গ্রামে মিলিটারি প্রবেশের ব্যাপারটি চিত্রা বুড়ির কাছে অস্বাভাবিক লাগে। সবকিছু হারিয়ে চিত্রা বুড়ি সেনবাড়ির পাকা কালীমন্দিরের চাতালে ঘুমায়। পুরো রাত সে ঘুমায় না। কিছুক্ষণ পর পর ঘুম থেকে জেগে ওঠে। সেদিন তার চোখের সামনে দিয়ে পুয়ো দলটি পার হয় কিন্তু বুড়ি তাদের চিনতে পারে না। সে ভাবে এরা ডাকাত দল। সঙ্গে সঙ্গে তার মাথায় এই চিন্তাটাও আসে যে এরা এদিকে আসবে কেন। কারণ সেনরা এখন হতদরিদ্র। বুড়ি এগিয়ে গিয়ে দেখে ওরা কোন দিকে যাচ্ছে। একবার তার মনে হলো ওরা কৈবর্তপাড়ার দিকে যাচ্ছে। কিন্তু এরপর মনে হলো, না, ওরা অন্যদিকে যাচ্ছে। এই পুরো ব্যাপারটি চিত্রা বুড়ির কাছে অস্বাভাবিক লাগে।
Related Question
View All'১৯৭১' উপন্যাসে মেজর এজাজ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রাম থেকে মানুষদের ধরে নিয়ে এলে মেজর এজাজের সঙ্গে থাকা রফিক গ্রামের লোকদের আশ্বস্ত করার জন্য বলে, "ইনি লোক ভালো, ভয়ের কিছু নাই।" যদিও শেষ পর্যন্ত মেজর সম্পর্কে রফিকের এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।
'১৯৭১' উপন্যাসে মিলিটারি অফিসার মেজর এজাজের নেতৃত্বে একটা দল নীলগঞ্জ গ্রামে আসে একটা মিশনে। নীলগঞ্জ গ্রামের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জোয়ানদের ধরা এবং তার বন্ধু মেজর বখতিয়ারকে উদ্ধার করাই মূলত তার মিশন। তাই তিনি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রামের মসজিদের ইমাম, আজিজ মাস্টার প্রমুখকে ডেকে আনেন। কিন্তু তাদের চোখে-মুখে ভয় এবং মেজর এজাজের সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ লক্ষ করে রফিক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।
বস্তুত উপন্যাসের শুরুতে আমরা মেজর এজাজকে একজন ভালো মানুষ হিসেবেই দেখি। উপন্যাসের শুরুতে তিনি কারও কোনো ক্ষতি করেন না এবং সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন। আজিজ মাস্টারকে তিনি আপ্যায়ন করান এবং খুব সুন্দর করে কথা বলতে থাকেন। কিন্তু এরপর যত সময় গেছে তত আমরা মেজর এজাজের নৃশংস রূপ দেখতে পাই। তিনি কৈবর্তপাড়ার মনা এবং তার ছোট ভাই বিরুকে হত্যা করেন। নিলু সেনকেও তিনি হত্যা করেন। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের নাম করে ইমাম সাহেব এবং আজিজ মাস্টারের ওপর নির্যাতন চালান। একসময় আজিজ মাস্টারকে তার নির্দেশে হত্যা করা হয় এবং সব সত্য জানার পর রফিককেও তিনি হত্যা করার জন্য নিয়ে যান। শুরুর দিকে ভালো ব্যবহার করলেও শেষে মেজর এজাজের বর্বরতার পরিচয় পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, রফিকের ধারণা শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!