মোগল আমলে ঢাকার নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর।
ছাত্ররাই পাকিস্তানের সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করত বলে তারাই প্রথম গুলির শিকার হয়েছিল।
ছাত্ররা স্বাভাবিকভাবেই তরুণ প্রাণের অধিকারী। তাদের প্রাণচাঞ্চল্য সবার চেয়ে বেশি। অন্যায়কে প্রতিহত করার সাহস ও উদ্যোগ তাদের মধ্য থেকেই প্রথম আসে। পাকিস্তানিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদগুলো তরুণ ছাত্ররাই প্রথমে করেছিল। তাই তো তারাই প্রথমে গুলির শিকার হয়েছিল।
উদ্দীপকের কবিতাংশে 'পিতৃপুরুষের গল্প' রচনার ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট প্রতিফলিত হয়েছে।
'পিতৃপুরুষের গল্প' রচনায় লেখক বাঙালির ঐতিহাসিক নানা প্রেক্ষাপটকে সামনে এনেছেন। এর মধ্যে অন্যতম ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অন্তু তার মামার কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা শুনে। এ দেশের মানুষ মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা আমাদের রাষ্ট্রভাষা হয়েছে।
উদ্দীপকের দৃশ্যে ফুটে উঠেছে এক ভাষা শহিদ সন্তানের তাঁর মায়ের কাছে ব্যক্ত করা সংগ্রামের প্রত্যয়। মাতৃভাষার চেয়ে প্রিয় আর কী হতে পারে। যে ভাষায় সন্তান মায়ের সাথে গল্প করে সেই ভাষাই কেড়ে নিতে চেয়েছিল পাকিস্তানি হায়নার দল। তাই মাতৃভাষা রক্ষার্থে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছে বাংলা মায়ের সন্তানরা। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলা রক্ষার্থে নির্ভীক ভাষা শহিদদের অবদান ও ত্যাগেরই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে 'পিতৃপুরুষের গল্প' রচনায়। উদ্দীপকেও ভাষার জন্য আত্মত্যাগ ও প্রত্যয়ের দৃশ্য দেখা যায়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশে 'পিতৃপুরুষের গল্প' রচনার ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের সন্তান ভাষা আন্দোলনের এবং 'পিতৃপুরুষের গল্প' রচনায় কাজল মামা মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিক তাই দুজনেই বাঙালির মুক্তির চেতনার সৈনিক।
'পিতৃপুরুষের গল্প' রচনায় মুক্তিযোদ্ধা কাজল তাঁর ভাগনে অন্তর কাছে বাঙালির ঐতিহাসিক গৌরবময় বীরত্বের, আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন। অদ্ভুর কাজল মামা মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। যুদ্ধের ডাক আসলে শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। মিছিল মিটিং করেন, রাইফেল জোগাড় করে ট্রেনিং নেন। কাজল তার বাবাকে সাহস নিয়ে বলত বাঘা বাঙালিরা এবার যুদ্ধ করবে। স্বাধীনতা আসবেই এবার। বাঙালিকে সকল অন্যায় আর শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্যই কাজল মামা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
উদ্দীপকে এক বীর সন্তান তার মায়ের উদ্দেশে চিঠি লিখেন। যেখানে বাঙালির ভাষার জন্য সংগ্রামের প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। মাতৃভাষাকে পাকিস্তানিদের হাত থেকে রক্ষা করার সংগ্রামে নেমেছিল সে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহিদ এই বীর সন্তান মায়ের কোলে কথার ঝুরি নিয়ে আর ফিরতে পারেনি। তবে তার আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি মাতৃভাষা বাংলাকে নিজ করে।
'পিতৃপুরুষের গল্প' রচনায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া টগবগে তরুণ কাজলের মুক্তির চেতনা ও সংগ্রামের বর্ণনা পাওয়া যায়। মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নিয়েছিল জীবন-মরণ খেলায়। তাদের অবদানেই আজ আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে স্বাধীন দেশ পেয়েছি। ঠিক একইভাবে উদ্দীপকের কবিতাংশে ফুটে ওঠা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আমাদের বাংলা ভাষা দিয়েছে। অন্যের মুখের বুলি বলার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছে। ভাষা শহিদ ও আন্দোলনকারীদের অবদানেই আজ বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করেছে। এটাই ছিল বাঙালির মুক্তির চেতনার প্রথম আন্দোলন এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের সন্তান এবং 'পিতৃপুরুষের গল্প' রচনার কাজল মামা উভয়ই বাঙালির মুক্তির সৈনিক।
Related Question
View All১৯৭১ সালে কাজল মামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত।
যেকোনো বিষয় নিয়ে মানুষে মানুষে যুদ্ধ হতে পারে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হয় কেবল একটি দেশকে স্বাধীন করার জন্য।
সাধারণ যুদ্ধ আর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। কেননা, যুদ্ধ হয় স্বার্থের জন্য রাজায় রাজায়, এক দেশের সাথে আরেক দেশের। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় স্বাধীনতার জন্য। স্বতন্ত্র একটি জাতি হিসেবে অন্যায়-অত্যাচার আর পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। এটাই যুদ্ধ আর মুক্তিযুদ্ধের পার্থক্য।
পূর্বপুরুষদের নিয়ে আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের প্রিয়তি ও 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের অন্তুর মনোভাব সাদৃশ্যপূর্ণ।
'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অন্তু। মুক্তিযোদ্ধা কাজল মামার কাছ থেকে সে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস শোনে। অন্তু তার মামার কাছ থেকে জানতে পারে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর বাঙালিদের কথা। পূর্বপুরুষদের কথা মনে করে সে একইসাথে ব্যথিত এবং গর্বিত হয়। শহিদ মিনারে ভাষা-শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে পিতৃপুরুষদের প্রতি অন্তুর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের প্রিয়তি বাবা-মায়ের সাথে ঢাকায় বেড়াতে এসেছে। বাবা-মা তাকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নিয়ে যায়। সেখানে সে বীর শহিদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। ভাষা-শহিদদের আত্মোৎসর্গ তার মনে গর্ববোধের জন্ম দেয়। 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পে অন্তুর ক্ষেত্রেও একই অনুভূতির প্রমাণ মেলে।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের খণ্ডিত ভাবের ধারক।
'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের অন্তু মামার কাছ থেকে বংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারে। জানতে পারে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য বাঙালির বীর সন্তানদের আত্মত্যাগের কথা। সেই সঙ্গে ঢাকা শহরের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কেও জ্ঞান লাভ করে সে।
উদ্দীপকের প্রিয়তি বাবা-মায়ের সাথে একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনারে এসেছে। ফুল দিয়ে ভাষা-শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তারা। বাবার কাছ থেকে শহিদদের আত্মত্যাগের কথা শুনে প্রিয়তি গর্ববোধ করে। আলোচ্য 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পে পূর্বপুরুষের মহান কীর্তির প্রকাশ ঘটলেও উদ্দীপকে গল্পের পূর্ণাঙ্গভাব প্রকাশিত হয়নি।
উদ্দীপক ও 'পিতৃপুরুষের গল্প' উভয় ক্ষেত্রেই পূর্বপুরুষদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকের তুলনায় আলোচ্য গল্পের ভাবগাম্ভীর্য আরও বিস্তৃত। 'পিতৃপরুষের গল্প' গল্পে অন্তর্নিহিত আছে প্রাচীন বাংলার শেকড় সম্পর্কিত নানা জিজ্ঞাসার উত্তর। ভাষা আন্দোলন ছাড়াও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গও এসেছে এখানে। 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পে বাঙালির ঐতিহাসিক ঘটনা ও সংগ্রামমুখর যে চিত্র ফুটে উঠেছে, উদ্দীপকে তার আংশিক চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথাযথ।
মোগল আমলে ঢাকার নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর।
ছাত্ররাই পাকিস্তানের সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করত বলে তারাই প্রথম গুলির শিকার হয়েছিল।
ছাত্ররা স্বাভাবিকভাবেই তরুণ প্রাণের অধিকারী। তাদের প্রাণচাঞ্চল্য সবার চেয়ে বেশি। অন্যায়কে প্রতিহত করার সাহস ও উদ্যোগ তাদের মধ্য থেকেই প্রথম আসে। পাকিস্তানিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদগুলো তরুণ ছাত্ররাই প্রথমে করেছিল। তাই তো তারাই প্রথমে গুলির শিকার হয়েছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

