মাশরুম হচ্ছে এক প্রকার মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গ (এগুলো মূলত Basidiomycetes শ্রেণির অন্তর্গত ছত্রাক)।
পাটের রিবন রেটিং হলো বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত পাটের ছাল পচনের একটি বিকল্প পদ্ধতি।
আমাদের দেশে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে খাল-বিলে পাট পচানোর মতো যথেষ্ট পানি থাকে না। সেক্ষেত্রে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট গাছ কাটার পর কাঁচা থাকা অবস্থায় গাছ থেকে ফিতার মতো ছালকে পৃথক করে পচানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাট উৎপাদনকারী এলাকায় পচন পানির অভাব থাকলে উৎপাদিত পাটের আঁশ খুব নিম্নমানের হয়ে থাকে, ফলে পাট বিক্রি করে ভালো মূল্য পাওয়া যায় না। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে স্বল্প পানি ও অল্প জায়গার মধ্যে সহজেই আঁশ পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও আঁশে কাটিংস হয় না বলে উন্নত আঁশ পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের চিত্র-১ এর উদ্ভিদটি হলো লিগিউম জাতীয় ফসল যা রাইজোবিয়াম সার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লিগিউম জাতীয় ফসলের মূলে বাসা বাঁধে রাইজোবিয়াম নামক কিছু ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া মূলে নডিউল তৈরি করে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে গাছের জন্য সহজলভ্য করে তোলে। উক্ত সার প্রস্তুত করতে নিম্নোক্ত উপায়সমূহ অবলম্বন করতে হয়- লিগিউম গাছের জাত নির্বাচন করে বড় আকারের সুস্থ, সতেজ এবং লালচে বর্ণের নডিউল থেকে রাইজোবিয়াম স্ট্রেইন সংগ্রহ করতে হবে। আমাদের দেশে আবাদ মাধ্যম হিসেবে পিট মাটি, কাঠের গুঁড়া, ছাই ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। প্রথমে পিট মাটি (রং কিছুটা কালচে ও হালকা) সংগ্রহ করে রোদে শুকানো হয়। হাতুড়ি অথবা মেশিনের সাহায্যে তা গুঁড়া করা হয়। রাইজোবিয়াম জন্মানোর জন্য ২০০ মেশ চালুনি দিয়ে পিট মাটি চালা হয় এবং প্রয়োজনমতো চুন মিশিয়ে pH ৬.৫-৭.০ এ আনা হয়। পলিথিনের ব্যাগে ভরে তা অটোক্লেভ দিয়ে নির্দিষ্ট সময় ও তাপে শোধন করা হয়। এরপর কালচার মাধ্যমে জীবাণুর গ্রহণোপযোগী পুষ্টি উপাদান যেমন-ম্যানিটল ১০ গ্রাম, ডাই পটাশিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট ০.৫ গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ০.২ গ্রাম, সোডিয়াম ক্লোরাইড ০.১ গ্রাম, ইস্ট নির্যাস ০.৫ গ্রাম ও ডিস্টিলড ওয়াটার ১ লিটার মিশাতে হয়। এরপর গামা রেডিয়েশন দিয়ে পিট মাটি জীবাণুমুক্ত করা হয়। পিট মাটির প্যাকেটে সিরিঞ্জের সাহায্যে রাইজোবিয়াম অণুজীব ঢুকাতে হয়। এরপর তরল অণুজীব কালচার ও পিট ভালোভাবে মিশিয়ে কয়েকদিন রেখে বীজের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারজাত করা হয়।
উল্লিখিত উপায়সমূহ অবলম্বনের মাধ্যমে লিগিউম জাতীয় ফসলের সহায়তায় রাইজোবিয়াম সার প্রস্তুত করা যায়।
উদ্দীপকের চিত্র-২ হলো নডিউলযুক্ত মূল। রাইজোবিয়াম নামক ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে নডিউল সৃষ্টি করে। এই নডিউলযুক্ত মূল রাইজোবিয়াম অণুজীব সার উৎপাদনে সহায়তা করে। রাইজোবিয়াম সার মাটিতে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। এই নাইট্রোজেন ফসলে ইউরিয়ার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। মাটিতে জৈব পদার্থ যুক্ত করে ফসলের ফলন ও গুণগত মান বৃদ্ধি করে। এটি ডাল জাতীয় ফসলের দানায় আমিষের পরিমাণ ৫০-১০০% বৃদ্ধি করে। এছাড়া এই সার মাটি, ফসল, জলাশয়, পশু এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায় না। এই সার ব্যবহারে প্রায় ১০- ৪০% রাসায়নিক সার কম লাগে। তাছাড়া রাইজোবিয়াম অণুজীব সার ব্যবহারে ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। উপযুক্ত ফসল পর্যায় ও ফসল বিন্যাসের জন্য অণুজৈবিক সার বিশেষভাবে উপকারী। তাছাড়া এই সার অনুর্বর ও বেলে মাটিতে প্রয়োগের মাধ্যেমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত উপাদান অর্থাৎ নডিউলযুক্ত মূল সার হিসেবে ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে মাটি ও ফসলের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allঅভিজ্ঞ কৃষক হলো একজন স্থানীয় নেতা ও কৃষকদের পরামর্শদাতা যিনি নিজ উৎসাহে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন।
কৃষি তথ্য সার্ভিস গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, যা গণমাধ্যমের সাহায্যে কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তিসমূহ গ্রামীণ পর্যায়ে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে।
বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত আধুনিক লাগসই কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি সহজ, সরল, সাবলীল এবং বোধগম্যভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করাই কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রধান লক্ষ্য। আধুনিক তথ্যবহুল ওয়েবসাইট, কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র, মোবাইলভিত্তিক কৃষি তথ্য সেবা, কমিউনিটি রেডিও, কৃষক টেলিভিশন, ই-বুক এসবের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি বা ই-কৃষির সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়ে চলেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া পোস্টার, লিফলেট, বুকলেট ও ভিডিওচিত্র তৈরি এবং কৃষি ডায়েরি, কৃষি কথা প্রভৃতি প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে শাওনের অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয়টি হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৬টি অনুষদের ছাত্র-ছাত্রীদের স্ব-স্ব বিষয়ের ওপর ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষা কার্যক্রম। অনুষদগুলো হলো-
i. কৃষি অনুষদ: কৃষিজ ফসল উৎপাদন, মাটির গঠন এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিষয়ক শিক্ষা প্রদান করা হয়।
ii. পশুপালন অনুষদ: পশুপালন পদ্ধতি, পশুর পুষ্টি ও প্রজনন নিয়ে বিস্তৃত শিক্ষা দেওয়া হয়।
iii. পশু চিকিৎসা অনুষদ: পশুর বিভিন্ন ধরনের রোগ ও এর প্রতিকার বিষয়ক শিক্ষা প্রদান করা হয়।
iv. মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ: মাছ চাষ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিশদ শিক্ষা দেওয়া হয়।
v. কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ: বিভিন্ন ধরনের কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি ও এর কার্যক্রম নিয়ে পাঠ্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
vi. কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ: গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থা ও সমবায়-বিপণন নিয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়।
তাছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম হলো-
i. স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষাক্রম পরিচালনা করা।
ii. শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণার ফলাফল শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা।
iii. শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ গ্রন্থাগারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের পুস্তক, জার্নাল, থিসিস, লিফলেট, পত্রপত্রিকা ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উল্লিখিত শিক্ষা কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে কৃষি শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের শাওন উদ্যোক্তা হিসেবে মৌমাছি চাষ করে। মৌমাছি চাষের মাধ্যমে মধু উৎপাদন করে বাড়তি আয় দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব। এ চাষে কম পুঁজি নিয়ে কাজ শুরু করে বেশি লাভবান হওয়া যায়।
মৌমাছি চাষের জন্য ব্যাপক জমির প্রয়োজন হয় না। শুধু জমির আইল বা বাগানের নিচে মৌবাক্স বসিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। শীত মৌসুমে একটি বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে এক কেজি মধু পাওয়া যায়। ১০টি বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে ১০ কেজি অর্থাৎ, মাসে ৪০ কেজি মধু পাওয়া যায়। এভাবে মধুর মৌসুমে ব্যাপক টাকা আয় করা সম্ভব। মৌচাক দিয়ে মোম তৈরি করা যায়। মৌমাছি প্রধানত মধু উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। রোগব্যাধি নিরাময়ে মধুর ব্যবহার অতি সুপ্রাচীন। আয়ুর্বেদীয় এবং ইউনানী পদ্ধতিতে তৈরি বহু ওষুধেই মধু ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মৌমাছির চাকের মধু, মোম ও পরাগরেণু মিশিয়ে যে মৌ- রুটি তৈরি করা হয় তা ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় উপকারী বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়ন ঘটায় যার ফলে দানা-বীজ তৈরি হয়। সরিষা ফসলে মৌমাছির চাক বসালে ফসলের ফলন ২০-৩০% বৃদ্ধি পায়। আবার, সরিষা থেকে মধু সংগ্রহ করে একই সাথে দ্বিগুণ লাভ হয়। মাত্র একবার ১৫-১৬ হাজার টাকা ব্যয় করে প্রথমে প্রকল্প স্থাপন করলে মৌ- বাক্স এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি ১০-১৫ বছর ব্যবহার করা যায়। এতে বাড়তি কোনো খরচও হয় না। এই উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণের সাথে বহুলোক জড়িত থাকে বিধায় বেকারত্ব সমস্যা কমে। এমনকি মধু ও মোম বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
অতএব বলা যায়, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শাওনের নেওয়া মৌমাছি চাষের উদ্যোগটি অত্যন্ত লাভজনক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের সমস্যা সমাধানে প্রতি মাসে অথবা জরুরি প্রয়োজনে কৃষকদের নিয়ে যে বৈঠক করেন তাকে উঠোন বৈঠক বলে।
উদ্যান জাতীয় ফসল বাড়ির আশেপাশে বন্যামুক্ত উর্বর জমিতে বিশেষ যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ করা হয়। স্বল্প পরিসরে বাড়ির আশেপাশে চাষ করা গেলেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও মাঠে আলু চাষ করা হয়।
উদ্যান ফসল তাজা ও রসালো অবস্থায় ব্যবহার করা হয়। আলু সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। আলু চাষের সময় ও পরিপক্কের পর উত্তোলনের সময় বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়, যা উদ্যান ফসলের বৈশিষ্ট্য। এসব কারণে আলুকে উদ্যান ফসল বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!