AIPO4 এর রাসায়নিক নাম হলো অ্যালুমিনিয়াম ফসফেট।
H2 লেখা সঠিক হলেও Na₂ লেখা সঠিক নয়- কারণ H2 হলো মৌলিক অণু যা দ্বি-পরমাণুক হাইড্রোজেন গ্যাস। ২টি H পরমাণু নিয়ে H2 মৌলিক অণু গঠিত হয়। তাই H এর সঠিক সংকেত হবে H2। অপরদিকে, Na একটি পরমাণু যা এক-পরমাণুক। Na পরমাণু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন মৌলিক কণা দ্বারা গঠিত। তাই একে সঠিক প্রতীক (Na) দ্বারা লিখা হয়।
উদ্দীপকের ১নং পদার্থটি হলো সোডিয়াম কার্বনেট, যার রাসায়নিক সংকেত হলো Na2CO3 |
উল্লেখিত যৌগটির (Na2CO3) সংকেত থেকে নিম্নের তথ্যসমূহ জানতে পারি-
১. Na2CO3 যৌগটি ২টি Na পরমাণু, ১টি C পরমাণু, ৩টি O পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত।
২. Na2CO3 যৌগটিকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম (Na), কার্বন (C); অক্সিজেন (O) পরমাণু পাওয়া যায়।
৩. Na2CO3 যৌগিক পদার্থটি ২টি Na ধাতব পরমাণুর সাথে ১টি কার্বনেট পরমাণুগুচ্ছের রাসায়নিক সংযোগে গঠিত হয়েছে।
8. Na2CO3 যৌগটির মোট পরমাণুর সংখ্যা = (2 + 1 + 3) টি = 6 টি।
উদ্দীপকের ২নং পদার্থটি হলো , যার রাসায়নিক নাম আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড। এটি একটি যৌগিক পদার্থ, যা মরিচা নামে পরিচিত।
যৌগিক পদার্থটির তথা মরিচার গঠন প্রক্রিয়া নিচে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে দেখানো হলো-
লোহা (Fe) মৌলিক পদার্থটি জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিতে মৌলিক পদার্থ অক্সিজেনের (O2) সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে যৌগিক পদার্থ আয়রন অক্সাইড (Fe2O3) তৈরি করে।

মরিচা পড়া হচ্ছে ধাতুর ক্ষয় হওয়ার একটা সাধারণ পদ্ধতি। মরিচার কারণে লোহা বা স্টিল ধাতু ক্ষয় হয়ে যায়। মরিচার প্রতিরোধে লোহার উপর গ্যালভানাইজিং করা হয়। লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দিয়ে মরিচা প্রতিরোধ করা সম্ভব। ইলেকট্রোপ্লেটিং পদ্ধতিতে লোহা ও ইস্পাতের উপর মরিচা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়া ধাতুর উপরিতলে রং বা গ্রীজ দিয়ে মরিচা রোধ করা যায়।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বায়ু, পানি, লোহা, খাদ্যদ্রব্য, বইপুস্তক, চক ইত্যাদি নানা রকম জিনিস বা পদার্থ ব্যবহার করি। এদের মধ্যে কোনোটি মৌলিক পদার্থ, কোনোটি যৌগিক পদার্থ আবার কোনোটি বিভিন্ন পদার্থের মিশ্রণ। প্রতিটি পদার্থ কী দিয়ে তৈরি বা এদের গঠন কেমন ও কীভাবে তৈরি হয় তা কি তোমরা জান?

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- পদার্থের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অণু ও পরমাণুর মধ্যে পার্থক্য করতে পারব।
- মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব।
- প্রতীক ও সংকেত থেকে নির্বাচিত মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ চিনতে পারব।
- সার্বজনীন দ্রাবক হিসেবে পানির ব্যবহার প্রদর্শন করতে পারব।
Related Question
View Allকার্বন একটি মৌলিক পদার্থ। যেহেতু কার্বনকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে কার্বন ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না, তাই কার্বন একটি মৌলিক পদার্থ।
উদ্দীপকের ১ নং পদার্থটির রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড। এটি খাবার লবণ নামেও পরিচিত। এর সংকেত: NaCl.
গঠন প্রক্রিয়া: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি যৌগিক পদার্থ। এটি দুটি মৌলিক পদার্থ সোডিয়াম (Na) ও ক্লোরিন (CI) দ্বারা গঠিত। সংকেত থেকে দেখা যায় যে, সোডিয়াম ক্লোরাইড যৌগটি একটি Na ও একটি CI পরমাণু দ্বারা গঠিত। অর্থাৎ NaCl কে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে একটি সোডিয়াম ও একটি ক্লোরিন পরমাণু পাওয়া যাবে। আবার বলা যায় যে, একটি সোডিয়াম পরমাণু ও একটি ক্লোরিন পরমাণু মিলে একটি সোডিয়াম ক্লোরাইড অণু গঠন করে। অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি অণুতে মোট দুটি পরমাণু রয়েছে।

ছকের ২নং পদার্থটি (ফ্লোরিন) মৌলিক অণু। অর্থাৎ ফ্লোরিন মৌলিক পদার্থ। কারণ ফ্লোরিন কে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে ফ্লোরিন ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না।
এক্ষেত্রে ২টি ফ্লোরিন পরমাণু মিলে ফ্লোরিন অণু গঠিত হয়।

আবার ছকের ৩নং পদার্থটি ১টি C (কার্বন) ও ২টি O (অক্সিজেন) পরমাণু দ্বারা গঠিত একটি যৌগিক পদার্থ (কার্বন ডাইঅক্সাইড)। উৎপন্ন এর ধর্ম C ও O পরমাণু থেকে ভিন্ন। আবার যৌগটিকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে দুটি অক্সিজেন পরমাণু এবং একটি কার্বন পরমাণু পাওয়া যায়। জানা আছে, যে পদার্থকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে একাধিক ভিন্নধর্মী মৌল পাওয়া যায় সেই পদার্থটি যৌগিক পদার্থ। তাই (কার্বন ডাইঅক্সাইড) একটি যৌগিক পদার্থ।
পরমাণু হলো ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন মৌলিক কণিকা দ্বারা গঠিত অতি ক্ষুদ্র কণা।
O এবং O2 এর মধ্যে পার্থক্য নিচে দেখানো হলো-
| O2 | |
| ১. O হচ্ছে অক্সিজেনের একটি পরমাণু। | ১. O2 হচ্ছে অক্সিজেনের একটি অণু, যা দুটি পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। |
| ২. O সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। | ২. O2 সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!