'ম্যাগনাকার্টা' ইংল্যান্ডের অধিকার সনদ।
ব্রিটিশ সংবিধান ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।
সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি হল ক্রমবিবর্তন পদ্ধতি। বিবর্তনের মাধ্যমে সংবিধান গড়ে উঠতে পারে। যেমন- ব্রিটেনের সংবিধান ক্রমবিববর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে লোকাচার ও প্রথার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে সংবিধান কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না, ধীরে ধীরে গড়ে উঠে। তাই বলা হয়, ব্রিটিশ সংবিধান তৈরি হয়নি, গড়ে উঠেছে।
ছকটিতে একটি সংবিধানের কিছু বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে একটি আদর্শ সংবিধানের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। এগুলো হলো সুস্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, জনমতের প্রতিফলন ও সুষম প্রকৃতির সংবিধান। এই বৈশিষ্ট্যগুলো উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। নিচে উত্তম সংবিধানের সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের সাদৃশ্য উপস্থাপন করা হলো-
সুষ্পষ্ট: উত্তম সংবিধানে অধিকাংশ বিষয় লিখিত থাকে। এ সংবিধানের ভাষা সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল হয়। এ কারণে উত্তম সংবিধান সকলের নিকট সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়। বাংলাদেশের সংবিধানও সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় লিখিত।
সংক্ষিপ্ত: উত্তম সংবিধান সংক্ষিপ্ত হয়। অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় উত্তম সংবিধানে স্থান পায় না। বাংলাদেশের সংবিধানেও অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় স্থান পায়নি।
জনমতের প্রতিফলন: উত্তম সংবিধান জনমতের ভিত্তিতে প্রণীত হয়। এ
সংবিধানে জনগণের চাহিদা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। তাছাড়াও সামাজিক রীতিনীতি ও ঐতিহ্য এ সংবিধানে প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানও জনগণের চাহিদা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে প্রণীত হয়েছে এবং এতে জনমতের প্রাধান্য রয়েছে।
সুষম প্রকৃতির: উত্তম সংবিধান সুষম প্রকৃতির। এর অর্থ উত্তম সংবিধান সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের মাঝামাঝি অবস্থান করে। ফলে উত্তম সংবিধান সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানও সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের মাঝামাঝি অবস্থান করে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়েও চলতে পারে। ছকে উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায়, ছকটির সংবিধান অর্থাৎ উত্তম সংবিধানের সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের পুরোপুরি সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, ছকে উল্লিখিত সংবিধানটিই সকল রাষ্ট্রের কাম্য। আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
ছকটিতে সংবিধানের যে বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে তা একটি উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য। এ সংবিধান একটি রাষ্ট্রের জন্য যেমন কার্যকর, তেমনি নাগরিকের জন্যও কল্যাণকর। একটি উত্তম সংবিধান পৃথিবীর প্রত্যেকটি রাষ্ট্রই কামনা করে। কারণ উত্তম সংবিধানের অধিকাংশ বিষয় লিখিত থাকে। এ সংবিধানের ভাষা সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল হয়। ফলে তা সকলের কাছে সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় কোনো বিষয় স্থান পায় না বলে তা সংক্ষিপ্ত হয়। ফলে সে অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা সহজতর হয়।
নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে উত্তম সংবিধানে। জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। এ সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয় ও সুপরিবর্তনীয় এ দুই অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থান করে। ফলে তা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। এ সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া যথেচ্ছা নয় তা সংবিধানে উল্লেখ থাকে। ফলে শাসক ইচ্ছামতো দেশের সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করলে দেখা যায়, উত্তম সংবিধান একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের পথকে সুগম করে। তাই এমন সংবিধান বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রই কামনা করে।
আমরা রাষ্ট্রে বাস করি। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। এসব নিয়মাবলির সমষ্টিকে সংবিধান বলে । সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় । সংবিধানকে বলা হয় রাষ্ট্রের দর্পণ বা আয়নাস্বরূপ । সংবিধানে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, শাসকের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও শাসকের সম্পর্ক কিরূপ হবে তা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে । কাজেই রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন । এ অধ্যায়ে আমরা সংবিধানের ধারণা, সংবিধানের গুরুত্ব, সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, বিভিন্ন প্রকার সংবিধানের বৈশিষ্ট্য, বাংলাদেশের সংবিধান তৈরির ইতিহাস, এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এবং বিভিন্ন সংশোধনী সম্বন্ধে জানব ।
এ অধ্যায় পড়া শেষে আমরা-
- সংবিধানের ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- সংবিধান প্রণয়নের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব।
- বাংলাদেশের সংবিধান রচনার ইতিহাস বর্ণনা করতে পারব।
- বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী বর্ণনা করতে পারব ।
Related Question
View All১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন যে অধিকার সনদ প্রণয়ন করেছিলেন তার নাম 'ম্যাগনাকার্টা'।
একটি রাষ্ট্রকে সঠিক ও যথার্থভাবে পরিচালনা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সুষ্ঠু সংবিধান প্রণয়ন অপরিহার্য।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সংবিধানে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, শাসকের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও শাসকের সম্পর্ক কীরূপ হবে তা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। জনগণের মৌলিক অধিকার কী কী এবং কীভাবে সংরক্ষিত হবে তাও সংবিধান নির্দিষ্ট করে। সংবিধান ছাড়া একটি সভ্য রাষ্ট্র পরিচালনার কথা কল্পনা করা যায় না। তাই বলা যায়, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বিক দিক পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন।
'ক' সংগঠনটি পরিচালনার নিয়মাবলি অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অলিখিত সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- এটি ঐতিহাসিকভাবে উদ্ভূত সাধারণ প্রচলিত প্রথা, রীতি-নীতি, অভ্যাস-আচরণের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না। অলিখিত সংবিধানের পরিবর্তন প্রক্রিয়াও সহজ। অলিখিত সংবিধান ব্যবস্থায় সাধারণ আইন-কানুন ও শাসনতান্ত্রিক আইনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
উদ্দীপকের 'ক' নামক সামাজিক সংগঠনটি চিরাচরিত নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এর নিয়মগুলো কোথাও লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। এখানে মূলত অলিখিত সংবিধানের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা 'ক' নামক সংগঠনের নিয়মগুলোর বৈশিষ্ট্যে উপরে আলোচিত অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' সংগঠন পরিচালনার নিয়মাবলির সাথে অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ।
'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলির সাথে লিখিত সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে। 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালনার নিয়মাবলির মধ্যে আমি 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম বলে মনে করি।
লিখিত সংবিধানের অধিকাংশ ধারা লিখিত থাকে বলে এটি জনগণের নিকট সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়। এতে সাধারণত সংশোধন পদ্ধতি উল্লেখ থাকে বিধায় খুব সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। আবার লিখিত সংবিধান স্থিতিশীল বিধায় শাসক তার ইচ্ছামতো এটি পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে না। লিখিত সংবিধানের সকল ধারা জনগণ ও শাসক মেনে চলতে বাধ্য হয়। সংবিধান লিখিত থাকায় জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়।
অন্যদিকে অলিখিত সংবিধান অস্পষ্টতা দোষে দুষ্ট। শাসক-শাসিতের সম্পর্ক বা অন্যান্য বিষয়গুলো এ সংবিধানে লিখিত থাকে না। সে কারণে শাসক ও শাসিত তাদের সুনির্দিষ্ট অধিকার, কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা গ্রহণ করতে পারে না। ফলে শাসনব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার অধিক পরিবর্তনশীলতার কারণে সংবিধানে স্থায়ী নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অলিখিত সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবার আশঙ্কা থাকে।
উদ্দীপকের 'খ' নামক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও স্কুল পরিচালনায় সুস্পষ্টভাবে লিখিত নিয়মকানুন মেনে চলেন এবং যেকোনো ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হন। তাই আমি মনে করি 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির নিয়মাবলির মধ্যে 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম।
বাংলাদেশের সংবিধান ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে কার্যকর হয়।
যে সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম কোনো দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। এ ধরনের সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- প্রথা ও রীতিনীতিভিত্তিক, চিরাচরিত নিয়ম ও আচার- অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দুলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!