চিত্রের খাদ্যগুলো পরিবারের সকল সদস্যের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ক্যালরি সরবরাহ নিশ্চিত করে; কথাটির সাথে আমি একমত। চিত্রে প্রদর্শিত খাদ্যগুলো হচ্ছে ভাত, রুটি, মাছ, মাংস, ডিম, শাকসবজি, তেল ও দুধ। আমাদের দৈনিক খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি এই ছয়টি পুষ্টি উপাদানই পরিমিত অনুপাতে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। আমাদের দৈনিক মোট ক্যালরির ৫০%-৬০% কার্বোহাইড্রেট, ২০% প্রোটিন ও ২০%-৩০% ফ্যাট জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। ভিটামিন ও ধাতব লবণের চাহিদা পূরণের জন্যে সবাইকে বিভিন্ন রকম শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করতে হবে। পরিবারের সবার জন্যে সুষম খাদ্য পরিকল্পনা করতে হবে। কারণ শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ক্যালরি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যে সুষম আহার গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্যে কোনো পুষ্টি উপাদানের আধিক্য বা ঘাটতি থাকে না। অর্থাৎ চিত্রে প্রদর্শিত খাদ্যগুলো পরিবারের সব সদস্যদের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ক্যালরি সরবরাহ নিশ্চিত করে-বক্তব্যটি সঠিক ও যথাযথ।
Related Question
View Allবিভিন্ন ধরনের খাদ্যকে পাঁচটি মৌলিক শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ল্যাকটোজ, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি২ ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। এ শ্রেণির খাদ্যসমূহ হলো দুধ, দই, ছানা, ঘোল, ক্ষীর, পায়েস ইত্যাদি। এ শ্রেণির খাদ্য হতে প্রচুর খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। তাই দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাদ্য শিশুর জন্য প্রয়োজনীয়।
১নং চিত্রে তিনটি ভিন্ন পাত্রে তিন ধরনের খাবার যথা- মিষ্টি, রুটি এবং ভাত দেখতে পাই। এই তিনটি খাবারে বিভিন্ন খাদ্য উপাদান রয়েছে।
মিষ্টি দুগ্ধ জাতীয় খাদ্যশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। রুটি এবং ভাত শস্য জাতীয় খাদ্যশ্রেণির অন্তর্গত। দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য থেকে আমরা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ল্যাকটোজ, ভিটামিন-এ, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি১২ জাতীয় পুষ্টি উপাদান পাই। আর শস্য জাতীয় খাদ্য থেকে পাই খাদ্যশক্তি, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি১২ ইত্যাদি। দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে শস্যজাতীয় খাদ্য থেকে আমরা দৈনিক মোট ক্যালরি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পেয়ে থাকি। এই শ্রেণির খাদ্য গ্রহণ ক্যালরির চাহিদার ওপর নির্ভর করে।
২নং চিত্রের খাদ্যগুলো শাকসবজি ও ফল জাতীয় খাদ্যশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় শাকসবজি ও ফলমূল এই শ্রেণির খাদ্য। এগুলোতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন- সেলুলোজ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যারোটিন, ফলিক অ্যাসিড ছাড়াও খনিজ পদার্থ যেমন-ক্যালসিয়াম, লৌহ, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি পাওয়া যায়। এ উপাদানগুলো ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি পূরণ করে দেহকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া এগুলো স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা ঠিক রাখে এবং চোখ ও ত্বকের সুস্থতা রক্ষা করে। আবার দেহে রক্ত ও হরমোন এবং কঠিন কোষকলা গঠনে এ খাদ্য উপাদানগুলো সহায়তা করে। এ কারণে প্রাপ্ত বয়স্ক স্বাভাবিক পরিশ্রমী ব্যক্তির দৈনিক ৩০০-৫০০ গ্রাম শাকসবজি ও ফলমূল জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা দরকার। সুতরাং, দেহের পুষ্টি সাধনে শাকসবজি ও ফল জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
দৈনিক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির খাদ্যে ২০ গ্রাম গুড় বা চিনি না থাকলে ক্যালরির ঘাটতি হয়।
শস্য জাতীয় খাদ্য আমাদের দেহের মোট ক্যালরি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করে। শস্য জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ খাদ্য গ্রহণকারীর পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে। এই শ্রেণির খাদ্য গ্রহণ ক্যালরির চাহিদার ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
