কোম্পানি নিট মুনাফার যে অংশ লভ্যাংশ হিসেবে প্রদান না করে ব্যবসায়ে সংরক্ষণ করা হয় তাকে সংরক্ষিত মুনাফা বলে। এক্ষেত্রে সংরক্ষিত মুনাফার ব্যয় হচ্ছে সুযোগ ব্যয়।
সিকিউরিটি ইস্যু ও বিক্রয়সংক্রান্ত খরচকে উত্তরণ ব্যয় বলে।
কোনো কোম্পানি মূলধন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সাধারণ শেয়ার ইস্যু করে থাকে। উত্তরণ ব্যয়ের ফলে সাধারণ শেয়ারের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। কারণ উত্তরণ ব্যয়ের ফলে শেয়ার বিক্রয় হতে নিট প্রাপ্তির পরিমাণ হ্রাস পায়।
চিত্রা লি.-এর ইস্যুকৃত বন্ডের ব্যয় নির্ণয় :
এখানে,
অভিহিত মূল্য (FV) = ১,০০০ টাকা
মেয়াদপূর্তি মূল্য (MV) = ১,০০০ টাকা
সুদের পরিমাণ (l) = ১০০০ ১২% = ১২০ টাকা
নিট বিক্রয়মূল্য (NSV) = SV - FC
= ১০০০ - ( ১০০০ ২%)
= ৯৮০ টাকা
মেয়াদকাল (n) = ৫ বছর
কর হার (T) = ৩০% বা, ০.৩০
আমরা জানি,
করপরবর্তী ঋণ মূলধন ব্যয় ,
=
= ৮.৮৯%
সুতরাং চিত্রা লি. এর ইস্যুকৃত বন্ডের ব্যয় ৮.৮৯%।
গঙ্গা লি. এর গড় মূলধন ব্যয় (WACC) নির্ণয় :
এখানে,
করপূর্ব ঋণের ব্যয় (Kb )= ১২ %
কর হার (T) = ৩০% বা, ০.৩০
করপরবর্তী ঋণের ব্যয়
= ১২ % ( ১-০.৩০)
= ৮.৪০ %
দেওয়া আছে
সাধারণ শেয়ারের ব্যয়
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় Kp = ১৪%
আবার,
ঋণ মূলধনের ভার = ৩০ % , বা, ০.৩০
অগ্রাধিকার শেয়ার মূলধনের ভার (Wp) = ৩০%, বা, ০.৩০
সাধারণ শেয়ার মূলধনের ভার (We) = ৪০ % বা ০.৪০
আমরা জানি,
গড় মূলধন ব্যয়,
= (০.৪০ ১৫%) + (০.৩০ ১৪%) + (০.৩০ ৮.৪০%)
= ৬% + ৪.২০% + ২.৫২%
= ১২.৭২ %
লক্ষণীয় যে, গঙ্গা লি. এর বিনিয়োগের ওপর আয়ের হার ১৫% যা গড় মূলধন ব্যয় ১২.৭২% হতে বেশি। অর্থাৎ আয়ের হার অপেক্ষা মূলধন কাঠামোর ব্যয় কম। এমতাবস্থায় বলা যায়, গঙ্গা লি. এর মূলধন কাঠামো দক্ষ তথা কাম্য মূলধন কাঠামো।
Related Question
View Allইক্যুইটি মূলধন ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামো বলে।
যৌথমূলধনী কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে সাধারণ শেয়ার বলে।
সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় বলতে সাধারণত লভ্যাংশ ও শেয়ারমূল্য বৃদ্ধিজনিত লাভ থেকে প্রত্যাশিত আয়ের হারকে বোঝায়। অন্যভাবে, সাধারণ শেয়ারের ব্যয় বলতে বিনিয়োগকারীদের সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ হতে প্রত্যাশিত আয়ের হারকে বোঝায়। এছাড়া সাধারণ শেয়ারের সাথে শেয়ার ইস্যু ও বিক্রয়জনিত খরচ জড়িত। তাই বলা যায়, 'সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় আছে'।
নুসরাত লি.-এর সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে
সাধারণ শেয়ারের বাজারমূল্য ( P০ )= ২০০ টাকা
প্রত্যাশিত লভ্যাংশ (D1) = ১৫ টাকা
লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার (g) = ৪ % বা, ০.০৪
আমরা জানি,
সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয়,
=
= ১১.৫০%
সুতরাং নুসরাত লি.-এর সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় ১১.৫০%।
নুসরাত লি.-এর ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে,
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় (K) = ১১.৫০% ['গ' নং থেকে প্রাপ্ত]
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় (Kp) = ৮%
করপূর্ববর্তী ঋণের ব্যয় (K) = ১০%
কর হার (T) = ৪০% বা, ০.৪০
করপরবর্তী ঋণ মূলধন ব্যয় = = ৬%
আবার,
সাধারণ শেয়ারের ভার
অগ্রাধিকার শেয়ারের ভার
ঋণ মূলধন (বন্ড) এর ভার
আমরা জানি,
ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয়,
WACC = WeKe + WpKp + WdKd
= ৯.১৫ %
সুতরাং নুসরাত লি.-এর ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় ৯.১৫%।
নিট আয়ের যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করে কারবারে সংরক্ষণ করা হয় তাকে সংরক্ষিত আয় বলে।
ইক্যুইটি মূলধন ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামো বলে। কারবারে সঠিক মূলধন কাঠামো নির্বাচন করার ক্ষেত্রে মূলধন ব্যয় তাৎপর্য বহন করে। কারণ ইক্যুইটি ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণের অনুপাতের ওপর মূলধন কাঠামোর খরচ নির্ভর করে। বিকল্প অনুপাতে মূলধন ব্যয় কম হলে সে মূলধন কাঠামো গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!