উৎপাদন কাজে নিয়োজিত সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে শ্রম বলা হয়।
প্রবাসীরা নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় তাদের আয় নিজ দেশের GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে দেশি-বিদেশি জনগণ মিলে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে। আর প্রবাসীরা দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় GDP-এর সংজ্ঞা অনুসারে তাদের আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না। বরং তাদের আয় GNP-তে অন্তর্ভুক্ত হয়।
উদ্দীপকের ছক-১ এর মোট দেশজ উৎপাদনের আর্থিক মূল্য পরিমাপ করে জিডিপি নির্ণয় করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি দেশের অভ্যন্তরে ১০ মণ ধান, ১৫ মণ গম, ৬ মণ পাট, ১৩ মণ সরিষা উৎপাদন হয়। তাহলে ছক-১ অনুযায়ী মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) = ১০ মণ ধান ধানের বাজার মূল্য ১৫ মণ গম গমের বাজার মূল্য ৬ মণ পাট পাটের বাজার মূল্য + ১৩ মণ সরিষা সরিষার বাজার মূল্য। অর্থাৎ জিডিপি = (১০ × ৪৫০ + ১৫ × ৫০০ + ৬ × ৩৮০ + ১৩ × ৬৫০) টাকা বা, (৪৫০০+ ৭৫০০ + ২২৮০ + ৮৪৫০) = ২২৭৩০ টাকা
অতএব, ছক-১ এর আলোকে নির্ণেয় জিডিপি এর পরিমাণ হলো ২২৭৩০ টাকা।
উদ্দীপকে ছক-২ এর তথ্য ব্যবহার করে মাথাপিছু জিডিপি নির্ণয় করে এর গুরুত্ব আলোচনা করো হলো-
আয় পদ্ধতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে একটি দেশের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উপাদানসমূহের পারিতোষিক বা আয় যোগ করে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) নির্ণয় করা হয়। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে GDP = খাজনা + মজুরি + সুদ + মুনাফা। আর GDP কে মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু GDP পাওয়া যায়
উদ্দীপকের ছক-২ এ দেখা যায়, খাজনা ১০,০০০ কোটি টাকা, মজুরি ৫,০০০ কোটি টাকা, সুদ ১,০০০ কোটি টাকা এবং মুনাফা ৫০০ কোটি টাকা। তাই এক্ষেত্রে, GDP = (১০,০০০ + ৫,০০০ + ১,০০০ + ৫০০) কোটি টাকা বা, ১৬৫০০ কোটি টাকা। আবার, প্রশ্নানুসারে মোট জনসংখ্যা ১৬.৫ কোটি। তাই বিবেচ্য দেশে মাথাপিছু GDP = (১৬৫০০+ ১৫.৫) টাকা বা, ১০০০ টাকা।
মাথাপিছু জিডিপি হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের প্রধান সূচক। বিশ্বব্যাংকের মতানুসারে, এ সূচক দ্বারা দেশটি কী উন্নত নাকি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল তা নির্ণয় করা যায়। যদি মাথাপিছু জিডিপি একটি নির্দিষ্ট স্তরের বেশি হয় তবে বুঝতে হবে দেশটি উন্নত, আর যদি তা থেকে কম হয় তবে বুঝতে হবে দেশটি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল। সুতরাং, দেশের উন্নয়নের মাত্রা বোঝার পদকচিহ্ন হচ্ছে মাথাপিছু জিডিপি।
Related Question
View Allকোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় (Capital Consumption Allowance) বাদ দিলে যা থাকে, তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।
আয় পদ্ধতি অনুযায়ী সাধারণত একটি আর্থিক বছরে একটি দেশের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উপাদানসমূহের পারিতোষিক বা আয় যোগ করলে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়।
উৎপাদনের মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এই উপাদানগুলো থেকে প্রাপ্ত আয় হলো যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। সুতরাং, আয় পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফার যোগফলকে জাতীয় আয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তার উপার্জন রেমিটেন্স হিসেবে এদেশের মোট জাতীয় আয়ের (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের নাগরিক কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় বলে। GNI হিসাব করার সময় মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দু'য়ের বিয়োগফলকে বোঝায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক। সে উপার্জনের প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে বাহরাইনে থাকে। সে তার উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ দেশে প্রেরণ করে, যা মূলত রেমিটেন্স হিসেবে আমাদের দেশের জাতীয় আয়ের সাথে যুক্ত হয়। কাজেই বলা যায়, শিহাবের প্রেরিত অর্থ এদেশের জাতীয় আয় পরিমাপ করার সময় রেমিটেন্স হিসেবে যোগ হয়।
মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক হওয়ায় তার আয় বাংলাদেশের জিডিপি (Gross Domestic Product বা GDP)-তে অন্তর্ভুক্ত হলেও মোট জাতীয় আয়ে (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে না।
মোট জাতীয় আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য এবং বিদেশে কর্মরত তথা প্রবাসীদের আয়ের সমষ্টি থেকে দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট আর্থিক মূল্য। সুতরাং মোট জাতীয় আয়=কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য + বিদেশে কর্মরত দেশীয়দের আয়- দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি তার আয়ের কিছু অংশ ব্রিটেনে পাঠান। এ কারণে তার আয় বাংলাদেশের GNI তে অন্তর্ভুক্ত হয় না
বরং ব্রিটেনের GNI তে যুক্ত হয়। অর্থাৎ তার আয় এদেশের জাতীয় আয়কে
প্রভাবিত করে না।
তবে, বিদেশিদের আয় '(বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে আয়) বিবেচ্য দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। যা পরবর্তীতে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশীয়দের আয় বৃদ্ধি করে। কাজেই বলা যায়, মিসেস ব্রাউনির আয় বাংলাদেশের জাতীয় আয়কে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত না করলেও পরোক্ষভাবে কিছুটা প্রভাবিত করে।
CCA-এর পূর্ণরূপ হলো Capital Consumption Allowance.
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার অর্থমূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
মনে করি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বছরে তিনটি দ্রব্য উৎপাদিত হয়। যেমন- ১০০ কুইন্টাল ধান, ১০০০টি জামা এবং ১০০০টি কলম উৎপাদিত হয়। এক্ষেত্রে, জিডিপি ১০০ কুইন্টাল ধান ধানের বাজার দাম + ১০০০টি জামা জামার বাজার দাম ১০০০টি কলম কলমের বাজার দাম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!