বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমকেই গণমাধ্যম বলে।
ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে গ্রামীণ জীবন ছেড়ে মানুষের নগর জীবন পদ্ধতি গ্রহণের প্রক্রিয়াই নগরায়ণ। নির্দিষ্ট শিল্পকে কেন্দ্র করে কোনো এলাকাতে জনবসতি, রাস্তাঘাট, হাটবাজার গড়ে ওঠার কারণে নগরায়ণকে বলা হয় শিল্পায়নের ফল। শিল্পায়নের ফলে নগরায়ণ ঘটে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা উত্তরকাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পের প্রসার ঘটেছোদা পাশাপাশি ছোটবড় অনেক নগরও গড়ে উঠেছে। সংগত কারণে নগরায়ণ হলো শিল্পায়নের ফল।
তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে ছাত্তার সাহেবের অবস্থার পরিবর্তনে সামাজিক । পরিবর্তনের প্রযুক্তি উপাদানটি কাজ করেছে।
প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক। প্রযুক্তির প্রচলন ও প্রসারের মাধ্যমে সমাজব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গের মানসিক গঠন এবং সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন সাধিত হয়। দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে উদ্দীপকের কৃষক ছাত্তার সাহেবের কথা। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিদ্যার কল্যাণে উন্নত জাতের বীজ, সেচ, সার প্রয়োগের ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বেড়ে গেছে। তাছাড়া আমাদের দেশে এখন মৎস্য চাষে নতুন নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। চিংড়ি চাষে অভাবনীয় পরিবর্তন, সমন্বিত মাছ চাষ, গবাদি পশুর প্রজনন, গরু মোটাতাজাকরণ প্রভৃতি প্রযুক্তির প্রত্যক্ষ ফসল। প্রযুক্তি কৃষি খামার অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পল্লি উন্নয়ন সংস্থা। এসব সংস্থা গ্রামীণ কৃষির পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কেরও পরিবর্তন সাধন করেছে। অতএব বলা যায়, প্রযুক্তিই কৃষক ছাত্তার সাহেবের অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে।
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনে ছাত্তার সাহেবের মেয়েদের মতো নারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ- প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
নারীদের কর্মসংস্থান পরিবারে বাড়তি অর্থোপার্জনের সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে নারী আগের তুলনায় অনেক অগ্রসর হয়েছে। নারীরা এখন শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। তারা এখন উচ্চশিক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করছে। উদ্দীপকে ছাত্তার সাহেবের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তাদের মতো নারীরা এখন শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত হচ্ছে। এক সময় নারী শুধু গৃহস্থালি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আজ তারা বাংলাদেশের শহর এলাকায় পোশাক শিল্প, ঔষধ তৈরির কারখানা, টেলিফোন ও টেলিযোগাযোগ শিল্প, পাট, চা, কাগজ শিল্প, স্থাপত্য শিল্প, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি শিল্প ও কল-কারখানায় চাকরি করছে। তাছাড়া শিক্ষিত নারীরা বিভিন্ন পেশা, যেমন- চিকিৎসা, আইন, শিক্ষকতা, পুলিশ, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। সরকারি চাকরিতে প্রশাসন, পুলিশ, ডাক, সমবায়, আনসারসহ প্রায় সবগুলো ক্যাডারে নারীদের বিরাট একটা অংশ চাকরি করছে।
পরিশেষে বলা যায়, নারীর ভূমিকার এ পরিবর্তন নারীর ক্ষমতায়নের পথকে সুগম করেছে। নারীকে করেছে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।
Related Question
View Allসমাজ কাঠামো ঞ্চাশ্রয় কার্যাবলির পরিবর্তনই হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম একটি কারণ হলো। শিল্পায়ন। শিল্পায়নের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজে অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামীণ যৌথ পরিবার ভেঙে শহরে একক পরিবার গঠিত হচ্ছে। মেয়েরা ঘরে ও বাইরে সমানতালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সর্বদয়া ও শ্রমদানা' কার্যক্রমের প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক পরিবর্তনের শিক্ষা উপাদানের সাথে মিল রয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন এবং বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। যেমন- বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে; যা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে দেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয়েছে বহু সামাজিক নীতি ও আইন। যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন, নারী উন্নয়ন নীতি প্রভৃতি সামাজিক সচেতনতার ফসল। নারী শিক্ষা নারীকে বহির্মুখী কর্মগ্রহণ ও চাকরিমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে। এভাবে বিজ্ঞান শিক্ষা, বাণিজ্য শিক্ষা প্রভৃতি সমাজ জীবনে বহু কিছু সৃষ্টি করেছে; যা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নারীর ভূমিকার পরিবর্তনে সমাজজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উদ্দীপকে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে বহু নারীর ব্যাপক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে নারীরা সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। যার ফলে নারীরা এখন আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজেরা আয় করতে পারছে। নারীরা উপার্জিত টাকা পরিবারের অর্থনীতিতে ভূমিকা পালন করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সামাজিক বহুবিধ দায়িত্ব পালন করছে। নারীর ভূমিকার এই পরিবর্তন নারীকে ক্ষমতায়নে ও মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বেসরকারি সংস্থা বগুড়ার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। যা নারী উন্নয়ন সংঘ এখন জনসংখ্যারোধ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক নারী তাদের অবস্থার উন্নয়নে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধন করেছে।
তাই বলা যায়, ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় এসে নারীরা সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
'মানবীয় সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন'- উক্তিটি প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। শিক্ষা এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া। যা আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনা করার ক্ষমতা জাগ্রত করে সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!