চোর অপেক্ষা শতগুণে দোষী কে?

Updated: 11 months ago
Add Explanation
675

Related Question

View All
উত্তরঃ সাত দিন

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের অন্তর্গত 'বিড়াল' নামক রম্য রচনা থেকে প্রশ্নটি নেওয়া হয়েছে। এই রচনায় কমলাকান্ত আফিমের ঘোরে একটি বিড়ালের সঙ্গে কাল্পনিক কথোপকথনে লিপ্ত হন। বিড়ালটি মানুষের ভণ্ডামি ও অবিচারের সমালোচনা করে। বিশেষ করে, ধন-সম্পদ ও দারিদ্র্য নিয়ে মানুষের দ্বৈতসত্তা ফুটিয়ে তোলে। কমলাকান্ত যখন বিড়ালের দুধ চুরি নিয়ে অভিযোগ করেন, তখন বিড়ালটি মানুষের দরিদ্রের প্রতি শোষণের বিষয়টিকে তুলে ধরে। বিড়াল কমলাকান্তকে বিদ্রূপের ছলে সাত দিন (seven days) উপোস থাকতে বলে, যেন সে দরিদ্রদের ক্ষুধার যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে। এর মাধ্যমে সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য এবং দরিদ্রের প্রতি বঞ্চনার বিষয়টি তীব্র ব্যঙ্গের সাথে প্রকাশ পেয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 days ago
734
উত্তরঃ

“চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণ দোষী” – এই উক্তিটির মাধ্যমে সমাজের এক গভীর নৈতিক সত্য তুলে ধরা হয়েছে। একজন চোর ব্যক্তিগতভাবে অপরাধ করে বটে, কিন্তু তার অপরাধের কারণ অনেক সময় পরিস্থিতিগত বা অভাবজনিত হতে পারে। অন্যদিকে, একজন কৃপণ ধনী ব্যক্তি প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও অন্যের প্রতি নির্দয় ও শোষণমূলক আচরণ করে, যা সামাজিক বৈষম্য ও মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি চরম অবহেলা নির্দেশ করে।

এই উক্তিটি ইঙ্গিত করে যে, সম্পদের অধিকারী হয়েও যখন কেউ তা কেবল নিজের ভোগ-বিলাসে আবদ্ধ রাখে এবং দরিদ্রের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা অনুভব করে না, তখন তার এই নিষ্ঠুরতা একজন চোরের সাময়িক অপরাধের চেয়েও অধিক নিন্দনীয়। কৃপণ ধনী ব্যক্তি সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং অভাবী মানুষের দুর্দশা বাড়িয়ে তোলে, যা বৃহত্তর অর্থে সমাজের জন্য অধিক ক্ষতিকর ও অমানবিক।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
1.3k
উত্তরঃ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিড়াল' প্রবন্ধে সমাজের ধনীদের শোষণ ও দরিদ্রের বঞ্চনার চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধে বিড়াল নিজের প্রাপ্য খাদ্যের অভাব পূরণ করতে দুধ চুরি করে এবং তার এই কাজকে যুক্তির নিরিখে বিচার করা হয়, যেখানে ক্ষুধার্তের খাদ্যের অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং ধনী ও শোষক শ্রেণির নির্মমতা ও অমানবিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।

উদ্দীপকের সাজাহানও সমাজের এমনই এক বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণির প্রতিনিধি। দরিদ্র বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল সাজাহান অনেক বড় হবে, কিন্তু আর্থিক অভাব ও শিক্ষা না থাকায় সে কিশোর বয়সেই কাজে নেমে পড়ে। সে কৃপণ ও ধনী আলম সাহেবের বাড়িতে কাজ করে, যেখানে কঠোর পরিশ্রমের পরেও তার ভাগ্যে পর্যাপ্ত খাবার জোটে না। একসময় বাজারের টাকা বাঁচিয়ে লাড্ডু কিনে খাওয়ায় তাকে নির্দয়ভাবে মারধর করা হয়, যা তার অসহায়ত্বের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত।

এই দিক থেকে সাজাহান ও 'বিড়াল' রচনার বিড়াল একই বিড়ম্বনার অংশীদার। বিড়াল যেমন ক্ষুধার্থ হয়েও তার ন্যায্য খাবার থেকে বঞ্চিত হয় এবং ক্ষুধার তাড়নায় দুধ চুরি করতে বাধ্য হয়, তেমনি সাজাহানও তার শ্রমের বিনিময়ে উপযুক্ত খাদ্য পায় না। ক্ষুধার্ত বিড়াল যেমন চুরি করে প্রহারের শিকার হয়, তেমনি সাজাহানও নিজের কষ্টের জমানো টাকায় লাড্ডু কিনে খাওয়ার 'অপরাধে' মালিকের মারের শিকার হয়। উভয় ক্ষেত্রেই শোষক শ্রেণির নির্মমতা এবং শোষিত শ্রেণির অসহায়ত্ব ও বঞ্চনার চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে শারীরিক চাহিদা পূরণের জন্য সামান্য প্রয়াসও কঠোরভাবে দণ্ডনীয় হয়। তাদের এই দুর্দশা সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে তোলে, যেখানে দুর্বলরা সব জেনেও অসহায়ত্বের কারণে অন্যায় সহ্য করতে বাধ্য হয়।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
553
উত্তরঃ

উদ্দীপকটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিড়াল' প্রবন্ধের মূল ভাবসত্যের যেন এক প্রতীকী প্রতিচ্ছবি। 'বিড়াল' প্রবন্ধে লেখক ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হওয়া এবং সামাজিক অবিচারের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত করেছেন। ক্ষুধা নিবারণের জন্য বিড়ালের দুধ চুরিকে কেন্দ্র করে লেখক যে গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, উদ্দীপকে সাজাহানের ঘটনা তারই যেন বাস্তব ও মর্মস্পর্শী প্রকাশ।

উদ্দীপকে আমরা দেখি, সাজাহান দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের সন্তান। আর্থিক অভাব ও শিক্ষার অভাবে সে কিশোর বয়সেই কৃপণ ও ধনী আলম সাহেবের বাড়িতে কাজে নামে। কঠোর পরিশ্রম করেও তার ভাগ্যে জুটছে না পর্যাপ্ত খাবার। একদিন বাজারের টাকা বাঁচিয়ে সে সামান্য একটি লাড্ডু কিনে খায়, যার জন্য তাকে নির্মম প্রহার সহ্য করতে হয়। সাজাহানের এই বঞ্চনা, শোষণ এবং শারীরিক নির্যাতন 'বিড়াল' প্রবন্ধে বর্ণিত সমাজের উচ্চবিত্ত কর্তৃক নিম্নবিত্তের শোষণ ও তাদের প্রতি অবিচারেরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। বিড়ালের ক্ষুধার তাড়নায় দুধ চুরি এবং তার জন্য তিরস্কারের মতোই সাজাহানের সামান্য লাড্ডু কেনা ও তার জন্য শাস্তিলাভ একই ধরনের নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে।

আলম সাহেবের নির্দয়তা এবং সাজাহানের "সে গরীব-অসহায়" ভেবে সব সহ্য করার বিষয়টি 'বিড়াল' প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় বক্তব্যকে সমর্থন করে। বঙ্কিমচন্দ্র বিড়ালের উক্তির মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন যে, যখন একজন ক্ষুধার্ত মানুষ বা প্রাণী মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন তার পক্ষে অন্যের সম্পদ গ্রহণ করা কতটা গর্হিত? উদ্দীপকের সাজাহানের ঘটনা সেই প্রশ্নেরই প্রতিধ্বনি। তার পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ বাঁচিয়ে কেনা সামান্য লাড্ডুর জন্য তাকে যে শাস্তি পেতে হলো, তা সমাজের ধনী অংশের অমানবিকতা এবং দরিদ্রের প্রতি তাদের চরম উদাসীনতা ও অবিচারকেই প্রমাণ করে। তাই, উদ্দীপকের এই ঘটনা 'বিড়াল' রচনার সেই ভাবসত্য—সামাজিক বৈষম্য, শোষণ এবং নৈতিক অধিকারের প্রশ্নকে জোরালোভাবে প্রতীকায়িত করে।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকটি 'বিড়াল' রচনার ভাবসত্যের যেন প্রতীকী রূপ—এই মত অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। সাজাহানের জীবন সংগ্রাম, শোষণ এবং নির্যাতনের চিত্র 'বিড়াল' প্রবন্ধের মূল বার্তা, অর্থাৎ ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য, শ্রমের মর্যাদা এবং মানবিক অধিকারের প্রশ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। উভয় ক্ষেত্রেই শোষণ, বঞ্চনা এবং ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বেদনা একই সুরে বাঁধা।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
559
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews