জগলুর এক ছেলে ও এক মেয়ে। সে তার ছেলের লেখাপড়ার ব্যাপারে খুবই সচেতন কিন্তু মেয়ের প্রতি মোটেও যত্নশীল নয়। সে মনে করে লেখাপড়া করা ছেলেদের কাজ এবং মেয়েদের কাজ রান্নাবান্না ও ঘরসংসার করা। তাই সে তার মেয়েকে লেখাপড়া না শিখিয়ে তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

নারী ও পুরুষের মধ্যে জীববিজ্ঞানের নিয়মে যে পার্থক্য তাকে জেন্ডার বলে চিহ্নিত করা হয়।

উত্তরঃ

সামাজিক সমস্যা সমাজকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়।

সামাজিক সমস্যা বলতে সমাজের এমন অবস্থাকে বোঝায় যে অবস্থাকে সমাজের অনেক লোকই অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করে, যে অবস্থা অনেকের ওপর অবাঞ্ছিত প্রভাব রাখে এবং যার সমাধানের লক্ষ্যে অনেকেই যৌথ প্রয়াস চালানোর প্রয়োজন অনুভব করে।

উত্তরঃ

পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বলা যায়, জগলুর মনোভাব জেন্ডার বৈষম্যকে নির্দেশ করে।

শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নারী বা পুরুষ হিসেবে আমাদের সামাজিক পরিচয় যে ভিন্ন সেটি বোঝানোর জন্যই জেন্ডার শব্দটি ব্যবহৃত হয়। জেন্ডার হচ্ছে নারী ও পুরুষের প্রভেদ। এ প্রভেদ সৃষ্টি করেছে মানুষ। মানুষের কাজকর্মের ক্ষেত্রে মানুষের জৈবিক কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এ সীমাবদ্ধতা বা পার্থক্য সৃষ্টি করেছে সমাজ। অর্থাৎ সন্তানধারণ হচ্ছে নারীর সেক্স ভূমিকা আর রান্নাবান্না করা, সন্তান লালন-পালন করা এগুলো নারীর জেন্ডার ভূমিকা। জেন্ডার ধারণায় সামাজিকভাবে নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করা হয়, যা সম্পূর্ণভাবে মানুষের তৈরি। এ ধারণায় নারীকে বিভিন্ন সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। ঘরের বাইরে নারীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করা হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত জগলুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, সে তার ছেলের লেখাপড়ার ব্যাপারে খুব সচেতন হলেও মেয়ের লেখাপড়ার প্রতি মোটেও যত্নশীল নয়। সে মনে করে, লেখাপড়া করা ছেলেদের কাজ। আর মেয়েদের কাজ হলো রান্নাবান্না ও ঘর সংসার করা। এ কারণে সে তার মেয়েকে লেখাপড়া না শিখিয়ে তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব। জগলুর এরূপ মনোভাবে জেন্ডার বৈষম্যের বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। 

উত্তরঃ

জেন্ডার বৈষম্যভিত্তিক জগলুর মনোভাব নারীদের দুর্বল করার জন্য দায়ী বলে আমি মনে করি।

দৈহিক পার্থক্যের ওপরে ভিত্তি করে সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণে বিভিন্নভাবে নারীদের মেধা ও মননশীলতাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। এর ফলে সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীরা এখনও যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখে। আর্থ- সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুন্নয়নের জন্য লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্য দায়ী। নারীদেরকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নারীদের অংশগ্রহণ নেই বলে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্যের কারণে আমাদের দেশের নারীদের উচ্চশিক্ষায় নিরুৎসাহিত করা হয়। জেন্ডারের ভিত্তিতে সৃষ্ট সামাজিক বৈষম্যের কারণে নারীরা সমাজের সকল স্তরেই উপেক্ষিত হচ্ছে। তাদের মতামতের কোনো মূল্য দেয়া হয় না। জেন্ডারের ভিত্তিতে সৃষ্ট সামাজিক বৈষম্যের কারণে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রেই নারীরা লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে আমাদের বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন দিক দিয়ে এখনও পিছিয়ে রয়েছে, যা সামাজিক অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

পরিশেষে বলা যায় যে, জেন্ডারের ভিত্তিতেই নারী ও পুরুষের সামাজিকভাবে নির্ধারিত পরিচয়, ভূমিকা, মর্যাদা এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈসাদৃশ্যের অবতারণা ঘটেছে।

144
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

Caste শব্দের অর্থ বংশ বা বংশগত গুণাবলি। এর দ্বারা জাতিবর্ণ প্রথাকে বোঝায়।

1.1k
উত্তরঃ

সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির' গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব অপরিসীম। তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে। এর উন্নতি ও প্রসার সামাজিক মনোভাব, প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আবিষ্কার, কেবল প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অপটিক্যাল ফাইবার, ইন্টারনেট প্রভৃতি আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী তথ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। তাই বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

1.9k
উত্তরঃ

জাউদ্দীপকে ছকের'?' চিহ্নিত স্থানে অন্যতম সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় সামাজিক স্তরবিন্যাস নির্দেশিত হয়েছে।

সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অন্যান্য আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। এককথায় সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী বা শ্রেণির উঁচু-নীচু অবস্থান বা বিন্যাস ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজ বলেন, 'সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে মর্যাদা অনুযায়ী স্তরবিভাগকে বোঝায়। দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতানুসারে অর্থনীতির মানদণ্ডে সমাজের মানুষের যে ভেদাভেদ সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। অথবা উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার ভিত্তিতে মানুষ যে ভেদাভেদ সেটাই সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজ বা কালভেদে আলাদা হতে পারে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরণগুলোকে পর্যালোচনা করে সমাজবিজ্ঞানীরা চারটি ধরনের কথা বলেছেন যথা: ১. দাসপ্রথা, ২. এস্টেট প্রথা, ৩. জাতিবর্ণ, ৪. সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা গোষ্ঠী।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের এ চারটি প্রকারভেদই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের "?" স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রত্যয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।

449
উত্তরঃ

"উক্ত সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় তথা সামাজিক স্তরবিন্যাস ছাড়া পৃথিবীর কোনো সমাজকে কল্পনা করা যায় না'- আমি এ বক্তেব্যের সাথে একমত।

সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো চিরন্তন ও সর্বজনীন। সমাজজীবনের সূচনা থেকেই সামাজিক স্তরবিন্যাসের উদ্ভব ঘটেছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায় না যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম অধিবাসীদের জীবনেও দলপতির প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব প্রভাব প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতো। এজন্য স্তরবিন্যাসমুক্ত সমাজ কল্পনাতীত। কালের বিবর্তনের ধারায় সামাজিক স্তরবিন্যাসের আকৃতি প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটছে। যুগে যুগে স্তরবিন্যাসের রূপরেখা পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু স্তরবিন্যাস কথনো বিলুপ্ত হয়নি। বাস্তবে বৈষম্যহীন বা শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। সব সমাজেই কম-বেশি স্তরবিন্যাস লক্ষ করা যায়। প্রাচীন তথা আদিমযুগের যূথবদ্ধ সমাজ থেকে বর্তমানের আধুনিক শিল্পসমাজ সর্বত্র সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান ছিল এবং আছে। স্তরবিহীন কোনো সমাজ নেই। অর্থ-সম্পদ, মেধা, বংশ, পেশা, বয়স, লিঙ্গ, ক্ষমতা, শিক্ষা এর কোনো না কোনো একটির ভিত্তিতে সমাজকে স্তরায়িত করা যায়। এ সম্পর্কে জন মিলার বলেন- শ্রেণি, পদমর্যাদা, সামাজিক উঁচুনিচু ভেদাভেদ সর্বজনীন। ক্রমান্বয়ে সামাজিক আবর্তন-বিবর্তন ও পরিবর্তনের ফলে তা সম্পত্তির মালিকানা ও পদমর্যাদার ওপর নির্ভর করে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সামাজিক স্তরবিন্যাস। চিরন্তন ও সর্বজনীন। আর এটি সব সমাজেই বিদ্যমান। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

496
উত্তরঃ

সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া হলো উন্নয়ন।

327
উত্তরঃ

বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার সন্তান সন্ততি যদি পিতার কাছ থেকে পায়, সেক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবারকে পিতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।

পিতৃসূত্রীয় পরিবারের নেতৃত্ব, সম্পত্তি, বংশমর্যাদা ইত্যাদি উত্তরাধিকারসূত্রে পিতা থেকে পুত্রের কাছে আসে। এখানে দাদা, বাবা, পুত্র ও নাতিকে নানা, মাতা, মেয়ে ও নাতনির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের প্রচলিত সমাজ ও চাকমা সমাজে এ ধরনের পরিবার প্রচলিত।

1.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews