ছকের প্রশ্নবোধক চিহ্নের শূন্যস্থান দুটির প্রথমটি হবে 'প্রজাতন্ত্র' এবং শেষেরটি হবে 'যুক্তরাষ্ট্রীয়'।
সংবিধান কর্তৃক কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক বা অঙ্গরাষ্ট্রীয় সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের নীতি অনুসারে সরকার এককেন্দ্রিক কিংবা যুক্তরাষ্ট্রীয় হতে পারে।
সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যগণ একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধনে আবদ্ধ।
মন্ত্রিগণ আইনসভার সদস্য। মন্ত্রিসভার সদস্যগণ ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। কোনো মন্ত্রী আইনসভার সদস্য না হলে তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হতে হয়। মন্ত্রিগণ প্রধানমন্ত্রীর সহকর্মী এবং বিশেষ মর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী।
অপরদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে মন্ত্রিগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর তারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন। মন্ত্রিগণ রাষ্ট্রপতির আজ্ঞাবহ কর্মচারীমাত্র। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে মন্ত্রিগণ আইনসভার সদস্যও নন এবং আইনসভার নিকট দায়ীও নন। মন্ত্রিগণ সরাসরি রাষ্ট্রপতির নিকট তাদের কাজকর্মের জন্য দায়ী থাকেন বা জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার অপেক্ষা সংসদীয় সরকারব্যবস্থা মন্ত্রীদের ক্ষমতা, মর্যাদা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি অনেক বেশি।
বর্তমান সময়ে প্রচলিত সব ধরনের শাসনব্যবস্থার ভালোমন্দের তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ করলে একথা বলতে বাধ্য হতে হয় যে, এসবের মধ্যে গণতন্ত্রই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ শাসনব্যবস্থা। কেননা গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের শাসন। গণতন্ত্র ব্যতীত ফ্যাসিবাদী, সর্বাত্মকবাদী বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা থাকে না, মুক্তবুদ্ধি ও বিবেকের স্বাধীনতা থাকে না।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিশেষ করে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভার নিকট শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য জবাবদিহি করে।
আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। আইনসভার সদস্যগণ জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। এর অর্থ হলো মন্ত্রিসভা পরোক্ষভাবে জনগণের নিকটই জবাবদিহি করে। গণতন্ত্রে একাধিক রাজনৈতিক দলের উদ্ভব ঘটে। ফলে এক ব্যক্তির বা এক দলের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না.। এছাড়া গণতন্ত্রে প্রচার মাধ্যমগুলো স্বাধীন ও মুক্ত থাকে বলে সবসময় অগণতান্ত্রিক ও অশুভস্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ সদাজাগ্রত থাকে।
গণতন্ত্র জনগণের সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা। আলাপ-আলোচনা ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে গণতান্ত্রিক সরকার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। কে বা কোন দল দেশ শাসন করবে তা ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। ফলে বিপ্লব বা অস্বাভাবিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন পড়ে না।
Related Question
View Allগণচীনে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত।
বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।
A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।
উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।
শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।
এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।
সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!