ছক খ-এর মাধ্যমে অর্থাৎ মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থা সমগ্র দেশে বিস্তার লাভ করে- উক্তিটি সঠিক।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো স্তরভিত্তিক। এর দুটি প্রধান স্তর রয়েছে। প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন। মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলার পরে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ছক খ-এর প্রথম স্তরটিও বিভাগীয় প্রশাসন এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরটি যথাক্রমে জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন। যা মাঠ প্রশাসনের সাথে সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এই মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থা সমগ্র দেশে বিস্তার লাভ করে।
দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়। আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়। মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে আটটি বিভাগ রয়েছে। প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন বিভাগীয় কমিশনার। কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান করেন। ভূমি রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করেন এবং খাস জমির তদারক করেন। বিভাগের ক্রীড়া উন্নয়ন, শিল্পকলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। জেলা প্রশাসন মাঠ বা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তর। এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন জেলা প্রশাসক। তিনি জেলার প্রশাসনিক কাজ, রাজস্বসংক্রান্ত কাজ, উন্নয়নমূলক কাজ ও স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত কাজ তত্ত্বাবধান করেন। উপজেলার প্রধান প্রশাসক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। উপজেলার প্রশাসনিক কাজ তদারক করা তার অন্যতম দায়িত্ব।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থা মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সমগ্র দেশে বিস্তার লাভ করে। আর এ কারণেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি আমি সঠিক বলে মনে করি।
Related Question
View Allশাসন বিভাগের অপর নাম নির্বাহী বিভাগ।
মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান করে বিভাগীয় প্রশাসন। তবে বিভাগের সব কাজ সম্পন্ন করা হয় বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে। তিনি কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
'A' চিহ্নিত স্থানটি সরকারের আইন বিভাগকে নির্দেশ করছে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম। বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় জাতীয় সংসদ যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সব ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। সংসদ যেকোনো আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে।
জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও 'মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের কাছে দায়ী থাকে। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো কর বা খাজনা আরোপ ও আদায় করা যায় না। সংসদ প্রতি বছর জাতীয় বাজেট পাস করে। সংসদ সংবিধানে উল্লিখিত নিয়মের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে এজন্য সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার হয়। সুতরাং বলা যায়, আইন বিভাগের কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' চিহ্নিত বিভাগটি হলো নির্বাহী বিভাগ এবং 'A' চিহ্নিত বিভাগটি হলো আইন বিভাগ। বাংলাদেশে আইন বিভাগ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।
সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভার স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের যেসব কাজ করতে হয় সেগুলো হলো- আইনসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ এবং বিচারসংক্রান্ত কাজ। এই তিন প্রকার কাজ সম্পাদন করার জন্য আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। তবে আইন বিভাগের কাজের পরিধি ব্যাপক। এটি শুধু আইন প্রণয়নই করে না, নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণও করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙেযায়। মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, অনাস্থা প্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, সংসদীয় বিভিন্ন কমিটি ও সংসদে সাধারণ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট, আইন বিভাগের সাথে নির্বাহী বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। আইন বিভাগ তথা জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে।
যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল।
রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রশাসনকে রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ড বলা হয়।
রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনার দায়িত্ব প্রশাসনের। রাষ্ট্রের ভিতরে শান্তি- শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সুষ্ঠু প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রশাসন রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!