ইয়ামেন' শব্দের অর্থ সুখী বা সৌভাগ্যবান।
কিউনিফর্ম হলো সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতি।
সভ্যতার প্রথম দিকে সুমেরীয় লিপি ছিল মিসরীয়দের মতো চিত্রলিপিভিত্তিক। পরবর্তীকালে নিজেদের লেখাকে গতিশীল করতে তারা নতুন লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে, যা 'কিউনিফর্ম' (Cuneiform script) বা কীলকাকর নামে পরিচিত। সুমেরীয়রা কাদামাটির প্লেটে খাগের কলম (Reed Pen) দিয়ে কৌণিক কিছু রেখা ফুটিয়ে তুলত। খাঁজকাটা চিহ্নগুলো দেখতে অনেকটা ছিল তীরের মতো। কিউনিফর্মকে বলা হয় অক্ষরভিত্তিক চিত্রলিপি। এ লিপি বামদিক থেকে ডানদিকে লেখা হতো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সভাপতির নিয়মনীতির সাথে প্রাচীন সুমেরীয় সম্রাট ভুগির প্রণীত আইনের সাদৃশ্য রয়েছে।
সুশৃঙ্খল ও সুন্দর সমাজব্যবস্থার জন্য আইনের কোনো বিকল্প নেই। সুমেরীয় সভ্যতায় এজন্য আইনের প্রবর্তন করা হয়েছিল। একই উদ্দেশ্যে অর্থাৎ শৃঙ্খলা রক্ষার্থে উদ্দীপকেও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনের ন্যায় কিছু নিয়ম-নীতি প্রবর্তিত হয়েছে। উদ্দীপকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি যেমন সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেন, তেমনি সুমেরীয় সম্রাট ভুলি সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য সুমেরীয় আইন প্রণয়ন করেন। ভুঙ্গি তার সাম্রাজ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রচলিত আইনগুলো সংগ্রহ করে সংকলন করেন। প্রতিটি অপরাধের জন্য অপরাধীকে সমান কষ্টদায়ক সাজা প্রদান সুমেরীয় ফৌজদারি আইনের বিধান ছিল। এক্ষেত্রে চোখের বদলে চোখ, অঙ্গের বদলে অঙ্গ কর্তনের বিধান ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজেকে বা তার পরিবারকে উদ্যোগী হয়ে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করতে হতো। বিচারালয় তখন বাদি ও বিবাদির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী বা সংযোগ স্থাপনকারী হিসেবে কাজ করতো। উদ্দীপকের সভাপতিও তার গভর্নিং বডি পরিচালনার জন্য উক্ত সম্রাটের ন্যায় কিছু নিয়ম তৈরি করেছেন। এ নিয়মে কর্তব্যে অবহেলা ও অন্যায়ের জন্য শাস্তির বিধানও রয়েছে। তাই এ নিয়মনীতিকে সম্রাট ডুঙ্গির প্রণীত আইনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
শুধু নিয়ম-নীতি প্রণয়নই নয়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও সুমেরীয়রা ব্যাপক অবদান রেখেছিল।
বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সুমেরীয়রা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তারা বছরকে ১২ মাস, দিন-রাত্রিকে ঘণ্টায় এবং ঘণ্টাকে মিনিটে বিভক্ত করে। দিন এবং রাতের সময় নিরূপণের জন্য সুমেরীয়রা পানিঘড়ি ও স্বর্ণঘড়ি আবিষ্কার করে। তারা ২৪ ঘন্টায় এক দিন, ৭ দিনে এক সপ্তাহ এবং ৬০ মিনিটে এক ঘন্টার নিয়ম প্রবর্তন করে। তারা গুণ, ভাগ, বর্গমূল ও ঘনমূলের ব্যবহার জানত। তারা '০' (শূন্য)-এর আবিষ্কার করে। কাপড় ও জমি পরিমাপের জন্য সুমেরীয়রা কাঠের পরিমাপদণ্ড ব্যবহার করত।
উদ্দীপকে গভর্নিং বডির সভাপতি নিয়মনীতি প্রণয়নের পাশাপাশি তার সদস্যদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
একইভাবে সুমেরীয়রাও আইন প্রণয়নের সাথে সাথে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখেছিল। সুমেরীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্য ও চন্দ্রের আপেক্ষিক অবস্থিতি নির্ণয় করেছিল এবং গ্রহের সময় নিরূপণ করতে সক্ষম হয়েছিল। পরিবর্তনশীল তারকারাজির প্রতি তাদের আগ্রহ থাকায় নভোমণ্ডল সম্বন্দ্বে জ্ঞান প্রসার লাভ করে। তারা রাশিচক্রকে বারো ভাগে ভাগ করে নক্ষত্রপুঞ্জের নামকরণ করে। সুমেরীয়রা চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ সম্বন্দ্বেও ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম ছিল। সুমেরীয়দের চিকিৎসাশাস্ত্র জাদুবিদ্যা দ্বারা প্রভাবিত ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ২২০০ অব্দে সুমেরীয় চিকিৎসকেরা বেশ কিছু রসায়নের গুণ ও প্রণালী নির্ণয় করে। ভেষজ চিকিৎসাশাস্ত্রেও তারা অধিক সাফল্য দেখিয়েছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, আইনের পাশাপাশি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সুমেরীয়রা যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধন করেছিল।
Related Question
View Allপেপিরাস হলো নীল নদের তীরে জন্ম নেওয়া নলখাগড়া জাতীয় এক ধরনের ঘাস বা উদ্ভিদ, যা দিয়ে মিসরীয়রা কাগজ আবিষ্কার করে।
মিসরীয়রা চিত্রলিপিভিত্তিক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে সভ্যতার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছে।
মিসরীয়দের লিখন পদ্ধতি 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) নামে পরিচিত। হায়ারোগ্লিফিক অর্থ পবিত্র লিপি। এটি ছিল একটি লিখিত ভাষা। এ ভাষায় নানাপ্রকার দ্রব্য, প্রাকৃতিক বিষয় প্রভৃতির ছবি আঁকা থাকত, যার মাধ্যমে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হতো। হায়ারোগ্লিফিক শিলালিপি প্রথমে তৈজসপত্র, ফলক এবং কবরের গায়ে খোদাই করা হতো। পরে মিসরে কাগজ আবিষ্কৃত হলে এতে এ লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। এ লিখন পদ্ধতি তিনটি রূপে বিকাশ লাভ করেছে।
যথা: চিত্রভিত্তিক, অক্ষরভিত্তিক এবং বর্ণভিত্তিক। প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে প্রাচীন মিসরীয় লিপি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর মতোই নীল নদ মিসরীয় সভ্যতার কৃষির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছিল।
প্রাচীন সভ্যতাসমূহের মধ্যে মিসরীয় সভ্যতা অন্যতম। মিসরকে নীল নদের দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। কেননা মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। মিসরের ক্ষেত্রে নীল নদের এ অবদানই চীনের হোয়াংহো নদীর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
হোয়াংহোকে চীনের দুঃখ বলা হলেও চীনা সভ্যতার বিকাশে এ নদী বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। নদীর অববাহিকায় কৃষিকাজ ও প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা, ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও হোয়াংহো নদী অবদান রেখেছে। মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষ করা যায়। এ সভ্যতার বিকাশে নীল নদের ভূমিকা অতুলনীয়। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারী জনগণ পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ, পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করেছিল। আর এ ক্ষেত্রে তারা বেশ উপকৃতও হয়েছিল। ঘর-গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীল নদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মরুভূমিতে পরিণত হওয়া মিসর নীল নদের দানের ফলেই শস্য-শ্যামল ও সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত চীনা সভ্যতায় হোয়াংহো নদীর ভূমিকা মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রে নীল নদের অবদানেরই ইঙ্গিত বহন করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটের কফিন যেমন পাথরের দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে, তেমনি মিসরীয় সভ্যতায় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ মমি করে সংরক্ষণ করা হতো।
মিসরীয়রা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। আর তাদের এ ধর্ম বিশ্বাসের ছাপ পড়েছিল স্থাপত্যিক নিদর্শনে। তারা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিল। পিরামিড ছিল তাদের স্থাপত্য শিল্পের অসাধারণ সৃষ্টি। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই তারা নির্মাণ করেছিল প্রকাণ্ড সৌধের এ পিরামিডগুলো। আর এ ধরনের বিশ্বাস থেকে নির্মিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কথাই উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে।
উদ্দীপকে সম্রাটের কফিন সুরক্ষিত রাখতে পাথরের নির্মিত সশস্ত্র সৈন্যের পাহারা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে মিসরীয়রা তাদের ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য পিরামিড নির্মাণ করেছিল। তারা বিশ্বাস করত ফারাওদের মৃত্যুর পর তাদের আত্মা স্বর্গে চলে যায় এবং সেখানে দেবতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু মৃত ফারাওদের শরীর পচে গেলে এক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এজন্য তারা মৃতদেহ প্রক্রিয়াজাত করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করত। এ মৃতদেহগুলোকে যেখানে কবর দেওয়া হতো, সেসব স্থান আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হতো। এসব কবরে দেওয়া হতো সিন্দুকভর্তি অমূল্য গহনা, ধাতব তৈজসপত্র, মুদ্রা, দামি কাপড় প্রভৃতি। মৃত ফারাওদের দেহ ও মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তার জন্য মিসরীয়রা বড় বড় পাথরখণ্ড কেটে পিরামিড নির্মাণ করত। এগুলো ছিল জ্যামিতিক ত্রিভুজের আকৃতিতে তৈরি অতি উঁচু এক একটি সমাধিসৌধ।
পরিশেষে বলা যায়, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটদের কফিন এবং মিসরীয় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। তাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই পাথরের দেয়াল দ্বারা মৃতদেহ সংরক্ষণের পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়।
মালা হলো প্রাক-ইসলামি আরবের একটি রাজনৈতিক সংগঠন বা মন্ত্রণাসভা
আরবের উকাজ মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতটি কবিতাকে সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বা 'সপ্ত ঝুলন্ত' কবিতা বলা হতো।
মক্কার নিকটবর্তী উকাজের বার্ষিক মেলায় আরবের প্রখ্যাত কবিগণ কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। উকাজের বাৎসরিক সাহিত্য সম্মেলনে সাতটি কবিতাকে পুরস্কৃত করা হতো। সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে এ কবিতাগুলো মক্কায় কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। এ কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু ছিল প্রেম, যুদ্ধবিগ্রহ, বীরত্বপূর্ণ কাহিনি, বংশ গৌরব, আরব . সমাজের আতিথেয়তা, স্বাধীনচেতা মনোভাব ইত্যাদি। এ কবিতাগুলোই সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা বা সাবায়ে মুয়াল্লাকাত নামে পরিচিত ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!