হ্যাঁ, আমি মনে করি, ছগিরের সামাজিক সমস্যাটি মোকাবিলায় বাবা-মায়ের গৃহীত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই উত্তম ছিল। মাদকাসক্ত হওয়ার ফলে পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। একজন মাদক গ্রহণকারীর হৃদরোগ, যক্ষ্মা, ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তার মানসিক স্বাস্থ্যও এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে। সে প্রতিনিয়ত হতাশায় ও হীনম্মন্যতায় ভোগে। এসব ঝুঁকি থাকায় মাদক থেকে সন্তানকে দূরে রাখাই ভালো এবং যথার্থ পন্থা। তাছাড়া মাদকাসক্তির ব্যাপারে প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়া হলে মাদক থেকে ছেলেমেয়েদের দূরে রাখা সহজ হয়। যেমন- ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা; সামাজিকভাবে মাদককে না বলার ক্ষমতায় উদ্বুদ্ধ করা; সুস্থ চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা প্রভৃতি কাজের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি হলে সকলে ভালো ও কল্যাণের দিকে উদ্বুদ্ধ হবে। প্রতিকারমূলক ব্যবস্থায় মাদকাসক্তি ব্যক্তির আবার আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজ এ থেকে বিরত থাকতে সচেষ্ট থাকে।
Related Question
View Allসামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত একটি অবস্থা, যা জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি দুটি বড়ো সমস্যা। বর্তমানে এ দুটি সমস্যা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে রাষ্ট্র বা সমাজ স্বীকৃত নয় এমন কজকে অপরাধ বলে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী।
বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মধ্যে কিশোর অপরাধের বয়স নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর। আর জাপানে এ বয়সীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে মাতাপিতার পক্ষে তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, আদর-যত্নের অভাব, মাতাপিতার অকালমৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!