ই-মেইল-এর পূর্ণরূপ হলো ইলেক্ট্রনিক মেইল।
শিশুর সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে সমবয়সী বন্ধু বা সঙ্গীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শৈশবে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলার আকর্ষণ থাকে অপ্রতিরোধ্য। এভাবে খেলার সাথিরা একে অপরের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখে। কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও চালচলনের ক্ষেত্রে তারা একে অন্যকে প্রভাবিত করে। এর মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইফাজের ব্যাটম্যান সাজাটা সামাজিকীকরণের অঙ্গীভূতকরণ উপাদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
শিশু শৈশবে সচেতনভাবে বা সজ্ঞানে কিছুই করে না। যা করে তার সবই এলোমেলোভাবে করে। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে জ্ঞান-বুদ্ধি, দিয়ে কোন জিনিস তার প্রয়োজন তা সে বুঝতে পারে এবং এই জিনিসগুলো তার অঙ্গীভূতকরণের বিষয়ে পরিণত হয়। এভাবে শিশু বিভিন্ন খেলনা, ছবি ও ছড়ার বই প্রভৃতি অঙ্গীভূত করে নেয় যা তার বিনোদনে কাজে লাগে। একইসাথে সে মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্যদের বিভিন্ন রকম সাজে সেজে চমকে দিতে পছন্দ করে। এটি শিশুর এক ধরনের বিনোদন। অঙ্গীভূতকরণের এ প্রক্রিয়া ও প্রবণতার পরিধি ক্রমশ প্রসারিত হতে থাকে।
উদ্দীপকের ইফাজের মা-বাবা তার জন্য নানান খেলনা, কার্টুন ছবি ও স্টিকার কেনেন। ইফাজ টেলিভিশনে নিয়মিত কার্টুন ছবি দেখে। এগুলো ধীরে ধীরে তার অঙ্গীভূতকরণের বিষয়ে পরিণত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ইফাজের ব্যাটম্যান' সেজে মা-বাবাকে চমকে দেওয়ার ঘটনাটিতে অঙ্গীভূতকরণের প্রভাব সুস্পষ্ট।
উদ্দীপকে মা-বাবার ধ্যান-ধারণাই ইফাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। মা-বাবা যে বিষয়গুলোর সাথে ইফাজের সংশ্লিষ্টতা ঘটিয়েছেন ইফাজের মধ্যে সে বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে।
কারণ শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা সে পরিবেশে বড় হয় সেই পরিবেশেরই রীতিনীতি, আচার-প্রথা আত্মস্থ করে। আর শিশুর অনুকরণপ্রিয়তার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মা-বাবাসহ টেলিভিশনে প্রচারিত নানা অনুষ্ঠান যা শিশুকে আকর্ষণ করে।
উদ্দীপকের ইফাজের মা-বাবা দুজনই চিত্রশিল্পী। ইফাজের জন্য তারা প্রায়ই বিভিন্ন খেলনা, কার্টুন ছবি, স্টিকার কিনে আনেন। তারা ইফাজকে নিয়মিত টেলিভিশনে কার্টুন ছবি দেখার সুযোগ দেন। ইফাজ এসব বিষয় অনুকরণ করার ফলে তার মধ্যে উক্ত বিষয়গুলোরই প্রতিফলন ঘটেছে। অর্থাৎ প্রকারান্তে ইফাজের মা-বাবার ধ্যান-ধারণাই তার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, মা-বাবা যে ধরনের ধ্যান-ধারণা লালন করেন তাই তাদের ছয় বছর বয়সী সন্তান ইফাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
Related Question
View Allসামাজিকীকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষ সমাজের রীতিনীতি, নিয়মকানুন ও মূল্যবোধ শেখে। জন্মের পর থেকেই মানব শিশু পরিবার, প্রতিবেশী, সমবয়সী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এর ফলে সে সমাজের একজন উপযোগী সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে।
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে। এটি পরিবার, প্রতিবেশী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তির মূল্যবোধ, আচরণ ও চিন্তাধারা গঠনের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সমাজের সঙ্গে মানুষের সামঞ্জস্য সাধনে সাহায্য করে।
পরিবার সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। শিশুর আবেগ, আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মচর্চা এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মতো বিষয়গুলো পারিবারিক পরিবেশে গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন হয়। এজন্য পরিবারকে সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়।
প্রতিবেশী শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুর চারপাশের মানুষের আচরণ, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ তার আচরণে প্রভাব ফেলে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করে শিশু সমাজের নিয়ম ও রীতিনীতি সহজে আয়ত্ত করে। এটি তার সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংঘ, বিজ্ঞান ক্লাব এবং খেলাধুলার ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সাহায্য করে। এসব সংগঠনে অংশগ্রহণ করে শিশু সহনশীলতা, বুদ্ধিবৃত্তি ও সৌন্দর্যবোধের বিকাশ ঘটায়। এতে শিশু স্থানীয় সমাজের অংশ হয়ে ওঠে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সংগঠন এবং ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু সহনশীলতা, সহযোগিতা ও সৃজনশীলতা শেখে। এটি তাকে সমাজের কার্যকর অংশীদার হতে সাহায্য করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!