বরের ভাগ্নে হিসেবে বিয়ের একদিন আগেই উপস্থিত হওয়া 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের কিশোরটির প্রতি চৌধুরীদের আতিথেয়তা ছিল আন্তরিক। চৌধুরীরা হবু আত্মীয় হিসেবে সৌহার্দ নিয়ে তাকে বরণ করে।
'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পে কিশোর ছেলেটির পরীক্ষা থাকায় সে বাড়ির সবার সঙ্গে মেজো মামার বিয়েতে যেতে পারে না। ছোটোমামার পরামর্শক্রমে সে বিয়ের দিন দুপুর সাড়ে বারোটার ট্রেনে কনের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়ে ভুল করে বারোটায় ভুল ট্রেনে উঠে পড়ে। সেই ট্রেনে পরিচয় হওয়া এক ভদ্রলোকের সাথে দৈবভাবে তার হবু আত্মীয় বাড়ির সবকিছুই মিলে যাওয়ায় সে ভুল চৌধুরী বাড়িতে উপস্থিত হয়। বরের ভাগ্নে হিসেবে তারা সানন্দে গ্রহণ করে তাকে। তাকে আন্তরিকতার সাথে আদর-আপ্যায়ন করে। যত্ন করে খাওয়াদাওয়া করায়। কিশোরটির ভাষায় যা বিয়ের খাবারকেও হার মানায়। সেই বাড়ির সমবয়সি ছেলেরা তাকে নিয়ে পদ্মবিলে শিকারে চলে যায়। অনেক আনন্দ-ফূর্তি করে তারা। এমনকি তার ভুল করে ভুল বিয়ে বাড়িতে এসে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ হলেও চৌধুরীরা তার সাথে মার্জিত আচরণ করে। তারা তার মামাবাড়িতে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে ছোটোমামাকে ডেকে এনে বিষয়টি খোলাসা করে।
পরিশেষে বলা যায়, 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের কিশোর ছেলেটি নিজের মামার শ্বশুরবাড়ি ভেবে ভুল চৌধুরীদের বাড়িতে উপস্থিত হলেও তাদের আতিথেয়তা ছিল সৌহার্দপূর্ণ। তারা তাকে বরের ভাগ্নে হিসেবে আন্তরিকতা নিয়েই গ্রহণ করেছিল।
Related Question
View All'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের কিশোর ছেলেটির মেজো মামার বিয়ে। বিয়ের তিন দিন আগে ছোটো মামা সবাইকে নিয়ে গেলেও পরীক্ষার কারণে কিশোরটি যেতে পারবে না। ছোটোমামা তখন কিশোর ছেলেটিকে সরাসরি কনের বাড়িতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলে কিশোরটি মামার বিয়েতে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়।
'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পে কিশোর ছেলেটির স্কুলে পরীক্ষা চলছে। এমন সময়ে তার মেজো মামার বিয়ে ঠিক হয়। মেজোমামা ও ছোটোমামা তাদের বাড়িতে আসেন নিমন্ত্রণের জন্য। মেজোমামা একদিন পর চলে যান। ছোটোমামা বিয়ের তিন দিন আগে সবাইকে নিয়ে যাওয়ার জন্য থেকে যান। কিন্তু কিশোর ছেলেটি তার পরীক্ষা থাকার কারণে বাদ পড়ে যায়। এমতাবস্থায় ছোটোমামা মেজোমামার বিয়েতে যাওয়ার একটি পরামর্শ দেন। পরামর্শটি শুনে কিশোর ছেলেটি আশান্বিত হয়।
মেজোমামার বিয়ে সতেরো তারিখে। কিশোরটির পরীক্ষা শেষ হবে ষোলো তারিখে। ফলে আগের দিন পরীক্ষা শেষ হলেও মামার বিয়েতে উপস্থিত থাকা অনিশ্চিত হয়ে যায় ছেলেটির জন্য। সতেরো তারিখে সাড়ে বারোটার ট্রেনে চড়লেও পৌছাতে সন্ধ্যা সাতটা বাজবে। ততক্ষণে তার মামা বরযাত্রীসহ বিয়েতে রওনা হয়ে যাবেন। কিশোরটির কাছে মনে হয় বরযাত্রী হিসেবে না যেতে পারলে বিয়েতে যাওয়ার কোনো মানে নেই। এমন সময়ে ছেলেটির মনোবাসনা পূরণে এগিয়ে আসেন ছোটোমামা। কিশোরটিকে মামাবাড়ি না গিয়ে সরাসরি কনের বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ছোটোমামার পরামর্শ শুনে কিশোরটি আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে।
ছোটোমামা ছেলেটিকে সতেরো তারিখ সাড়ে বারোটার ট্রেন ধরে সোজা কনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বলেন। সরাসরি সেখানে গিয়ে সে বরযাত্রীর সাথে মিলিত হতে পারবে। তাহলে তার বিয়ে উপভোগ করা কিংবা বিরিয়ানি খাওয়া কোনোটাই বাদ যাবে না। ছোটোমামা কনের বাড়ির স্টেশনের নাম ভুলে যান। অনেক ভেবেচিন্তে ছোটোমামা আরেকটা বুদ্ধি বের করেন। তিনি জানেন, ঢাকা থেকে বারোটি স্টেশন পরে কনের বাড়ি। সেখানে চৌধুরীদের নাম বললেই লোকে চিনিয়ে দেবে। চৌধুরীরা ওই এলাকার নামকরা লোক। মেজোমামা চৌধুরীদের মেয়েই বিয়ে করছেন। কিশোরটি যদি ঢাকা থেকে গুনে গুনে বারোটি স্টেশন পরে নেমে চৌধুরীদের পরিচয় দেয়, সহজেই সে মেজোমামার হবু শ্বশুরবাড়ি পৌছাতে পারবে।
ছোটোমামার পরামর্শ মন দিয়ে শুনে কিশোরটি উদ্বুদ্ধ হয়। সে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে মামার বিয়েতে উপস্থিত হতে পারার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!