সম্রাট আকবরের আমলে মুঘল সাম্রাজ্যে ১৫টি প্রদেশ ছিল।
মধ্যযুগে কষ্টসহিষ্ণু, যোদ্ধা, আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি ছাড়া যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হতে পারত না। বাবর শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে এত কর্মঠ ছিলেন যে, তিনি কখনো অলস সময় কাটাননি। তিনি নিজেই তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, জীবনের শেষদিকে তিনি রমজানের রোজা কখনো এক স্থানে দু বার রাখার সুযোগ পাননি। বংশগতভাবেই বাবর পিতৃকুল ও মাতৃকুলের স্ট্যামিনা (অক্লান্ত কর্মশক্তি) লাভ করেন।
চিত্রে যে শাসকের ছবি লক্ষ করা যাচ্ছে তিনি হলেন সম্রাট বাবর।
২১ এপ্রিল ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে বাবর পাঞ্জাব দখল করে দিল্লি জয়ের উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান শুরু করেন। বাবরের সেনাবাহিনীতে মাত্র ১২,০০০ সৈন্য ছিল। তার সাথে ছিল একদল গোলন্দাজ, ওস্তাদ আলী ও মোস্তফার মতো শক্তিশালী সামরিক নেতা এবং পাঞ্জাব হতে আগত ভারতীয় অভিজাত শ্রেণি। বাবরের হিসাবমতে, ইব্রাহিম লোদীর এক লক্ষ সৈন্য এবং ১০০ হাতি ছিল। দিল্লির নিকটবর্তী একটি গ্রামের নাম পানিপথ। বাবর ও দিল্লির রাজকীয় বাহিনী পানিপথে সৈন্য সমাবেশ করে। বাবর সৈনদের কয়েকটি শাখায় বিভক্ত করেন। বামপাশে তিনি পরিখা খনন করেন এবং গাছের গুড়ি দিয়ে শত্রু আক্রমণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। বাবর কামানের ব্যবহার সুনির্দিষ্ট করেন। অপরদিকে, ইব্রাহিম লোদীর মধ্যে যুদ্ধের গতানুগতিক কৌশল দেখা যায়। উভয় বাহিনীর মধ্যে ৭ বা ৮ দিন বিক্ষিপ্তভাবে যুদ্ধ চলতে থাকে। অবশেষে উভয় বাহিনীকে চূড়ান্ত যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়। ইব্রাহিম লোদী ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ সৈন্য নিয়ে বাবরের বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা যুদ্ধ স্থায়ী হয়। ইব্রাহিম লোদী যুদ্ধে মারা যান। পানিপথের যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাবর তার বাহিনীকে দিল্লি দখলের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন এবং দিল্লি ও আগ্রা দখল করেন। ২৭ এপ্রিল দিল্লির জামে মসজিদে জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের নামে জুমার দিনের খুৎবা পাঠ করা হয়। এভাবে বাবর দিল্লি ও আগ্রা দখল করে ভারতে মুঘল সম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।
হ্যাঁ, আমি মনে করি বিভিন্ন কারণে এ মুঘল শাসক খানুয়ার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন।
১৬ মার্চ শনিবার ১৫২৭ খ্রিষ্টাব্দে বাবর ভারতীয় জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে খানুয়া নামক প্রান্তরে একটি যুদ্ধে লিপ্ত হন। খানুয়া একটি গ্রামের নাম। সিক্রি হতে এর দূরত্ব ১৬ কি. মি. এবং আগ্রা হতে এর দূরত্ব ৪০ কি. মি.। এ যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার একাধিক কারণ ছিল। সেগুলো হলো বাবরের স্থায়ী শাসন। বাবরের বর্ণনামতে, রানা সংঘ তার সাথে ইব্রাহিম লোদীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করার কথা ছিল। কিন্তু রানা সংঘ প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছেন। রানা সংঘ অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ও দক্ষ শাসক ছিলেন। তিনি বাবরের দ্বারা ইব্রাহিম লোদীর পরাজয় চেয়েছিলেন এবং বাবরের পরিত্যক্ত ভারতের শাসক হওয়ার আগ্রহ তার ছিল। কিন্তু বাবর স্থায়ীভাবে ভারতে বসবাসের ঘোষণা দেন। যার কারণে রানা সংঘ তার বিপক্ষে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ইব্রাহিম লোদীর পরাজয়ের মাধ্যমে দিল্লিসহ একটি সীমিত অঞ্চল বাবরের হস্তগত হয়। কিন্তু অধিকাংশ অঞ্চল বা রাজ্য ছিল স্বাধীন। ইব্রাহিম লোদীর চাইতেও শক্তিশালী শাসক ছিলেন রাজপুত শাসকগণ। দিল্লির পরাজয়ের ফলে অন্যান্য স্বাধীন রাজ্যের রাজাগণ নিজেদের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিন্তিত হন। এছাড়াও অন্যান্য রাজ্যের শাসকগণ বাবরের বিজয় পথ থামানোর জন্য একটি জোট গঠন করেন। বাবর সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করেন। খানুয়ার যুদ্ধে শক্তির মুখোমুখি হওয়ার আগে বাবর উত্তরাঞ্চলের একটি বিস্তৃত অঞ্চলের শাসকে পরিণত হন। তার আগ্রাসী সামরিক অভিযান অবশিষ্ট ভারতীয় শাসকদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। বাবর তার সৈন্যবাহিনীর মনোবল চাঙা করা ও ভারতে নিজের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে হিন্দুদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। তিনি মুসলিমদের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে সম্প্রসারণবাদী নীতি বাস্তবায়ন করেন।
Related Question
View Allহুমায়ুন অর্থ ভাগ্যবান।
'মোজা' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে।
উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের রিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। অর্থাৎ দাবার ছকের রাজার মতো বাবর স্থান থেকে স্থানান্তর ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কিন্তু ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন।
১৫০২ খ্রিস্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবুক ইরফান ও ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না; বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে- অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালি (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতওয়াল (নগরকর্তা) ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল কৃতিত্বপূর্ণ একথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।
দিল্লির সর্বশেষ সুলতানের নাম ফিরোজশাহ তুঘলক।
ফিরোজশাহ তুঘলক দিওয়ান-ই-বন্দেগান গঠন করেন কারণ, তিনি ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত। তাই তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগ গড়ে তোলেন। তার আমলে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল ১,৮০,০০০, যার মধ্যে ৪০,০০০ ক্রীতদাস সুলতানের প্রাসাদে অবস্থান করত। সুলতান তাদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধার জন্যই 'দিওয়ান-ই-বন্দেগান' গঠন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!