ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নিজস্ব বা বহিস্থ উৎস থেকে সংগৃহীত অর্থই হলো ব্যাংক তহবিল।
ঋণের অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা যাচাইয়ে ব্যাংক ঋণ মঞ্জুর করতে ঋণগ্রহীতার চরিত্র বিবেচনা করে।
ঋণ মঞ্জুরকালে ঋণগ্রহীতার সুনাম ও সততা যাচাই করে দেখা উচিত। কোনো ব্যক্তির সামাজিক সুনাম ও সততা না থাকলে তাকে ঋণ মঞ্জুর করা উচিত নয়। অসৎ ব্যক্তিকে ঋণ দিলে উক্ত টাকা ফেরত পেতে ব্যাংককে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। তাই ঋণ মঞ্জুরে গ্রাহকের চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
উদ্দীপকের ব্যাংকটি জনাব আদনানকে ঋণ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ব্যক্তিক জামানতের বিষয়টি বিবেচনা করে ঋণ দিয়েছে।
যে স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি জমা রেখে ব্যাংক ঋণ দেয় তাকে জামানত বলে। ঋণের জামানত প্রধানত দুই প্রকার, যথা: ব্যক্তিক জামানত ও অব্যক্তিক জামানত। ঋণগ্রহীতা তার ব্যক্তিগত সুনাম, সততা কাজে লাগিয়ে ঋণ নিলে তা হবে ব্যক্তিক জামানত। তবে কোনো সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণ নিলে তা হবে অব্যক্তিক জামানত।
উদ্দীপকে জনাব আদনান একজন সফল ব্যবসায়ী। তার ব্যবসায়ের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। তাই তিনি একটি ব্যাংকের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করেন। ব্যাংক উক্ত ঋণের আবেদনটি মঞ্জুর করে। কিন্তু এই ঋণের ক্ষেত্রে তাকে কোনো সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হয়নি। সাধারণত ব্যক্তিক জামানতের, ক্ষেত্রে গ্রাহকের চরিত্র, সততা, আর্থিক সচ্ছলতা, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করা হয়। এক্ষেত্রে জনাব আদনানের ব্যবসায়িক সুনাম ও আর্থিক সচ্ছলতাকে জামানত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে জনাব আদনানকে ব্যাংক ব্যক্তিক জামানতের বিপরীতে ঋণ দিয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংকটির ক্ষেত্রে জনাব রাকিবের স্থাবর সম্পত্তি জামানত চাওয়া যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাকে ব্যাংক সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। ব্যাংক সাধারণত ব্যক্তিক ও অব্যক্তিক এই দুই ধরনের জামানত গ্রহণ করে। এ জামানতের বিপরীতে ব্যাংক ঋণ দিয়ে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব রাকিব একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসায়ের জন্য ব্যাংকের কাছে ঋণের আবেদন করেন। ব্যাংক তার স্থাবর সম্পত্তি জামানত হিসেবে রাখতে চায়। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যাংক ব্যক্তিক জামানত যেমন: ব্যক্তিগত চরিত্র, সততা, সুনাম ইত্যাদি বিবেচনা করে ঋণ দেয়। নতুন কোনো ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে অব্যক্তিক জামানত অর্থাৎ স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গুরুত্ব পায়। স্থায়ী সম্পত্তি রন্ধক থাকলে ব্যাংক ঋণের অর্থ ফেরত না পেলে আদালতের মাধ্যমে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। উক্ত সম্পত্তি বিক্রি করে ব্যাংক তার পাওনা আদায় করতে পারবে। এর ফলে ব্যাংককে কোনো ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হবে না। সুতরাং, উল্লিখিত ব্যাংকটির ক্ষেত্রে জনাব রাকিবের স্থাবর সম্পত্তি জামানত হিসেবে চাওয়া যথার্থ হয়েছে।
Related Question
View Allযে ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংক তার গ্রাহককে অগ্রিম ঋণ মঞ্জুর করে, কিন্তু সরাসরি নগদে সেই টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয় না তাকে নগদ ঋণ বলে।
ব্যাংক অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করে তাই ব্যাংক তহবিল।
ব্যাংক একটি আর্থিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক ব্যবসায়ের সফলতা অর্জনে এ তহবিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ ও ধার করা অর্থের সমন্বয়ে এ তহবিল গঠিত হয়।
জনাব রানার ব্যাংক জামানতটি পণ্য বন্ধক।
ঋণগ্রহীতা জামানত হিসেবে পণ্যের দখল ঋণদাতাকে দিলে তাকে পণ্য বন্ধক বলা হয়। এক্ষেত্রে পণ্যের মালিকানা ঋণগ্রহীতার, আর দখলস্বত্ব ঋণদাতার কাছে থাকে। ঋণ পরিশোধ করলে ঋণগ্রহীতা পণ্য ফিরে পায়। অন্যথায়, ঋণদাতা তা বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে।
উদ্দীপকের জনাব রানার মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা আছে। ব্যবসায়িক কাজে তার বড় অঙ্কের ঋণের প্রয়োজন হয়। তাই তিনি তার তৈরিকৃত মোটরসাইকেল জামানত রেখে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়। পণ্য বন্ধকের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতকৃত পণ্য জামানত রেখে ঋণ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে মোটরসাইকেল হলো জনাব রানার জন্য প্রস্তুতকৃত পণ্য। এটা বন্ধক রেখে সে ৪ কোটি টাকা ঋণ পায়। জনাব রানার জামানতটি পণ্য বন্ধকের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। তাই বলা যায়, জনাব রানা পণ্য বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিলেন।
উদ্দীপক অনুযায়ী সমতা বন্ধক অর্থাৎ কারখানার জায়গাটির দলিল জামানত হিসেবে বেশি উপযুক্ত।
যে সম্পত্তির দলিলপত্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণদাতা জামানত হিসেবে রাখেন, তাকে সমতা বন্ধক বলে। এক্ষেত্রে সম্পত্তির দখল ঋণগ্রহীতার কাছেই থাকে। উত্তম জামানত ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে ক্ষতির আশঙ্কা কমায়।
উদ্দীপকে জনাব রানা ও জনাব সবুজ দুজনেরই মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা রয়েছে। তাদের বড় অঙ্কের ঋণের প্রয়োজন। জনাব রানা তার তৈরিকৃত মোটরসাইকেল জামানত রেখে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়। অন্যদিকে, জনাব সবুজ কারখানার জায়গাটির দলিল বন্ধক রেখে ৬ কোটি টাকা ঋণ নেয়। ঋণের জামানতের ক্ষেত্রে ব্যাংক কতগুলো বিষয় বিবেচনা করে। উল্লিখিত ক্ষেত্রে জামানতের মূল্যের স্থিতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচ্য বিষয়।
জনাব রানার জামানত হলো পণ্য বন্ধক। অন্যদিকে, জনাব সবুজের জামানত হলো সমতা বন্ধক। মোটরসাইকেলের মূল্য চাহিদা অনুসারে ভিন্ন হয়। তবে জায়গার মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল। আবার আইনগত দিক বিবেচনায়ও জায়গার দলিল বেশি গ্রহণযোগ্য। তাই জনাব সবুজের সমতা বন্ধক ব্যাংকের কাছে বেশি উপযুক্ত।
ব্যাংক যে হিসাবের মাধ্যমে গ্রাহককে ঋণের টাকা প্রদান করে তাকে ঋণ হিসাব বলে।
গ্রাহক সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে KYC ফর্ম গ্রাহকের লেনদেনের সচ্ছতা নিশ্চিত করে।
KYC-এর পূর্ণরূপ হলো Know Your Customer। এ ফর্মে ব্যাংক গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, পেশা, কাজের ধরন ও অন্যান্য যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। ফলে গ্রাহক সহজে কোনো অবৈধ লেনদেন করতে পারে না। এভাবে লেনদেনের সচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!