কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা যেন জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড, যা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিকামী বাঙালির মনে বিশেষ শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। তাঁর কাব্যে অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, বিপ্লব ও মুক্তির আহবান প্রাধান্য পেয়েছে।
সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৫ আগস্ট, ১৯২৬ সালে (৩০ শ্রাবণ, ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার মহিম হালদার স্ট্রিট, কালীঘাটে (মাতুলালয়) জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি বামপন্থি মার্কসবাদী বিপ্লবী কবি হিসেবে খ্যাত হলেও 'কিশোর কবি' হিসেবে পরিচিত।
তিনি ছিলেন দৈনিক পত্রিকা 'স্বাধীনতা'র কিশোর সভা অংশের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।
তিনি ১৪ মে, ১৯৪৭ সালে (২৯ বৈশাখ, ১৩৫৪ বঙ্গাব্দ) যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে যাদবপুর টিবি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। (তিনি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস জীবিত ছিলেন)।
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহঃ
'ছাড়পত্র' (১৯৪৮): এটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পরে প্রকাশিত হয়। শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রনা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহ, অনাচার ও বৈষম্যের প্রতিবাদ এ কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু। এ কাব্যের কবিতা: 'ছাড়পত্র', 'আঠারো বছর বয়স', 'প্রার্থী', 'রানার'।
'আকাল' (১৯৪৩): পঞ্চাশের মন্বন্তর এ সংকলন কবিতাগুলোর মূল প্রেরণা। ১৯৬৬ সালে সুভাস মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয় এটি ছিল জীবিত অবস্থায় প্রকাশিত তাঁর একমাত্র গ্রন্থ।
আঠারো বছর বয়স দুঃসহ কারণ এই বয়স একদিকে যেমন অফুরন্ত প্রাণশক্তি ও সাহসের প্রতীক, তেমনই অন্যদিকে বিপদ, বিপর্যয় ও পথভ্রষ্টতার সম্ভাবনায় ভরা এক অস্থির ও জটিল সময়।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'আঠারো বছর বয়স'-এ এই বয়সকে 'দুঃসহ' বলে অভিহিত করেছেন কারণ এটি এমন এক সন্ধিক্ষণ যেখানে তরুণ-তরুণীরা অপরিণত বুদ্ধি এবং অপরিমিত আবেগ নিয়ে জীবনকে জয় করতে চায়। এ বয়সে যেমন নতুন কিছু সৃষ্টির অদম্য স্পৃহা থাকে, তেমনি ভুল পথে চালিত হওয়ার বা সর্বনাশের গভীরে তলিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনাও থাকে। কবি এই বয়সকে 'তীর বেগে ধেয়ে চলে', 'তীব্র আর ধারালো' এবং 'রক্তের প্রবল প্রতাপ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা একইসাথে ক্ষমতা ও বিপদের ইঙ্গিত দেয়। এ সময় মন থাকে অস্থির, আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় এবং সামাজিক ও ব্যক্তিগত নানা টানাপোড়েন একজন তরুণকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। তাই, আশাবাদ, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার পাশাপাশি এই বয়স তার অন্তর্নিহিত অস্থিরতা, ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের কারণে 'দুঃসহ' হয়ে ওঠে।