উদ্দীপকের চিত্র A ও B হচ্ছে যথাক্রমে পালতোলা নৌকা এবং বায়ুকল। এ দুটিতে বায়ুশক্তি ব্যবহৃত হয় এবং চিত্র C হলো জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। এতে পানির বিভব শক্তি ব্যবহৃত হয়। নিচে শক্তির উৎস হিসেবে এদের ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-
শক্তির উৎস হিসেবে বায়ুর ব্যবহার: বায়ু শক্তির অন্যতম উৎস। বায়ু প্রবাহের দ্বারা যে শক্তি উৎপন্ন হয় তাকে বায়ু শক্তি বলে। বায়ুর শক্তি দ্বারা পাল তোলা নৌকা চালানো যায়। বায়ু দিয়ে পাখা ঘোরানো যায়, তা দিয়ে ধান বা গম ভাঙানো চাকতি ঘোরানো যায়। প্রায় দু বা তিন শ বছর আগে ইউরোপের অনেক দেশে বায়ু চালিত এক ধরনের কল ছিল যা দিয়ে তারা গম পিষতো। এ কল বা মিলের নাম উইন্ডমিল। উইন্ডমিল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়।
শক্তির উৎস হিসেবে পানির ব্যবহার: শক্তির আর একটি প্রধান উৎস হলো পানি। পানির স্রোত কাজে লাগিয়ে পাখা বা চাকা ঘোরানো যায়। নদীর পানি জমিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়। এ বিদ্যুতকে বলা হয় জল বিদ্যুৎ।
Related Question
View Allঅনবায়নযোগ্য শক্তি হলো সেসব শক্তি যা একবার ব্যবহার করা হলে, তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি। প্রাকৃতিক গ্যাসও এমন একটি প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না। প্রকৃতিতে এটি তৈরি হতে যত সময় লাগে তার চেয়ে কম সময়ে ব্যয়িত হয়। তাই প্রাকৃতিক গ্যাস অনবায়নযোগ্য শক্তি।
সামিহার দেখা কাপ্তাইয়ের পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনে পানির বিভব শক্তি ব্যবহার করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি করা হয়। আমরা জানি, পানির তলের উচ্চতা বৃদ্ধি বা এর গভীরতা বৃদ্ধির ফলে এর মধ্যে অধিক বিভবশক্তি জমা হয়। পার্বত্য এলাকার পাহাড়ের উপত্যকায় নিচের প্রান্তে বাঁধ দেওয়ার ফলে, কর্ণফুলী নদীর পানির প্রবাহ বাঁধে বাধা পেয়ে জমা হতে থাকে, এতে বাঁধের পেছনে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়, যেটিকে আমরা কাপ্তাই হ্রদ বলি। হ্রদ পানিতে পূর্ণ হয়ে গেলে, হ্রদ থেকে পানি একটি মোটা নলের ভেতর দিয়ে নিচে অবস্থিত একটি তড়িৎ উৎপাদন কেন্দ্রে প্রবাহিত করা হয়। পানি পতনের সময় এর বিভব শক্তি গতিশক্তিতে 'রূপান্তরিত হয়। এ গতিশক্তি একটি টার্বাইনকে ঘোরায়। টার্বাইন হলো ব্লেডযুক্ত একটি চাকা। টার্বাইনটি একটি তড়িৎ জেনারেটর এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এ জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এটিই কাপ্তাইয়ের পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল।
সামিহার গ্রামে উদ্দীপকে ব্যবহৃত শক্তিটি হচ্ছে সৌর শক্তি। নিচে সৌর শক্তির উপযোগিতা আলোচনা করা হলো-
সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সৌরশক্তি। আমরা জানি, সূর্য সকল শক্তির উৎস। পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। সৌরশক্তি একটি অফুরন্ত শক্তির উৎস। এটি কখনো নিঃশেষ হবে না। এ শক্তি পরিবেশ বান্ধব কারণ এটি বাতাসে CO2 ছড়ায় না। শীত প্রধান দেশে সৌরশক্তিকে ঘরবাড়ি গরম রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। শস্য, মাছ, সবজি শুকানোর কাজে সৌরশক্তি ব্যবহৃত হয়। সৌরশক্তি দ্বারা বয়লারে বাষ্প তৈরি করেও তার দ্বারা তড়িৎ উৎপাদনের জন্য টার্বাইন ঘুরানো হয়। আধুনিক কৌশল ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে সৌরকোষ। সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর উপর সূর্যের আলো পড়লে তা থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়। এছাড়া সৌরকোষের রয়েছে নানা রকমের ব্যবহার। যেমন- কৃত্রিম উপগ্রহে তড়িৎশক্তি নিম্ন ভোল্টেজের হয় বলে এ শক্তি ব্যবহারে বিপদের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
কাজ সম্পাদনকারী কোনো ব্যক্তি বা উৎসের কাজ করার হারকে ক্ষমতা বলে।
শক্তি রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কারণ শক্তির সব রূপ আমরা সরাসরি ব্যবহার করতে পারি না। এক্ষেত্রে শক্তির রূপান্তর প্রয়োজন। যেমন- আমরা যে খাবার খেয়ে শক্তি পাই তা এক ধরনের শক্তির রূপান্তর। শক্তির রূপান্তর না ঘটলে খাবার খেয়েও আমাদের কোনো উপকার হতো না। অনুরূপভাবে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রত্যেকটি কাজেই কোনো না কোনোভাবে শক্তির রূপান্তর ঘটে। যেমন- গাড়িতে চলাফেরা, কাপড় ইস্ত্রি করা, টেলিফোনে কথা বলা, সাইকেল চালানো প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে শক্তির রূপান্তর। এ কারণেই শক্তির রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!