জনমনে আতঙ্ক কমানোর জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যথেষ্ট নয়, এক্ষেত্রে নিচে আমার মতামত দেওয়া হলো-
▶ খাদ্য উৎপাদন, বিপণন, বণ্টনে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ও যথাযথ কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে; সে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ এবং অমান্যকারীর জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত ও দৃশ্যমান করতে হবে।
▶ নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষ্যে খাদ্যসংক্রান্ত বিদ্যমান আইনসমূহ যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।
▶ জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য টেলিভিশন, পত্রিকার মাধ্যমে এবং পাঠ্যবই এর সিলেবাসে সংযুক্ত করে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক।
▶ মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি স্তরে মান যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত দুর্নীতিমুক্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
▶ জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যাতে তারা স্বেচ্ছায় অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন বা পরিবেশন সম্পর্কে সরকারের 'তথ্য প্রদান কেন্দ্র' এ তথ্য দিয়ে সহায়তা করে।
▶ সরকারি উদ্যোগে খাদ্যের গুণগতমান আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরূপণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। খাদ্যের উৎপাদন, বিপণন ও সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হলে বিশ্বাসযোগ্যতা, ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়।
▶ নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, বিধানে সরকার তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করেছে। উৎপাদিত বা সরবরাহকৃত খাদ্যদ্রব্যের গুণগতমান যাচাইকরণ, কারখানায় নজরদারি বাড়ানো, ফরমালিন ও কেমিক্যাল যুক্ত ভেজাল খাদ্যদ্রব্য যাতে বিক্রি করতে না পারে সেজন্য সরকারকে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, জনমনে আতঙ্ক কমানোর জন্য সরকারকে গৃহীত পদক্ষেপ ছাড়াও উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো কার্যকর করতে হবে।
Related Question
View Allযা ভোক্তার নিকট ক্ষতিকর হবে না এবং যা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহৃত হবে ভোগের জন্য তা-ই নিরাপদ খাদ্য।
কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট সময়ে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যের প্রাপ্তিকেই খাদ্যের প্রাপ্যতা বলা হয়। পর্যাপ্ত উৎপাদন এবং নির্দিষ্ট স্থানে পর্যাপ্ত খাদ্যের যোগান খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে পর্যাপ্ত খাদ্যের সরবরাহ নির্ভর করে সরকারি ও বেসরকারি খাদ্যশস্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনার উপর। কিছু কিছু জায়গায় পদ্ধতিগত দুর্বলতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা ও প্রয়োজনীয় খাদ্যে সরকারি সহযোগিতার অভাবে খাদ্যের প্রাপ্যতা বাধাগ্রস্ত হয়।
উদ্দীপকে খাদ্যে ভেজালের কথা বলা হয়েছে। উক্ত বিষয়টি প্রতিরোধে সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
⇨ সরকার ভেজালবিরোধী আইনের মাধ্যমে সকল পর্যায়ে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে সংসদে ভেজালবিরোধী আইন পাশ করার পাশাপাশি ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেছে।
⇨ দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ভেজালে সহায়তাকারী বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
⇨ ভেজাল প্রতিরোধে সরকার জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণকারীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদানের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে।
অতএব বলা যায়, সরকারের সদিচ্ছা এবং আইনের কার্যকরী প্রয়োগ দ্রুত দেশের ভেজাল প্রতিরোধ করতে পারে।
উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নিচে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো-
উন্নত বিশ্ব খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে কোনোরকম ছাড় দিতে নারাজ, যেকোনো কিছুর বিনিময়ে তারা নিরাপদ খাদ্য পেতে চায়। নিরাপদ খাদ্য পেতে তারা খরচের কথা চিন্তা করে না। ফলে তাদের খাদ্যের সরবরাহ ভালো। তাদের খাদ্য ক্রয়-বিক্রয়ও অনেক ভালো।
কিন্তু বাংলাদেশে ঠিক এর ব্যতিক্রম অবস্থা। বাংলাদেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি হলেও এই খাদ্য সরবরাহ করার পরও মানুষ প্রচুর অপচয় করে। এই অপচয় রোধে বিক্রেতারা খাদ্যে পচনশীলতা দূর করতে ফরমালিনের মতো বিষও প্রয়োগ করে। বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি সব খাদ্যে পচনশীলতা দূর করতে ফরমালিন প্রয়োগ করছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। খাদ্যের এই ভেজাল দিন দিন মনে হয় আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও আশু প্রতিক্রিয়া তেমন দেখা যাচ্ছে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।
খাদ্য নিরাপত্তা হলো নির্ভরশীল স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের পর্যাপ্ত যোগান যা ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বিদ্যমান থাকে।
কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী কর্তৃক শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান প্রাপ্তির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট খাদ্যদ্রব্য গ্রহণকেই খাদ্যের ব্যবহার বলে।
শরীরে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে যে সব খাদ্য গ্রহণ করা হয়, তার আত্তীকরণের উপর নির্ভর করে খাদ্যের ব্যবহার। খাদ্যভোগের ধরন, পুষ্টিমান, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক উপাদান; যেমন- খাদ্যে প্রাপ্যতা খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা এবং তার ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। দারিদ্র্য, লিঙ্গ, বয়স, কাঠামো ও সামর্থ্য, ভৌগোলিক অবস্থান, সংস্কৃতি চর্চা খাদ্যভোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!