ছেলেটি কী দিয়ে মুকুট বানাত?

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

ছেলেটি গাছটির সব ঝরাপাতা দিয়ে মুকুট বানাত।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
106

এক যে ছিল আমগাছ। খুব ভালোবাসত সে একটি ছোট্ট ছেলেকে। হররোজ সেই ছেলেটি এসে গাছটার সব ঝরাপাতা কুড়িয়ে তাই দিয়ে মুকুট বানিয়ে বনের রাজা সাজত। কখনো-বা গাছটার কাণ্ড বেয়ে তরতর করে ওপরে উঠে ডাল ধরে দোল খেতো, আর আম খেতো। মাঝে মাঝে তারা লুকোচুরি খেলত। তারপর, এইসব করে ক্লান্ত হয়ে গেলে ছেলেটা পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ত গাছটার ছায়ায়। ছেলেটাও গাছটাকে ভালোবাসত খু-উ-ব।
এবং গাছটা এতে সুখী ছিল।
কিন্তু সময় গড়িয়ে যেতে থাকে। ছেলেটাও বড়ো হয়ে উঠতে থাকে।
প্রায়ই দেখা যেত গাছটা দাঁড়িয়ে আছে একলা।
তো একদিন ছেলেটা গাছটার কাছে আসে, আর তখন গাছটা বলে, 'আয়, আয়, আমার গা বেয়ে উঠে ডাল ধরে দোল খা, আম খা, খেল আমার ছায়ায় বসে। আরাম কর। তোর সুখ দেখে আমি সুখ পাই।' কিন্তু ছেলেটা বলে, 'এখন কি আর আমার গাছে উঠে খেলার বয়স আছে নাকি? আমি এখন নানান সব জিনিস কিনতে চাই, মজা করতে চাই। আমার চাই কিছু টাকা। তুমি কিছু টাকা দিতে পারো আমায়?' গাছটা বলে, 'এই তো মুশকিলে ফেললি। আমার কাছে তো টাকা নেই। আমার আছে কেবল পাতা আর আম। তা, এক কাজ করিস না কেন; আমার আমগুলো পেড়ে নে; ওগুলো বিক্রি করলে অনেক টাকা পাবি। তখন মনের সাধ মিটিয়ে কেনাকাটা করতে পারবি।'

কাজেই, ছেলেটা তখন গাছে উঠে আমগুলো পেড়ে সেগুলো নিয়ে চলে যায়। খুব খুশি হয় গাছটা।
কিন্তু এরপর আবার বেশ কিছুদিন কোনো দেখা মেলে না ছেলেটার...। মন খারাপ করে থাকে গাছটা।
তারপর একদিন আবার আসে ছেলেটা। খুশিতে সারা শরীর নেচে ওঠে গাছটার। বলে, 'আয় আয়, আমার গা বেয়ে উঠে আয় ওপরে, দোল খা ডাল ধরে, ফুর্তি কর।'
কিন্তু ছেলেটা বলে, 'গাছে ওঠার চেয়ে ঢের জরুরি কাজ আছে আমার। মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই, একটা বাড়ি চাই আমার; রোদ-বৃষ্টিতে, গ্রীষ্মে-শীতে যাতে কষ্ট না হয়। আমার চাই একটা বউ, ছেলেমেয়ে। ওদেরকে রাখার জন্যে একটা বাড়ি আমার খুব দরকার। তুমি একটা বাড়ি দিতে পারো আমায়?'
গাছ বলে, 'আমার তো কোনো বাড়ি নেই, তবে হ্যাঁ, আমার ডালপালাগুলো কেটে নিতে পারিস। তাহলে খুব সহজেই ওগুলো দিয়ে একটি বাড়ি বানিয়ে নিতে পারবি তুই। তখন তোর আর সুখের সীমা থাকবে না।'
কাজেই ছেলেটা তখন গাছটার ডালপালা সব কেটে ফেলে, তারপর সেগুলো নিয়ে চলে যায় বাড়ি বানাবার জন্য। খুশি হয় গাছটা।
তারপর বেশ কিছু দিন আর কোনো খোঁজ-খবরই থাকে না ছেলেটার। তবে একদিন যখন আবার আসে সে, ভীষণ খুশি হয় গাছটা। এত্ত খুশি যে কথাই বলতে পারে না সে কিছুক্ষণ। তারপর ফিসফিসিয়ে বলে, 'আয় আয়, খেলবি আয়।'
ছেলেটা বলে, 'খেলার বয়স আর মোটেই নেই আমার। বুড়ো হয়ে গেছি। তাছাড়া মনটাও খুব খারাপ। একটা যদি নৌকা পেতাম তাহলে খুব ভালো হতো। ওটাতে চেপে বহু দূরে চলে যেতে পারতাম এখান থেকে। একটা নৌকা দিতে পারো তুমি আমায়?'
'আমার কাণ্ডটা কেটে ফেল, তারপর একটা নৌকা বানিয়ে নে ওটা দিয়ে,' গাছটা পরামর্শ দেয়। 'তখন ওটাতে করে তুই ভেসে বেড়াতে পারবি, খুশি হবি।'
কাজেই ছেলেটা তখন গাছটার কাণ্ডটা কেটে ফেলে, তারপর ওটা দিয়ে নৌকা বানিয়ে ভেসে পড়ে দূরদেশের উদ্দেশে। খুশি হয় গাছটা। কিন্তু তার বুকের ভেতর কোথায় যেন খচখচ করতে থাকে।
বহুদিন পর আবার ফিরে আসে ছেলেটা। গাছটা তখন বলে, 'আয়, কিন্তু এবার যে তোকে দেওয়ার মতো আর কিছুই নেই আমার রে- আমার আমগুলো আর নেই।'
কিন্তু ছেলেটা বলে, 'আম যে খাব এমন শক্তি কি আর আছে আমার দাঁতে?'
গাছটা বলে, 'আমার ডালপালাগুলোও যে আর নেই রে। ওগুলো ধরে তুই আর ঝুলতে পারবি না।'
ছেলেটা বলে, 'আমি এখন এতই বুড়ো হয়ে গেছি যে গাছের ডাল ধরে ঝুলোঝুলি করার আর শক্তি নেই আমার।' গাছ বলে, 'কাণ্ডটাও তো নেই, তুই তো ওটা বেয়ে ওপরে উঠতে পারবি না।'
ছেলেটা সে কথা শুনে বলে, 'আমি আসলে এত ক্লান্ত যে গাছ বেয়ে ওঠার জোর নেই আমার গায়ে।' একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে গাছটা বলে, 'আমার খুব খারাপ লাগছে রে। তোকে যদি একটা কিছু অন্তত দিতে পারতাম... কিন্তু কিছুই যে নেই আমার। আমি স্রেফ বুড়ি গুঁড়ি একটা। আমায় ক্ষমা করে দে তুই।'
ছেলেটা বলে, 'এখন আমার আর খুব বেশি কিছু নেই চাইবার। বসে জিরোবার মতো স্রেফ একটা নিরিবিলি জায়গা হলেই যথেষ্ট। ভীষণ ক্লান্ত আমি।' যদ্দুর পারা যায় নিজেকে সোজা করে গাছটা বলে, 'তা, বেশ তো, বুড়ি গুঁড়ি আর কিছু না হোক, বসে জিরোবার মতো একটা ভালো জায়গা তো বটেই। আয়, আয়, বোস, জিরিয়ে নে তোর যত খুশি।'
ছেলেটা তা-ই করে।
এইবার সত্যি সত্যি-ই খুশি হয় গাছটা।

Related Question

View All
উত্তরঃ

গাছটির সঙ্গে ছেলেটির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

'একটি সুখীী গাছের গল্প' গল্পে একটি আমগাছ একটি ছোট ছেলেকে খুব ভালোবাসত। ছেলেটিও গাছটিকে খুব ভালোবাসত। ছেলেটি গাছের সব ঝরাপাতা দিয়ে মুকুট বানিয়ে বনের রাজা সাজত। কখনো-বা গাছটার কান্ড বেয়ে তরতর করে উপরে উঠে ডাল ধরে দোল খেত, আর আম খেত। মাঝে মাঝে তারা লুকোচুরিও খেলত। ছেলেটা কখনো ক্লান্ত হয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ত গাছের ছায়ায়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
92
উত্তরঃ

মহত্ত্ব ও উদারতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের আলোচ্য বৃক্ষ ও 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পের আমগাছটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

উদারতা সবসময় পৃথিবীতে বেঁচে থাকে। আর সংকীর্ণতা কখনই স্থান পায় না। পৃথিবী উদারতাকে গ্রহণ করে, সংকীর্ণতাকে বিলুপ্ত করে।

উদ্দীপকে বৃক্ষের অবদান ও ত্যাগের কথা বলা হয়েছে। বৃক্ষ মাটি থেকে রস টেনে নিজেকে পুষ্ট করে নিজের জন্য নয়। বরং অন্যকে দানেই তার তুষ্টি। 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পে দেখা যায়, আমগাছটি নিজের ফল, কান্ড সবকিছু ছেলেটিকে দিয়ে দেয় এবং সুখ পায়। নিজের জন্য তার আর কিছুই থাকে না। তাই বলা যায়, মহত্ত্ব ও উদারতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের আলোচ্য বৃক্ষ ও গল্পের আমগাছটির সাদৃশ্য রয়েছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
91
উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পের অন্তরালে প্রকাশিত সত্যেরই প্রতিচ্ছবি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

যারা স্বার্থপর মানুষ তারা ভোগ করে সুখ পায়। আর ত্যাগী মানুষ সবসময় অন্যকে দান করে সুখ পায়। তারা কখনই নিজের সুখকে বড় করে দেখে না, অন্যের সুখই তার কাছে মুখ্য।

উদ্দীপকে বৃক্ষের নিজের বৃদ্ধির বিষয়টি মূলত তার নিজের স্বার্থের নয়। বরং সে নিজেকে তৈরি করে অন্যের জন্য। এখানে ত্যাগী মানুষের ইঙ্গিত বহন করা হয়েছে বৃক্ষের অন্তরালে। 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পে যে আমগাছটির কথা বলা হয়েছে, তার অন্তরালেও ত্যাগী মানুষের কথা প্রকাশ করা হয়েছে। যারা কিনা শুধু দিতেই চায়, দিয়েই খুশি হয়। বিনিময়ে নিজেরা কিছু চায় না।

উদ্দীপকে গাছের অন্তরালে ত্যাগী মানুষের কথা বলা হয়েছে। গল্পে আমগাছটির মধ্য দিয়ে ত্যাগী ও উদার মানুষের কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায়, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
81
উত্তরঃ

ছেলেটি দ্বিতীয়বার গাছটির কাছে নিজের থাকার জায়গা অর্থাৎ আশ্রয় চেয়েছিল।

আমগাছটির সঙ্গে ছেলেটির খুব অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। দুজন দুজনকে অনেক ভালোও বাসত। এমনকি ছেলেটির কোনো কিছু প্রয়োজন হলেই সে ছুটে চলে আসত গাছটির কাছে। এমনি করে ছেলেটি দ্বিতীয়বার এসে গাছটির কাছে তার থাকার জায়গা অর্থাৎ একটি বাড়ি চেয়েছিল। গাছটি ছেলেটির সেই ইচ্ছাও পূরণ করেছিল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
133
উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পের আমগাছটির প্রতিনিধিত্ব করে।

সবকিছু নিজের ভোগের জন্য রাখার মধ্যে কোনো আনন্দ নেই। বরং নিজের সবকিছু অন্যের মাঝে উৎসর্গ করার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সুখ।

উদ্দীপকে নিজের সুখের চেয়ে অন্যের সুখকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শুধু নিজেকে নিয়ে সুখী হতে কেউ পৃথিবীতে আসে না।। সবাইকে নিয়ে সুখী হতে পারার মধ্যেই মূলত সুখ নিহিত। 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পে আমগাছটি তার সর্বস্ব ছেলেটিকে দিয়ে সুখ খুঁজে পায়। শেষ পর্যন্ত তার নিজের আর কিছুই থাকে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি গল্পের আমগাছটির প্রতিনিধিত্ব করে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
172
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews