ইলেকট্রনিক কমার্সকে সংক্ষেপে বলে ই-কমার্স।
ব্যক্তির সামাজিকীকরণে যেসব মাধ্যম ভূমিকা রাখে তার মধ্যে ভাষার গুরুত্ব অত্যধিক। মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ভাষা। সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় ভাষার মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। ভাষার মাধ্যমে ব্যক্তি তার মনের ভাব প্রকাশ করে। তাছাড়া একে অন্যকে জানা কিংবা নিজের দেশ ও সমাজ এবং বহির্জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, শিক্ষা গ্রহণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভাষা গুরত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই নয় ভাষা ব্যক্তির শৈশব থেকে ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'চ'-এর সামাজিকীকরণে স্থানীয় সমাজের বিভিন্ন উপাদানের প্রভাব রয়েছে।
সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। জন্মের পর হতে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন ও খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়াই হলো সামাজিকীকরণ। সামাজিকীকরণে নানা উপাদানের মধ্যে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে 'চ'-এর সামাজিকীকরণেও স্থানীয় সমাজের প্রভাব লক্ষণীয়। কারণ 'চ' নামক ছাত্র বাসা' কিংবা বিদ্যালয়ে কারও সাথে সহজে মিশতে চায় না। তার বাবা তাকে একটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনে ভর্তি করে দেয়। এরপর সে ধীরে ধীরে সবার প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে। যা স্থানীয় সমাজের বিভিন্ন উপাদানকে নির্দেশ করে। স্থানীয় সমাজের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, সমিতি, সাংস্কৃতিক সংঘ, খেলাধুলার ক্লাব, সংগীত শিক্ষাকেন্দ্র, বিজ্ঞান ক্লাব প্রভৃতি। এসব সংগঠন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি ও আচার-আচরণের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এসব সংগঠনে জড়িয়ে ব্যক্তি তার বৃদ্ধিবৃত্তি, সুকুমার বৃত্তি ও সৌন্দর্যবোধ জাগিয়ে তোলে। এ বোধ পরস্পরের প্রতি সহনশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়।
অতএব নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ব্যক্তির সামাজিকীকরণে স্থানীয় সমাজের প্রভাব অপরিসীম।
হ্যাঁ, "ল'-এর পরিস্থিতির জন্য তার পরিবারই দায়ী" প্রশ্নোক্ত উক্তিটির সাথে আমি একমত পোষণ করি।
কেননা ব্যক্তি সামাজিকীকরণে পরিবার হলো প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। পরিবার থেকে শিশু আবেগ, অনুভূতি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রপ্ত করে। সমাজ স্বীকৃত বিভিন্ন বিষয়কে পরিবার থেকে অর্জন করে। খাদ্যাভ্যাস, ধর্মচর্চা, শিক্ষাগ্রহণ প্রভৃতি পারিবারিক সংস্কৃতির প্রতিফলন সরাসরি ব্যক্তির ওপর পড়ে। তবে পারিবারিক অসচেতনতা ও দায়িত্ব-কর্তব্যের অবহেলা শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণকে বাধাগ্রস্ত করে। উদ্দীপকে 'ল'-এর ক্ষেত্রে তেমনটিই লক্ষ করা যায়। 'ল' স্কুলে না গিয়ে বখাটেদের সাথে মিশতে থাকে। পরিবারের কারও কথা সে শুনতে চায় না।
আর এ পরিস্থিতির জন্য পরিবারই দায়ী। কারণ পরিবারের সদস্যদের আচার-আচরণ শিশুর আচরণের পারস্পরিক পরিবেশ সামাজিকীকরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশু ক্রমশ জেদি ও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। এছাড়া বাবা-মায়ের অসচেতনতা, শিশুর প্রতি তাদের দায়িত্বের অবহেলা শিশুকে অসহায় ও নিঃসঙ্গ করে তোলে। ফলে তার আচার-আচরণ হয় আক্রমণাত্মক। আবার পারিবারিক অবহেলা অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। সে খারাপ সঙ্গীদের সাথে মিশে সামাজিক বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। পারিবারিক ভালোবাসা ও স্নেহের অভাব এবং শিশুর মৌলিক অধিকারসমূহ প্রদানে ব্যর্থতা কোনো শিশুকে সামাজিকভাবে বিপদগ্রস্ত করে তোলে। পিতামাতার বিরূপ সম্পর্ক ও শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণকে বাধাগ্রস্ত করে।
পরিশেষে বলা যায়, পরিবার হচ্ছে সামাজিকীকরণের মূলভিত্তি, এ ভিত্তি যদি নড়বড়ে হয় তবে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ হয় না। এজন্য সামাজিকীকরণে পরিবারের যথাযথ ভূমিকা অত্যাবশ্যক।
Related Question
View Allসামাজিকীকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষ সমাজের রীতিনীতি, নিয়মকানুন ও মূল্যবোধ শেখে। জন্মের পর থেকেই মানব শিশু পরিবার, প্রতিবেশী, সমবয়সী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এর ফলে সে সমাজের একজন উপযোগী সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে।
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে। এটি পরিবার, প্রতিবেশী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তির মূল্যবোধ, আচরণ ও চিন্তাধারা গঠনের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সমাজের সঙ্গে মানুষের সামঞ্জস্য সাধনে সাহায্য করে।
পরিবার সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। শিশুর আবেগ, আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মচর্চা এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মতো বিষয়গুলো পারিবারিক পরিবেশে গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন হয়। এজন্য পরিবারকে সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়।
প্রতিবেশী শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুর চারপাশের মানুষের আচরণ, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ তার আচরণে প্রভাব ফেলে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করে শিশু সমাজের নিয়ম ও রীতিনীতি সহজে আয়ত্ত করে। এটি তার সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংঘ, বিজ্ঞান ক্লাব এবং খেলাধুলার ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সাহায্য করে। এসব সংগঠনে অংশগ্রহণ করে শিশু সহনশীলতা, বুদ্ধিবৃত্তি ও সৌন্দর্যবোধের বিকাশ ঘটায়। এতে শিশু স্থানীয় সমাজের অংশ হয়ে ওঠে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সংগঠন এবং ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু সহনশীলতা, সহযোগিতা ও সৃজনশীলতা শেখে। এটি তাকে সমাজের কার্যকর অংশীদার হতে সাহায্য করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!