সম্রাট হুমায়ুন হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য শিয়া মত গ্রহণ করেন।
পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান ও ইব্রাহিম লোদীর পিতৃব্য আলম খানের আমন্ত্রণে ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে বাবর দিল্লি আক্রমণের জন্য ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি ধৈর্যধারণ করেন। এখানে তার দূরদর্শিতা প্রমাণিত হয়। বাবর কাবুলে ফিরে যান এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ইব্রাহিম লোদির বিরুদ্ধে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ করেন এবং জয়ী হন।
ছবিতে যে সম্রাটের ছবি লক্ষ করা যাচ্ছে তিনি হলেন সম্রাট হুমায়ুন। নিচে তার কালিঞ্জরের বিরুদ্ধে অভিযান ও দৌরার যুদ্ধের বর্ণনা দেওয়া হলো-
কালিঞ্জরের বিরুদ্ধে অভিযান হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণের ৫
কিংবা ৬ মাস পর ১৫৩১ খ্রিস্টাব্দে কালিঞ্জরের সুরক্ষিত দুর্গ অবরোধ করেন। এ অবরোধের বেশকিছু কারণ ছিল। সাম্রাজ্যের সীমান্ত অঞ্চলকে সুদৃঢ় করার জন্য এবং গঙ্গা-যমুনা তীরবর্তী অঞ্চল ও মালব। প্রদেশের সাথে যোগাযোগ সহজ করার জন্য কালিঞ্জর দখল করা প্রয়োজন ছিল। এছাড়া কালিঞ্জরের রাজা আফগান অভিজাতদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। হুমায়ুন কয়েক মাস কালিঞ্জর অবরোধ শেষে কালিঞ্জরের রাজার সাথে সন্ধি করেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রচুর ধনসম্পদ লাভ করেন। সন্ধি করে হুমায়ুন রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার পরিচয় দেন।
দৌরার যুদ্ধ (১৫৩২ খ্রিষ্টাব্দ): লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম
লোদীর ভাই মাহমুদ লোদীর ক্রমবর্ধমান শক্তি মুঘল সাম্রাজ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল। তাই হুমায়ুন কালিঞ্জরের দুর্গের অবরোধ প্রত্যাহার করে ১৫৩২ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে গঙ্গা নদী পার হয়ে দৌরার নামক স্থানে উপস্থিত হন। এখানে মাহমুদ লোদীর নেতৃত্বে আফগানদের সাথে তার (হুমায়ুনের) যুদ্ধ হয়। পরাজিত হয়ে মাহমুদ লোদী যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে প্রথমে যান জৌনপুরে তারপর পাটনা এবং আরও পরে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশেই মাহমুদ লোদী মারা যান। দৌরার যুদ্ধে বিজয়ী হলেও আফগান শক্তি অবশিষ্ট থেকে যায়।
ছবি ব্যক্তিটি হলেন সম্রাট হুমায়ুন। তার সাথে ভারতের ক্ষমতা নিয়ে শেরশাহের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
বাবর কর্তৃক ভারতে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বে জাতীয় উপমহাদেশে আফগানরা শাসন পরিচালনা করত। ফলে তাদের শাসনামলে এদেশে অনেক আফগান স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এজন্য এখানে তাদের একটি প্লাটফর্ম তৈরি হয়। সম্রাট বাবর তার অসাধারণ দক্ষতায় দিল্লির মসনদে আরোহণ করলেও আফগান শক্তিকে নির্মূল করে মুঘল সাম্রাজ্যকে নিরাপদ করতে পারে নি। ফলে আফগানরা তাদের হারানো রাজ্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। আর তাদের এ আকাঙ্ক্ষার সফল নেতৃত্ব দেন শেরশাহ। এরই প্রেক্ষিতে হুমায়ূন ও শেরশাহের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আফগানরা হুমায়ূনের বিরুদ্ধে লক্ষ্ণৌর সন্নিকটে দাদরাতে অস্ত্রধারণ করলে হুমায়ূন ১৫৩২ সালে তাদের পরাজিত করেন। ইতোমধ্যে শেরশাহ চুনার দুর্গ আক্রমণ করলে হুমায়ূন সেখানে অভিযান প্রেরণ করেন এবং শেরশাহ তার আনুগত্য স্বীকার করে। কিন্তু শেরশাহের অন্তরে সুপ্তবাসনা হলো দিল্লির মসনদে আরোহন করা। তাই হুমায়ূন যখন গুজরাটের বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত তখন ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরুজগড়ের যুদ্ধে জয়ী হয়ে সমগ্র বিহার দখল করে নেন। এরপর আর শেরশাহকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শেরশাহের কৌশলে পদক্ষেপ এবং হুমায়ূনের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ড শেরশাহকে দিল্লির মসনদে অধিষ্ঠিত করে। ১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে হুমায়ূনের পরাজয় ও পলায়ন শেরশাহকে এসুযোগ এনে দেয়। মূলত শেরশাহ ভারতবর্ষে আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন এবং সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু ১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধকালে বারুদের বিস্ফোরণে তার আকস্মাৎ মৃত্যু ঘটলে আফগানদের শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভাগ্যবান হুমায়ূন পুনরায় দিল্লিতে অধিষ্ঠিত হন এবং পরবর্তীতে স্বনামধন্য মুঘলশাসকেরা মুঘল শাসনকে ইতিহাসে স্থায়ী রূপ দেন।
সুতরাং বলা যায়, প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্বে হুমায়ূন ও শেরশাহ যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং হার-জিতের মাধ্যমে ক্ষমতার অদল-বদল হয়।
Related Question
View Allহুমায়ুন অর্থ ভাগ্যবান।
'মোজা' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে।
উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের রিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। অর্থাৎ দাবার ছকের রাজার মতো বাবর স্থান থেকে স্থানান্তর ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কিন্তু ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন।
১৫০২ খ্রিস্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবুক ইরফান ও ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না; বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে- অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালি (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতওয়াল (নগরকর্তা) ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল কৃতিত্বপূর্ণ একথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।
দিল্লির সর্বশেষ সুলতানের নাম ফিরোজশাহ তুঘলক।
ফিরোজশাহ তুঘলক দিওয়ান-ই-বন্দেগান গঠন করেন কারণ, তিনি ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত। তাই তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগ গড়ে তোলেন। তার আমলে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল ১,৮০,০০০, যার মধ্যে ৪০,০০০ ক্রীতদাস সুলতানের প্রাসাদে অবস্থান করত। সুলতান তাদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধার জন্যই 'দিওয়ান-ই-বন্দেগান' গঠন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!