গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় আব্রাহাম লিঙ্কন বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা পরিচালিত জনগণের সরকার।"
একনায়কতন্ত্র হচ্ছে এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকারের সমস্ত ক্ষমতা একজন ব্যক্তি বা একনায়কের হাতে কুক্ষিগত থাকে। এটি গণতন্ত্রের বিপরীতধর্মী শাসনব্যবস্থা। অধ্যাপক নিউম্যানের মতে, "একনায়কতন্ত্র বলতে আমরা এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থাকে বুঝি যেখানে এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা করায়ত্ত করেন এবং বাধাহীন বা একচেটিয়াভাবে তা প্রয়োগ করেন।"
উদ্দীপকে 'ক' সরকার হচ্ছে গণতান্ত্রিক সরকারণ আর 'খ' সরকার হচ্ছে একনায়কতান্ত্রিক সরকার। 'ক' সরকার অর্থাৎ গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত, একাধিক দলের উপস্থিতি রয়েছে, প্রচার মাধ্যমেগুলো মুক্ত ও স্বাধীন। আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়। -এতে তাদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। তাছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা পরিবর্তনের ব্যবস্থা থাকায় কোনো ধরনের বিদ্রোহ বা বিপ্লবের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে, 'খ' সরকার অর্থাৎ একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় সকল ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত রয়েছে। একটি মাত্র দলের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রচার মাধ্যমগুলো সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। আইনসভার প্রকৃতি অনেকটা প্রহসনমূলক। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় শাসক যুক্তি অপেক্ষা পেশিশক্তিতে বেশি বিশ্বাস করে। একনায়কতন্ত্র উগ্র জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। "এক নেতা, এক জাতি, এক দেশ"- এটাই একনায়কতন্ত্রের মূলমন্ত্র।
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' সরকারের মধ্যে আমি 'ক' সরকারকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করি। 'ক' সরকার হচ্ছে গণতান্ত্রিক সরকার এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত, একাধিক দলের উপস্থিতি রয়েছে, প্রচার মাধ্যমগুলো মুক্ত ও স্বাধীন। আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। এখানে জনগণই হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস।
জনগণ নিজেরাই নিজেদের মধ্য থেকে সরকার নির্বাচন করে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়। সরকারকে জনগণের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় যেতে হয়। আবার জনগণের আস্থা বা সমর্থন হারালে সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়। এতে তাদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। তাছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা পরিবর্তনের ব্যবস্থা থাকায় কোনো ধরনের বিদ্রোহ বা বিপ্লবের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে, 'খ' সরকার হচ্ছে একনায়কতান্ত্রিক সরকার। এখানে সকল ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত থাকে। একটি মাত্র রাজনৈতিক দলের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রচার মাধ্যমগুলো সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত থাকে। ফলে জনগণের বাকস্বাধীনতা থাকে না। আইনসভার প্রকৃতি অনেকটা প্রহসনমূলক হয়ে থাকে। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় শাসক যুক্তি অপেক্ষা পেশি শক্তিতে বেশি বিশ্বাস করে। জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা বলতে কিছুই থাকে না। কিন্তু সরকার গঠনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে জনগণের কল্যাণ সাধন করা। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলব, 'খ' সরকারের চেয়ে 'ক' সরকার শ্রেষ্ঠ।
Related Question
View Allগণচীনে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত।
বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।
A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।
উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।
শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।
এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।
সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!