যেসব ফসল সাধারণত বন্যামুক্ত উঁচু এলাকায়, ছোট জমিতে বা বাগানে স্বল্প পরিসরে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ করা হয় এবং সাধারণত প্রক্রিয়াজাত করা ছাড়াই খাওয়া যায় সেগুলোই উদ্যান ফসল।
খাদ্যদ্রব্যকে সুস্বাদু, তৃপ্তিদায়ক ও সুগন্ধিযুক্ত করার জন্য যে সকল ফসলের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল, বাকল ইত্যাদি ব্যবহৃত হয় তাদের মশলা জাতীয় ফসল বলে। যেকোনো মাঠ ফসলের চেয়ে মশলা জাতীয় ফসল উৎপাদনে লাভ বেশি হয়। পতিত, কম গুরুত্বপূর্ণ ও পাহাড়ি জমিতে অনায়াসে মশলা ফসল চাষ করা যায়। মশলা জাতীয় ফসলে উৎপাদন খরচ, রোগবালাই ও ঝুঁকি কম কিন্তু বাজারে দাম বেশি। অন্যান্য ফসলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে ২-৬ গুণ দাম বেশি। মশলা জাতীয় ফসল চাষ করা যেমন সহজ তেমন পরিচর্যার দরকার হয় না। অধিকাংশ মশলা জাতীয় ফসল খরা সহনশীল হয়। এছাড়া চাষের ক্ষেত্রে কৃষি উপকরণ ও উৎপাদন সময়ও কম লাগে। তাই বলা যায়, মশলা চাষে খরচ কম, লাভ বেশি।
চিত্রে প্রদর্শিত গাছটি হলো তুলাগাছ। গা তুলা গাছের ফুল, ফল পোকা দ্বারা আক্রান্ত হলে বিভিন্ন লক্ষণ দেখে তা বোঝা যায়। তুলা গাছের পাতার প্রান্তভাগ নিচের দিকে কুঁচকে গিয়ে যদি হলুদ, তামাটে কিংবা লালচে রং ধারণ করে, পাতা ঝলসে যায়, ফুলে গুটির সংখ্যা কমে যায় তবে বুঝতে হবে জ্যাসিড পোকা আক্রমণ করেছে। যদি কচি কাণ্ডের রস চুষে খাওয়ার ফলে গাছের ডগা দুর্বল হয়ে যায় তবে বুঝতে হবে জাব পোকা আক্রমণ করেছে। আমেরিকান বোল ওয়ার্ম পোকার কীড়া গাছের ডগা, কুঁড়ি, ফুল এবং কচি বোল ছিদ্র করে দেয়। ফলে গাছের ডগা ঢলে পড়ে এবং আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। পড়ে কুঁড়ি, ফুল এবং বোল ঝরে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কুঁড়ি ও অসম আকৃতির বোল দেখে বোঝা যায় পিংক বোলওয়ার্ম তুলা গাছকে আক্রমণ করেছে। সাদা মাছি পাতার রস শোষণ করে পাতার ওপর মধুকণা নিঃসরণের কারণে সেখানে স্যুটিমোন্ড ছত্রাক জন্মায়। তুলার লাল গান্ধি পোকার বাচ্চা ও পূর্ণবয়স্ক উভয়েই পাতা, কুঁড়ি, ফুল ও ফল হতে রস চুষে খায়। এসব পোকা থেকে তুলা গাছকে রক্ষা করতে কিছু ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হয়। জ্যাসিড পোকা দমনে সাকসেস ১.৫ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ বার স্প্রে করতে হয়। জাব পোকা দমনে টাফগর ৪০ ইসি ২ মিলি/লি পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হয়। আলোর ফাঁদ দিয়ে আমেরিকান বোলওয়ার্মের মথ ধরতে হয়। আক্রান্ত ডগা, কুঁড়ি, ফুল বা বোল সংগ্রহ করে পোড়াতে এবং ক্রীড়া সংগ্রহ করে মারতে হয়। আমেরিকান বোলওয়ার্ম দমনে ট্রেসার/ফেনভেলারেট ২০, ২ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হয়। তুলার পিংক বোলওয়ার্ম দমনের জন্য বপনের পূর্বে বীজ রোদে শুকিয়ে, গভীরভাবে জমি চাষ করে, আগাছা পরিষ্কার করে বীজ বপন করতে হয়। তুলা জমির আশেপাশে বিকল্প আশ্রয়দানকারী গাছ যেমন- মালভেসি পরিবারের ঢেঁড়শ, মেস্তা ও কেনাফ লাগানো যাবে না। এছাড়া ক্রীড়া সংগ্রহ করে মারতে হয় এবং অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। তুলার সাদা মাছি পোকা দমনে অটোমিডা ক্লোরোপাইরিফস ২০. ২ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হয়। তুলার লাল গান্ধি পোকা দমন করতে মার্শাল/ কার্বোসালফান ২০, ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হয়।
অতএব, উপরিল্লিখিতভাবে তুলা গাছে বিভিন্ন লক্ষণ দেখে পোকা শনাক্ত করে সে অনুযায়ী দমন ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হয়।।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটি হলো তুলা।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তুলা চাষ যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ পৃথিবীর ৫ম বৃহত্তম তুলা ব্যবহারকারী এবং ২য় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ। ২০১৭-১৮ সালে দেশে ৪৩০৫০ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ করে ১৬৫২৬৯ বেল তুলা আঁশ উৎপাদন করা হয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, আমাদের দেশে উৎপাদিত তুলার গুণগত মান আমদানিকৃত তুলার গুণগতমানের থেকে উৎকৃষ্ট। তুলা টেক্সটাইল মিলের প্রধান কাঁচামাল এবং চাষিদের নিকট একটি অর্থকরী ফসল। উৎপাদিত বীজতুলা থেকে ৪০% আঁশ ও ৬০% বীজ পাওয়া যায়। বীজ থেকে পুনরায় ১৫% ভোজ্যতেল ও ৮৫% খৈল পাওয়া যায়। উৎপন্ন তেল রান্নার কাজে, সাবান তৈরিতে এবং বিভিন্ন পিচ্ছিলকারক পদার্থ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তুলার খৈল মাছ ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুকনো তুলা গাছ জ্বালানি কাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশে গবেষণার মাধমে তুলার কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে যার ফলন ও আঁশের গুণগতমান ভালো হওয়ায় বিপুল চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের তুলা উন্নয়ন বোর্ড চেষ্টা করছে যেন আগামী দিনগুলোতে আমাদের তুলার চাহিদার অধিকাংশ এদেশে উৎপাদন করা যায়। এদেশে বিটি তুলার জাতকে অবমুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা থেকে হয়ত আমাদের তুলা উৎপাদন বাড়বে। তুলা একটি খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসল। তাই তুলা উন্নয়ন বোর্ড দেশের খাদ্য উৎপাদনীয় জমি ব্যবহার না করে অন্য অঞ্চলে তুলা চাষকে সম্প্রসারণ করার প্রয়াস নিয়েছে। তারা তামাক চাষের জমি ও কৃষি বনায়নের জমিতে এবং খরাপ্রবণ, লবণাক্ত, চর ও পাহাড়িয়া এলাকায় তুলা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। এতে করে বেকার ও দরিদ্র কৃষকদের আয়ের ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় পারিবারিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অতএব, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তুলা ফসলটি চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allজীববিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের ও অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন অন্যান্য জলজ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস, চাষ পদ্ধতি, প্রজনন, রোগতত্ত্ব, সংরক্ষণ, পরিবহণ ও বিপণন বিষয়ে আলোচনা করা হয় তাকে মাৎস্য বিজ্ঞান বলে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় প্রতি মাসে অথবা প্রয়োজন অনুসারে কৃষকদের নিয়ে কোনো একজন কৃষকের উঠোনে কৃষির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে বৈঠক করে তাকে উঠোন বৈঠক বলে।
মূলত উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকেরা কৃষি তথ্য ও সেবা পেয়ে থাকে। উঠোন বৈঠকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো- কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তি হস্তান্তর করা, কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কৃষকদের জ্ঞান, তথ্য, অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। ফলে দুর্বল কৃষকরা কৃষি তথ্যে সমৃদ্ধ হয়ে কৃষিকাজে আরও উৎসাহী হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)। এ প্রতিষ্ঠানটি নিম্নলিখিত কার্যাবলীর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে-
i. ফসলের নতুন নতুন জাত নির্বাচন, উদ্ভাবন ও উন্নয়ন সাধন।
ii. নির্বাচিত ও উদ্ভাবিত ফসলের জাতসমূহ চাষাবাদের জন্যে অনুমোদনের ব্যবস্থাকরণ এবং উন্নত চাষাবাদ কলাকৌশল উদ্ভাবন।
iii. বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক গবেষণা প্রকল্প তদারকীকরণ ও পরামর্শ প্রদান।
iv. উন্নত সেচ প্রযুক্তি উদ্ভাবন।
V. সার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন।
vi. মাটির উর্বরতা রক্ষার উপায় উদ্ভাবন ও উন্নয়ন।
vii. ফসলের প্রজাতি বা জিন সংরক্ষণ।
viii. চাষাবাদ ও পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র উদ্ভাবন।
ix. কৃষিপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার কৌশল উদ্ভাবন।
x. কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা প্রভৃতির আয়োজনকরণ।
xi. শস্য বিন্যাস পদ্ধতির আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন।
xii. কৃষি পরিবেশ ও অঞ্চলেভেদে দেশের চাহিদাভিত্তিক কৃষি গবেষণা পরিচালনা।
xiii. কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান।
xiv. কৃষিতে আইসিটি এর প্রয়োগকরণ।
পরিশেষে বলা যায়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন, কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র দূরীকরণে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উদ্দীপকে চাষকৃত ফুলটি হলো ডালিয়া। ডালিয়া ফুল গাছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া প্রভৃতি আক্রমণ করলে নানাবিধ রোগ হয়। এসব প্রতিরোধে দরকার প্রয়োজনীয় রোগ দমন ব্যবস্থাপনা।
ডালিয়ার পাউডারি মিলডিউ রোগ দমনে গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে। রোগের প্রকোপ কম হলে দ্রুত বেগে পানি স্প্রে করেও দমন করা যায়। সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ১ লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ৩-৫ বার স্প্রে করতে হবে। রোগ দেখা মাত্রই সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন- থিয়োভিট ৮০ ডব্লিউজি বা কুমুলাস ডিএফ) ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে অথবা প্রোপিকোনাজোল (যেমন- টিল্ট ২৫০ ইসি) ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। ঢলে পড়া রোগ দমনে রোগাক্রান্ত চারা/গাছ তুলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। মেটালেক্সিল + মেনকোজেব (যেমন- রিডোমিল গোল্ড) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে কন্দ আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে জমিতে বপন করতে হবে। আক্রান্ত গাছে অক্সিক্লোরাইড বা কপার জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। ডালিয়ার ড্যাম্পিং অফ রোগ হলে মেটালেক্সিল ও রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। ডালিয়ার কান্ড পচা রোগ হলে রোগাক্রান্ত গাছ ধ্বংস করে ফেলতে হবে। ডালিয়ার অ্যানথ্রাকনোজ রোগ প্রতিরোধে কার্বেন্ডাজিম দ্বারা কন্দ শোধন করতে হবে। আর এ রোগে আক্রান্ত গাছে কপার অক্সিক্লোরাইড ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া ভাইরাসঘটিত রোগের কোনো ঔষধ নাই। সুতরাং রোগাক্রান্ত গাছগুলি সঙ্গে সঙ্গে তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জাবপোকা, থ্রিপস, জ্যাসিড ইত্যাদি পোকা দ্বারা ভাইরাসের বিস্তার হয়। তাই সুস্থ গাছে নিয়মিত ডাইমেক্রন ১০০ ইসি (৫%) দ্রবণ প্রতি ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করলে এইসব পোকা দমন করা যায়।
অতএব, উপরে উল্লিখিত বিবিধ রোগ দমন ব্যবস্থাপনা গ্রহণের মাধ্যমে ডালিয়া ফুলের লাভজনক চাষ করা যায়।
ভূমিক্ষয় হলো বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক শক্তি যেমন- বৃষ্টিপাত, পানি, বায়ু, বরফ, তাপ, মধ্যাকর্ষণ শক্তি, ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া এবং পানি চলাচলের প্রভাবে মৃত্তিকা কণার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারণ হওয়া।
মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদমকে মাটির অম্লমান বা মাটির pH বলে। এটি মাটির একটি রাসায়নিক ধর্ম। মাটির অম্লমান বা pH ১-১৪ সংখ্যা দ্বারা উল্লেখ করা হয়। কোনো মাটির pH ৭.০ হলে তাকে প্রশম মাটি ধরা হয় আবার মাটির pH ৭.০ এর নিচে গেলে উক্ত মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হয় এবং pH ৭.০ এর উপরে উঠে গেলে মাটির ক্ষারত্ব দেখা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!