সংগঠনের চালিকাশক্তি হলো নির্দেশনা।
ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় কাজটি হলো সংগঠিতকরণ।
এর মাধ্যমে ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় সব উপকরণ এবং সম্পদকে যথাযথভাবে ব্যবহার করার জন্য কর্মীদের মাঝে দায়িত্ব ও ক্ষমতা বণ্টন এবং আন্তঃসম্পর্ক তৈরি করা হয়। সংগঠন কাজকে প্রকৃতি অনুযায়ী সাজিয়ে দেয়। ফলে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের সব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতসহ কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা সহজ হয়।
উদ্দীপকে জনাব আজাদ শুরুতে ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা কাজটি করেছেন।
এর মাধ্যমে কোনো ব্যবসায় সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভবিষ্যতে কী কাজ, কে, কীভাবে, কখন করবে তা নির্ধারণ করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য নির্দিষ্ট হয়। এ লক্ষ্য অনুযায়ীই প্রতিষ্ঠানের সব কাজ পরিচালিত হয়। ব্যবস্থাপনার শুরুতেই এ কাজটি করা হয়।
উদ্দীপকে জনাব আজাদ প্রতি বছর ব্যবসায় শুরুর আগে বিগত বছরের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করেন। এরপর নতুন বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। কোনো কাজ শুরু করার আগে তার সুবিধা-অসুবিধা ও করণীয় সম্পর্কে আগাম চিন্তা করেন। এভাবে কাজের শুরুতে দিকনির্দেশনা তৈরি করা পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, জনাব আজাদ তার তৈরি পোশাক ব্যবসায়ের পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কাজ শুরু করেছেন।
উদ্দীপকে একই ধরনের কাজ বারবার সম্পাদিত হওয়ার ফলে ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যটি ফুটে উঠেছে।
ব্যবস্থাপনায় প্রক্রিয়া পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কয়েকটি কার্যক্রম (পরিকল্পনা, সংগঠিতকরণ, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা প্রভৃতি) ধারাবাহিকভাবে সম্পাদিত হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের মালিক জনাব আজাদ প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে করার পর বছর শেষে কিছু সমস্যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হন। পরবর্তী বছর সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে ঐ একই পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। এরপর একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করে বছর শেষে আশানুরূপ ফল পান।
ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হয়। এর সর্বশেষ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজে বের করে সেগুলোর আলোকে নতুন করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। নতুনভাবে প্রণীত পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন করে সংগঠন, নির্দেশনা, প্রেষণা প্রভৃতি কাজ করা হয়। এতে একই ধরনের কাজ বারবার সম্পাদিত হয়। তাই বলা যায়, জনাব আজাদের ব্যবসায়ে ধারাবাহিকভাবে সম্পাদন করা কাজগুলো ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
Related Question
View Allআধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন হেনরি ফেওল (Henri Fayol)।
অধীনস্থ কর্মীদের পূর্ণ কার্যক্ষমতা ব্যবহারের লক্ষ্যে তাদেরকে কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত বা উৎসাহিত করার প্রক্রিয়া হলো প্রেষণা।
মানুষের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার আগ্রহ তৈরি করা প্রেষণার উদ্দেশ্য। এটি কর্মীদের মানসিক অবস্থাকে প্রতিষ্ঠান ও কাজের প্রতি ইতিবাচক করে তোলে। এতে কাজের প্রতি কর্মীর মনোবল বাড়ে।
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব মাহিনের কাজটি হলো ব্যবস্থাপনা।
এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া হয়। একজন ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, যোগ্য কর্মী নিয়োগ, কর্মীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং দক্ষতা বাড়াতে কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া তিনি কর্মীদের কাজের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য প্রেষণা দেন।
উদ্দীপকের জনাব মাহিন 'হাসি-খুশি নকশি ঘর'-এর মালিক। তিনি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি কর্মীদের কাজের জন্য দিক-নিদের্শনা ও পরামর্শ দেন। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বিবেচনা করে তিনি দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এভাবে তিনি কর্মীদের দিয়ে কাজ করিয়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের চেষ্টা করেন। এসব কাজ ব্যবস্থাপনার কার্যাবলির সাথে সম্পৃক্ত। তাই জনাব মাহিনের কাজটিকে ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত বলা যায়
উদ্দীপকে মাহিনের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে 'হাসি-খুশি নকশি ঘর' স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উপকরণ ও সম্পদসমূকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে প্রত্যাশিত ফল অর্জন করা যায়। একজন ব্যবস্থাপক দক্ষতার সাথে কাজ পরিচালনা করতে পারলেই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জন সহজ হয়। বর্তমানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই দক্ষ ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকের জনাব মাহিন অনেক ভেবে-চিন্তে প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করেন। আবার উকরণাদির যাতে সুষ্ঠু ব্যবহার হয় সেজন্য কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। পণ্যের মান বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেন। প্রয়োজনে তিনি কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেন।
জনাব মাহিনের কার্যকর দিক-নির্দেশনা ও পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি সহজেই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায়। তার দক্ষতার কারণেই মানবীয় (শ্রমিক-কর্মী) ও অমানবীয় (কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি) উপাদানের সদ্ব্যবহার হয়। এভাবেই 'হাসি-খুশি নকশি ঘর' স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
যিনি নেতৃত্ব দেন তাকে নেতা বলে।
নারী-পুরুষের ভিন্ন-ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকাকে 'জেন্ডার সচেতনতা' বলে।
একজন কর্মী নারী বা পুরুষ যাই হোক না কেন উভয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। এতে প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ পক্ষপাতহীন আচরণ বজায় রাখতে হবে। কারও প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব না করাই জেন্ডার সচেতনতার মূল বিষয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
