ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহৃত তত্ত্বই টেকটোনিক তত্ত্ব।
ধারণা করা হয় যে, পৃথিবী সৃষ্টির পর বাইরের অংশ অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ চলে যাওয়ায় ভূপৃষ্ঠ বা পৃথিবীর বাইরের অংশ ঠান্ডা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের দিক থেকে তাপ বেরিয়ে আসতে না পারায় কেন্দ্রের দিক উত্তপ্ত রয়ে গেছে।
উদ্দীপকের ঘটনায় চৈতির অনুভব করা বিষয়টি হলো ভূমিকম্প। নিচে ভূমিকম্পের কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
ভূপৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতকগুলো অংশ বা খন্ডে বিভক্ত। এগুলোকে প্লেট বলা হয়। এ প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরলের উপর ভাসমান অবস্থায় আছে। এ প্লেটগুলো প্রতিবছর কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। আবার কখনও একে অন্যের দিকে আসে। কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে উঠে বা নিচে নামে। এভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। একটি প্লেটের সাথে আরেকটি প্লেট যেখানে মেশে সেখানেই বেশি ভূমিকম্প হয়। প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প বেশি হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থায় অর্থাৎ ভূমিকম্প হলে করণীয় কাজগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।
২. ঘরের ভিতরে থাকলে হুড়োহুড়ি করে বাইরে না গিয়ে শক্ত কোনো টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।.
৩. লিফট দিয়ে নামা যাবে না।
৪. ঘরের বাইরে থাকলে ইলেকট্রিক খাম্বা ও বড় বিল্ডিং থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে।
৫. কোনো অবস্থাতেই ম্যাচবাতি জ্বালানো যাবে না।
Related Question
View Allপৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন বহিরাবরণই হলো ভূ-ত্বক।
পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতকগুলো প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো কখনো একটি থেকে আরেকটি সরে যায় বা ধাক্কা খায়। প্লেটগুলোর পরস্পরের সাথে ধাক্কার সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এ তাপে ভূ-ত্বকের অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ ভূ-অভ্যন্তরের চাপের ফলে নিচ থেকে ভূপৃষ্ঠের ফাটল ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে R হচ্ছে কেন্দ্রমণ্ডল।
বর্ণনা: কেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর অভ্যন্তরের তিনটি মূল ভাগের একটি। এটি পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকের অংশ। পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের গোলাকার জায়গা নিয়ে কেন্দ্রমণ্ডলের বিস্তৃতি। পৃথিবী সৃষ্টির সময় কেন্দ্রের দিকের তাপ বের হতে পারেনি। তাই কেন্দ্রমণ্ডল অত্যন্ত উত্তপ্ত। এখানে নিকেল, লোহা, সীসা ইত্যাদি ধাতু আছে। এ ধাতুগুলোও উত্তপ্ত অবস্থায় আছে। কেন্দ্রমণ্ডলের ভেতরের অংশে এরা কঠিন কিন্তু বাইরের দিকে গলিত অবস্থায় আছে। এর অর্থ, ধাতুগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনো গলেনি, কঠিন আছে সেসব ভারী পদার্থগুলো কেন্দ্রে আছে। আর যেগুলো গলে গেছে সেসব তরল পদার্থগুলো কিছুটা উপরে চলে এসেছে। এভাবে বিভিন্ন উত্তপ্ত গলিত ও কঠিন পদার্থের সমন্বয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডল গঠিত।
উদ্দীপকের চিত্রের P ও Q স্তরের মধ্যে স্তরটি মাটি গঠন করে। এটি পৃথিবীর শিলামণ্ডল।
বিশ্লেষণ: শিলামন্ডল পৃথিবীর অভ্যন্তরের তিনটি মূল ভাগের উপরের স্তর।-এর উপরের দিকের অংশ হচ্ছে ভূ-ত্বক। ভূ-ত্বকের বেশির ভাগই পাথর, নুড়ি, কাঁকড়, বালি ইত্যাদি কঠিন পদার্থ যা শিলা নামে পরিচিত। এ কঠিন শিলা থেকে নরম মাটি তৈরি হয় সাধারণত দুটি পর্যায়ে-
প্রথম পর্যায়: কঠিন শিলা দীর্ঘদিন ধরে রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, ভূমিকম্প এগুলোর কারণে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে পরিণত হয়। এছাড়া বায়ু, বরফ বা পানির প্রবাহ, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি কারণে অন্য জায়গা থেকে ক্ষুদ্র শিলাকণা এসে একটি স্থানে জমা হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়: ক্ষুদ্র শিলাকণার সাথে পানি, বায়ু, ক্ষুদ্র জীব যেমন- ব্যাকটেরিয়া, পচা ও মৃত জীবের দেহাবশেষ যোগ হয়। এভাবে মাটি তৈরি হয়। জৈব পদার্থের মিশ্রণে তৈরি হয় বলে মাটি নরম হয়। তবে বিভিন্ন স্থানের মাটি বিভিন্ন রকম হতে পারে। যতই ভিন্ন হোক মাটি গঠন হয় মূলত শিলামন্ডলের কঠিন শিলার সাথে জৈব পদার্থের মিশ্রণে।
অতএব, বুঝা গেল, পৃথিবীর অভ্যন্তরের উপরের শিলামণ্ডল স্তরটি কেবলমাত্র মাটি গঠন করে।
পৃথিবীর ভিতরের অংশ ৩টি ভাগে বিভক্ত।
পৃথিবী সকল কিছুকে তার নিজের দিকে টানে। সেই টানের ফলে বায়ুমন্ডলের গ্যাসগুলো পৃথিবীর পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। তাই ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বায়ুমণ্ডল ঘন হয়ে থাকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরের দিকে যাওয়া যায় বায়ুমণ্ডল তত হালকা বা পাতলা হবে। তাই পর্বতারোহীরা পর্বত আরোহণের সময় শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন সাথে নিয়ে যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!