প্রদত্ত ছকের 'R' সংস্থাটি হলো উপজেলা পরিষদ।
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট উপজেলা পরিষদ। দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯০টি উপজেলায় স্থানীয় জনগণের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ গঠনের বিধান রয়েছে। উপজেলা ব্যবস্থা ১৯৮৩ সালে প্রথম প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু এ ব্যবস্থাটি বিভিন্ন কারণে পরবর্তী সময়ে স্থায়ীরূপ লাভ করেনি। এ লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ পুনঃপ্রচলন এবং উক্ত আইনের অধিকতর সংশোধনকল্পে ৬ এপ্রিল ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ আইন পাস হয়। এ আইন 'উপজেলা পরিষদ (রহিত আইন পুনঃপ্রচলন ও সংশোধন) আইন ২০০৯' নামে পরিচিত। প্রদত্ত ছকে 'R' দ্বারা এ পরিষদের প্রতিষ্ঠার সাল ও সংস্থার সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত হবেন। উপজেলার এলাকাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদসমূহ ও পৌরসভার মোট সদস্যসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের সমসংখ্যক আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, যারা উক্ত উপজেলার এলাকাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য বা কাউন্সিলরগণ কর্তৃক তাদের' মধ্য হতেই নির্বাচিত হবেন। উপজেলা পরিষদ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবে। সকল কাজের সফলতা নির্ভর করবে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, R দ্বারা উপজেলা পরিষদকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
Related Question
View Allপৌরসভা বাংলাদেশের শহরাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার একটি একক। বাংলাদেশে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, গাজীপুর এবং ময়মনসিংহ মহানগরগুলোর ১২টি সিটি কর্পোরেশন ছাড়া ৩৩১টি পৌরসভা আছে। বৃহত্তম পৌরসভা হলো বগুড়া।
'স্থানীয় প্রশাসন' বলতে সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের তথা বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা শাসনব্যবস্থাকে বুঝায়। প্রশাসনের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থার সৃষ্টি। এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসন ও নিয়ন্ত্রণকে নিম্নস্তর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায় ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।
আমাদের দেশে জনাব 'ক'-এর অবস্থান হলো স্থানীয় প্রশাসন কাঠামোর তৃতীয় স্তরে। অর্থাৎ জনাব 'ক' একজন জেলা প্রশাসক।
বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনে বিভাগের পরেই জেলার অবস্থান। জেলা প্রশাসককে কেন্দ্র করে জেলার সমগ্র শাসন আবর্তিত হয়। জেলা প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনার হলেন জেলা প্রশাসনের মধ্যমণি।
তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ সদস্য। উদ্দীপকে জনাব 'ক'-এর কার্যাবলির সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যাবলির সাদৃশ্য বিদ্যমান থাকায় তাকে আমরা জেলা প্রশাসক হিসেবে অভিহিত করতে পারি। তিনি প্রশাসনের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। বিভাগীয় কমিশনারের পরেই তার স্থান। তাই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসন পরিচালনার জন্য তাঁকে বহুবিধ কার্য সম্পাদন করত হয়। অতএব নিঃসন্দেহে বলা যায়, জনাব 'ক' আমাদের দেশের একজন জেলা প্রশাসক।
উদ্দীপকে জনাব 'ক' একজন জেলা প্রশাসক হিসেবে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন।
একজন জেলা প্রশাসক তার কাজের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন। জেলা প্রশাসকের কার্যাবলি ব্যাপক। উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, জেলা প্রশাসক জনাব 'ক' ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর হিসেবে জেলার ভূমিরাজস্ব ও অন্যান্য কর ধার্য ও আদায় করেন। আবার তিনি জেলার একজন প্রথম শ্রেণির বিচারক হিসেবে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে গৃহীত শাসনসংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজ তদারক করা, সরকারি নীতি নির্ধারণ এবং সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় সরকারকে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা করা জেলা প্রশাসনের শাসনসংক্রান্ত কাজ। আবার সমন্বয় সাধনসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসকের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত সরকারি সকল দপ্তরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেন। জেলা প্রশাসক জেলার উন্নয়নের জন্য জেলার গণ্যমান্য লোকদের সাথে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সেসবের সমাধানের লক্ষ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত কাজ, সেবামূলক কাজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত কাজ, শান্তি রক্ষামূলক কাজসহ একজন জেলা প্রশাসক জেলার প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে বহুবিধ দায়-দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জেলার প্রকাশনা ও সংবাদপত্র বিভাগের প্রধান নিয়ন্ত্রক। তিনি জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান। আগ্নেয়াস্ত্র, স্পিরিট, বিষ প্রভৃতির লাইসেন্স প্রদানের দায়িত্ব তার ওপরই ন্যস্ত। এছাড়াও জেলা প্রশাসক জেলার প্রতিরোধমূলক বিচারকার্য সম্পন্ন করেন। তিনি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট কাজ পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করে থাকেন। কাজেই জেলা প্রশাসককে জেলার পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক ও নিয়ন্ত্রক বলা হয়।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুসারে জাতীয় সংসদের সদস্য হচ্ছে ৩৫০ জন।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বোঝায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয় এবং ওই জনগণের নিকট তা দায়িত্বশীল থাকে। বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!