মাইকেল মধুসূদন দত্ত হিন্দু কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
মাতৃপরিচয় স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিভীষণের কৃতকর্ম যে যথার্থ নয় তা বোঝাতে মেঘনাদ এ কথা বলেছে।
বিভীষণ লঙ্কার শত্রু রামচন্দ্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রামের ভাই লক্ষ্মণকে গুপ্তপথে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে এসে মাতৃভূমি, স্বদেশ ও স্বজনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তারই সহযোগিতায় নিরস্ত্র মেঘনাদকে হত্যা করতে প্রস্তুত লক্ষ্মণ। মেঘনাদ এহেন কাপুরুষোচিত ঘটনার সহায়ক হওয়ায় স্বীয় পিতৃব্যকে জ্ঞাতিত্ব ও বংশমর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চায়। রাক্ষসরাজ রাবণের ভাই হয়েও তিনি কীভাবে এ কাজ করতে পারেন। বিশেষত রাবণ ও বিভীষণ উভয়ের মাতা নিকষা। মেঘনাদের মতে, নিকষা সতীর সন্তান হয়ে বিভীষণ এতটা নীচাশয় হতে পারে না। তাই সে পিতৃব্যকে উদ্দেশ করে বলেছে, 'নিকষা সতী তোমার জননী!'
উদ্দীপকের চীনের সঙ্গে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র হলো রামানুজ লক্ষ্মণ।
পত্নী সীতাকে উদ্ধারকল্পে রামচন্দ্র লঙ্কা নগরীতে প্রবেশ করেন। তাঁর অনুজ লক্ষ্মণ দায়িত্ব নেয় প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠ বীর মেঘনাদকে হত্যার। বিভীষণের সহায়তায় নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে নিরস্ত্র মেঘনাদকে হত্যায় উদ্যত হয় সে। যুদ্ধের ময়দানে আহ্বান না করে যজ্ঞরত 'নিরস্ত্র মেঘনাদকে হত্যা করতে উদ্যত হওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্মণের কাপুরুষতাই প্রমাণ করে।
উদ্দীপকে চীন বিশ্বের পরাশক্তি হয়েও অপর পরাশক্তি মার্কিন শিবিরের সঙ্গে পিরে উঠবে না ভেবেই বিকল্প পন্থা আবিষ্কারে রত। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের তার ব্লক থেকে সরাতে তৎপর চীনা প্রেসিডেন্ট। তাঁর এ প্রচেষ্টা 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার লক্ষ্মণ কর্তৃক মেঘনাদকে হত্যার চেষ্টাকে ইঙ্গিত করে। লক্ষ্মণ মেঘনাদের পিতৃব্য পরিবার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভীষণকে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়েছে; ময়দানে মেঘনাদকে প্রতিহত করতে সচেষ্ট হয়নি।
উদ্দীপকে রামানুজ লক্ষ্মণ কর্তৃক স্বীয় অক্ষমতা ঢাকতে বিকল্প পথে মেঘনাদ হত্যায় উদ্যত হওয়ার বিষয়টি ছাড়া অন্যান্য দিক অনুপস্থিত থাকায় উক্তিটি যথার্থ।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় রামানুজ লক্ষ্মণ প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠ বীর মেঘনাদকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রতিহত না করে কাপুরুষতা দেখিয়েছে। মেঘনাদের পিতৃব্য বিভীষণের সহযোগিতায় নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিরস্ত্র মেঘনাদকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। বিভীষণকে নানাভাবে স্বজাতি ও স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়াসী হয় মেঘনাদ। দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় তার প্রাণপণ চেষ্টা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য।
উদ্দীপকে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হয়েও আরেক পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিকল্প পন্থায় প্রতিরোধ করতে তৎপর। যুক্তরাষ্ট্রের ব্লক থেকে অনেককে সরিয়ে বন্ধুহীন ও দুর্বল করে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিহত করতে চায় তারা। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় এহেন পদক্ষেপ রামচন্দ্রের বাহিনী রাবণানুজ বিভীষণকে স্বদেশ ও স্বজাতির বিরুদ্ধে নেওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এর বাইরেও বেশকিছু বিষয় কবিতায় লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় প্রতিপক্ষকে বিকল্প কৌশলে দুর্বল করার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও কবিতায় স্বদেশপ্রেমের চেতনা ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছে। বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা, মেঘনাদ কর্তৃক বিভীষণকে নানা বাক্যবাণে জর্জরিত করাসহ বিভিন্ন বিষয় কবিতায় উঠে এসেছে। কবিতার এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় বলা যায়, উদ্দীপকে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আংশিকভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
Related Question
View Allসৌমিত্রি হলেন রাম ও লক্ষ্মণের ভ্রাতা। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত যোদ্ধা ও দক্ষ শাসক। তিনি রামচন্দ্রের রাজত্বকালে লঙ্কা বিজয়ের সময় রামের প্রধান সহযোগী ছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!