কাগজ ছবি আঁকার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ। বিভিন্ন রকম কাগজ পাওয়া যায়। আর মাধ্যম ভেদে কাগজের প্রকারও আলাদা হয়। অর্থাৎ একেক মাধ্যমের জন্য একেক প্রকার কাগজ উপযোগী। পাতলা, মোটা, খসখসে, মসৃণ, সাদা, ধূসর, বাদামি ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার কাগজে ছবি আঁকা হয়।
Related Question
View Allতেলরং সম্পর্কে নিচে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো-
তেলরং তেল মাধ্যমের রং। এ রঙের সাথে তেলের সম্পর্ক আছে। তেল রং ডিশির তেল মিশিয়ে আঁকতে হয় এবং তরল করার জন্য তারপিন মেশাতে হয়। পৃথিবীর বড় বড় শিল্পীরা তেল রং মাধ্যমে ছবি এঁকেছেন এবং সেসব কালজয়ী ছবির মাধ্যমে তাঁরা শিল্পী হিসেবে অমর হয়ে আছেন। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের শিল্পীদের অন্যতম প্রিয় মাধ্যম হচ্ছে তেল রং। তেল রঙের ছবির কিছু বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো-
১। এ রঙের ছবি শত শত বছর টিকে থাকে।
২। সঠিক পরিচর্যা করলে এ রঙের উজ্জ্বলতা হারায় না।
৩। বাস্তবভিত্তিক ছবি আঁকার ক্ষেত্রে' এ রং অতুলনীয়।
৪। সব ধরনের ছবির জন্যই তেল রং উপযোগী মাধ্যম।
তেল রঙে ছবি আঁকার জন্য রং ছাড়াও তারপিন, তিশিতেল এবং রং। গোলানোর জন্য এক টুকরো হার্ডবোর্ড, প্লাইবোর্ড বা কালার প্লেট প্রয়োজন।।
তেলরং ক্যানভাসে ব্যবহার করা হয়। নিচে এর ব্যবহার বিধি আলোচনা করা হলো- প্রথমেই ক্যানভাসকে আঁকার উপযোগী করে নিতে হবে। সাদা: ক্যানভাস কাপড় প্রয়োজনমতো মাপে কাঠের ফ্রেমে চারদিকে তারকাঁটা দিয়ে টান টান করে আটকে নিতে হয়। তারপর সাদা জিঙ্ক অক্সাইড ও আইকা গাম মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ক্যানভাসে ভালোভাবে লেপন করে কাপড়ের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিতে হয়। এরপর রং শুকালে ক্যানভাস টানটান, মসৃণ করে ছবি আঁকার উপযোগী হয়ে উঠে। আর তখনই এতে ছবি আঁকা যায়। তেল রং শুকাতে সময় লাগে বলে এ রঙে ছবি আঁকতে অনেক সময় লাগে। তেল রঙের সাথে পরিমাণমতো তিশি তেল এবং তরল করার জন্য তারপিন তেল মিশিয়ে এ রং ব্যবহার করা হয়।
এনামেল রং সম্পর্কে নিচে বর্ণনা করা হলো-
এনামেল রং তেল মাধ্যমের রং। এনামেলের সাথে তারপিন মিশিয়ে তরল করা হয়। এ রং সাধারণত টিন, লোহা, হার্ডবোর্ড, প্লাস্টারের দেয়াল ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া বাঁশ, কাঠেও এ রং ব্যবহার করা যায়। তবে এনামেল রং দিয়ে হার্ডবোর্ড, কাপড়, টিন, কাঠ ইত্যাদির উপর ছবি আঁকা যায়। রিকশার পিছনে আমরা যে ছবি দেখি তা এনামেল কালারে আঁকা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত সাইনবোর্ড ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যমের কাজে এ রং ব্যবহার করা হয়। এ রং ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতিতে কৌটায় সংরক্ষিত অবস্থায় বাজারে পাওয়া যায়।
রঙিন অক্সাইড ও প্লাস্টিক রং সম্পর্কে নিচে বর্ণনা করা হলো-রঙিন অক্সাইড ও প্লাস্টিক রং মূলত আঠা ও রঙের সাথে পানি মিশিয়ে তৈরি হয়। প্লাস্টিক রং বিভিন্ন শেডে কৌটায় পাওয়া যায়। সাধারণত পাকা ভবনের দেয়ালে এ রং ব্যবহার করা হয়। তবে এ রং দিয়ে কাপড় বা শক্ত বোর্ডে ছবি আঁকা সম্ভব। অন্যদিকে বিভিন্ন রঙিন অক্সাইড পাউডার হিসেবে বাজারে পাওয়া যায়। তার। সাথে পরিমাণমতো আইকা, গাম ও পানি মিশিয়ে ছবি আঁকা যায়। প্লাস্টিক রং ঘন হলেই অ্যাক্রেলিক রং হয়ে যায়।
বর্তমান যুগে কাগজ আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কাগজ সভ্যতার নিদর্শন। লেখা-লেখির জন্য কাগজ যেমন সরাসরি ব্যবহার করা হয়, তেমনি ছবি আঁকার জন্য এটি খুব প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নানাবিধ কাজে। কাগজ ব্যবহার করা হয়। কাগজের ব্যবহার এতো ব্যাপক যে তার হিসেব দেওয়া মুশকিল। বিভিন্ন রকম কাগজ পাওয়া যায়। আর মাধ্যম ভেদে কাগজের প্রকারও আলাদা হয়। অর্থাৎ একেক মাধ্যমের জন্য একেক প্রকার কাগজ উপযোগী। পাতলা, মোটা, খসখসে, মসৃণ সাদা, ধূসর, বাদামি ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার কাগজে ছবি আঁকা হয়। জল রং, পোস্টার রং, কালি-তুলি, কালি-কলম, প্যাস্টেল বা অ্যাক্রেলিক কালারে ছবি আঁকার জন্য কাগজ ব্যবহার করা যায়। কাগজে শুধুমাত্র পেনসিল ব্যবহার করে আলো-ছায়া ফুটিয়ে তুলে সাদাকালো ছবি এবং রঙিন পেনসিল ব্যবহার করে রঙিন ছবিও আঁকা সম্ভব। পরিশেষে বলতে পারি কাগজ ছাড়া আমরা একদিনও চলতে পারি না।
ছবি আঁকার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি মাধ্যম হলো তুলি, কালি যা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার কাগজে ছবি আঁকা যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসানসহ বিখ্যাত শিল্পীদের অনেকেই কালি-তুলিতে ছবি এঁকেছেন।
ছবি আঁকার ক্ষেত্রে জলরং ও তেলরঙের জন্য একই রকম তুলি ব্যবহার করা হয় না। কালি, ও জলে ছবি আঁকার জন্য সাধারণত নরম পশমের তুলি ব্যবহার করা হয়। তেলরং, অক্সাইড রং বা বেশি আঠালো রংয়ের জন্য অপেক্ষাকৃত শক্ত পশমের তুলি প্রয়োজন। তুলির বিভিন্ন মাপ হয়। সবচেয়ে সরু তুলির নম্বর ০০ (ডবল জিরো) তারপর ০, ১, ২ এভাবে মোটা হতে হতে ২০/২৫ নম্বর পর্যন্ত মানের তুলি পাওয়া যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!