কমিশরের বাদশাহদের ফিরাউন বলা হতো।
আল্লাহ সুদকে হারাম ও ব্যবসায়কে হালাল করেছেন"- উক্তিটি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার। মহানবি (স.)-এর আবির্ভাবকালে সুদ এক ধরনের ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছিল। আরবসহ বিশ্বের অনেক সমাজে এ প্রথা প্রচলিত ছিল। যার ফলে ধনী আরও ধনী হতো আর গরিব ক্রমান্বয়ে নিঃস্ব হয়ে যেত। এটা ছিল শোষণের হাতিয়ার। তাই ইসলাম এটাকে হারাম ঘোষণা করে। অনেকে সুদকে ব্যবসায়ের লভ্যাংশের মতো মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে সুদ ও ব্যবসার লভ্যাংশ এক নয়। কেননা সুদে কোনো ঝুঁকি থাকে না। আর ব্যবসায়ের ঝুঁকি থাকে। এজন্য আল্লাহ তায়ালা সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন আর ব্যবসায়কে হালাল ঘোষণা করেছেন।
উদ্দীপকের-১-এর ঘটনাটি হযরত আয়েশা (রা.)-এর ইফকের ঘটনার সাথে মিল রয়েছে।
হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কনিষ্ঠা স্ত্রী। তিনি খুবই পুণ্যবতী ছিলেন। সেই সময়ে তার মতো সকল বিষয়ে পারদর্শী মহীয়সী নারী আরবে দ্বিতীয়জন ছিল না। কিন্তু একটি ঘটনা তাঁকে বিপর্যস্ত করে তোলে। বনু মুস্তালিকের যুদ্ধে রাসুল (স.)-এর সঙ্গে হযরত আয়েশা (রা.) অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তার গলার হার হারিয়ে যায়। তিনি তা খুঁজতে গিয়ে পিছনে পড়ে যান এবং ফিরতে দেরি হয়ে যায়। এতে মুনাফিক ও ইসলামের শত্রুরা অপবাদ রটাতে থাকে। আয়েশা (রা.) মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ততার মধ্যে পড়েন। পরে মহান আল্লাহ তাঁর চরিত্রের পবিত্রতা ঘোষণা করলে মুনাফিকদের সকল চক্রান্ত ব্যর্থ হয়ে যায়। উদ্দীপকের শেফালির ক্ষেত্রেও দেখা যায়। উদ্দীপকের শেফালি কর্মস্থল থেকে বাড়ি যেতে সন্ধ্যা করে ফেলে। এতে এলাকার কিছু মানুষ তার নামে অপবাদ দিলে সে মর্মাহত হয়। ঠিক অনুরূপ একটি ঘটনা হযরত আয়েশা (রা.)-এর জীবনে ঘটেছিল। সুতরাং বলা যায়, শেফালির ঘটনাটি হযরত আয়েশা (রা.)-এর ঘটনার সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
চিত্র-২-এ উপজেলা চেয়ারম্যান মতলব সাহেবের মত বিনিময় হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণের সাথে আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
হযরত মুহাম্মদ (স.) ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে লক্ষাধিক সাহাবি নিয়ে বিদায় হজের উদ্দেশ্যে মক্কা গমন করেন। বিদায় হজের ভাষণে তিনি ব্যক্তিজীবন হতে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সর্বপ্রকার দায়িত্ব, লেনদেন পারস্পরিক সম্পর্ক ও অধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। আরাফাত ময়দানের পাশে জাবালে রহমতের উঁচু টিলায় উঠে এ ভাষণ প্রদান করেন।
উদ্দীপকের চিত্র-২-এ মতলব আলী সাহেব তার বক্তব্যে অন্যের আমানত রক্ষা, অধীনস্থ লোকদের প্রতি সদ্ব্যবহার ও অন্যায়ভাবে কারও সাথে দুর্ব্যবহার না করার জন্য বলেন, যা হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বিদায় হজের ভাষণের অনুরূপ। বিদায় হজের ভাষণে অন্যান্য বিষয়ের গুরুত্ব প্রদানের পাশাপাশি অন্যের আমানত রক্ষার ব্যাপারে সবাইকে আহ্বান জানান। একইসাথে কেউ যেন স্ত্রীর সাথে, দাসদাসীদের সাথে অন্যায় আচরণ না করে সেদিকেও সবাইকে সতর্ক করেছেন। আবার চিত্র-২ এর উপজেলা চেয়ারম্যান মতলব সাহেব তার বক্তব্যে একই বিষয় তুলে ধরেন।
পরিশেষে বলা যায়, চিত্র-২ এর উপজেলা চেয়ারম্যান মতলব আলী সাহেব তার মত বিনিময় সভায় হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বিদায় হজের ভাষণের আংশিক তুলে ধরেছেন। মূলত হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বিদায় হজের ভাষণে মুসলমানদের জন্য পরিপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
Related Question
View Allইসলাম ধর্মজ্ঞানে সুপণ্ডিত ব্যক্তিকে মুজতাহিদ বলা হয়।
অশ্লীলতা সমাজকে কলুষিত করে, পক্ষান্তরে লজ্জাশীলতা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লজ্জাশীলতা মানুষের পশুত্বকে দূর করে পরিশুদ্ধ করে। এজন্যই রাসুল (স.) বলেছেন, "যার মধ্যে অশ্লীলতা আছে, তা তাকে ত্রুটিযুক্ত করে। আর যার মধ্যে লজ্জাশীলতা আছে, তা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে।" (তিরমিযি)
লিমন সাহেব হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার কন্যার নাম সানিয়া রেখেছেন।
মহান তাপসী রমণী রাবেয়া বসরি (র.) ৯৯ হিজরি মোতাবেক ৭১৭খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের বসরা নগরীতে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, চার বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ ছিলেন। তাই তাঁর নাম রাখা হয় রাবেয়া (চতুর্থা)। উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে যে, লিমন সাহেব তার দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখেন 'সানিয়া'। বন্ধুরা কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন আরবিতে 'সানিয়া' অর্থ দ্বিতীয়া। সুতরাং বলা যায়, লিমন সাহেব রাবেয়া বসরি (র.)-এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার কন্যার নাম রেখেছেন।
ছাত্র-শিক্ষকের আলোচনায় যে খলিফার কর্মকান্ড ফুটে উঠেছে, তিনি হলেন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)। তাঁর কৃতিত্ব ও চরিত্র অতুলনীয়।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)-কে দ্বিতীয় উমর ও ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয়। তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী, বিনয়ী ও নম্র প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার অন্তরে এত আল্লাহভীতি ছিল যে, তিনি প্রায় আল্লাহর ভয়ে কাঁদতেন। তাঁর ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মপরায়ণতা, সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সক্রিয়তা তা তাঁকে অনেক মর্যাদাবান করেছে। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) খলিফা হয়েও অত্যন্ত সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তিনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করতেন। তাঁর সময়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনে স্বাধীন ছিল। তিনি সাম্প্রদায়িকতার বিপরীতে উদার চিন্তার মানুষ ছিলেন। তাঁর আমলে ব্যাপকভাবে হাদিস সংকলিত হতে থাকে। উদ্দীপকেও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে শিক্ষক বললেন যে, যার শাসনামলে মানুষের আর্থিক বৈষম্য দূর হয়েছে এবং মানুষ গণতান্ত্রিক শান্তি লাভকরেছে, তিনিই রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি হাদিস সংকলনেরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সুতরাং, উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) হলেন উক্ত খলিফা, যার চরিত্র এবং কৃতিত্ব অতুলনীয়।
খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) শিক্ষকদের জন্য মাথাপিছু মাসিক ১০০ দিনার ভাতার ব্যবস্থা করেন।
হযরত আয়েশা (রা.) সর্বগুণে গুণান্বিতা ছিলেন। তিনি ছিলেন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতী, সাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারিণী। একইসাথে তিনি গৃহস্থালী বিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। শরিয়তের বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল সম্পর্কে তিনি জ্ঞান দান করতেন। এজন্য মহানবি (স.) আয়েশা (রা.)-কে সারিদ তথা আরবের শ্রেষ্ঠ খাদ্য যা রুটি, গোশত ও ঝোলের সমন্বয়ে তৈরি হয় তার সাথে তুলনা করে বলেছেন, "নারী জাতির ওপর আয়েশা (রা:)-এর মর্যাদা তেমন, যেমন খাদ্যদ্রব্যের ওপর সারিদের মর্যাদা।" (বুখারি ও ইবনে মাজাহ)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!