যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!