'তাকওয়া' শব্দের অর্থ- ভয় করা, বিরত থাকা, আত্মরক্ষা করা।
হালাল উপার্জন ছাড়া মানুষের ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হয় না বলে একে ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত বলা হয়। হালাল উপার্জন বলতে বৈধ, আইনানুগ বা অনুমোদিত পন্থায় উপার্জন করাকে বোঝায়। শরিয়তের পরিভাষায়, ইসলাম অনুমোদিত ও কুরআন-হাদিস নির্দেশিত উপায়ে উপার্জন করাকে হালাল উপার্জন বলে। এটি ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন ও হালাল জীবিকা গ্রহণ না করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল উপার্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (স) বলেন, "হালাল জীবিকা উপার্জন করা ফরজের পরে একটি ফরজ" (সহিহ বুখারি)।
আবদুল মতিনের কর্মকাণ্ডে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 'তাকওয়া'র প্রভাব রয়েছে।
'তাকওয়া' শব্দের অর্থ- ভয় করা, বিরত থাকা, আত্মরক্ষা করা। আল্লাহ তায়ালার ভয়ে সব ধরনের অন্যায় ও পাপকাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করাকে তাকওয়া বলে। যিনি তাকওয়া অবলম্বন করেন তাকে বলা হয় মুত্তাকি বা তাকওয়াবান। একজন মুত্তাকি আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল (স) এর পূর্ণ আনুগত্য করেন এবং ইসলাম পরিপন্থি কোনো কাজ করেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মুত্তাকিদের পরিচয় দিয়ে বলেছেন, "মুত্তাকি তারা, যারা- ১. অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, ২. সালাত কায়েম করে, ৩. তাদেরকে আমি
যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে দান করে, ৪. আপনার প্রতি যে কিতাব নাজিল করেছি তার ওপর ইমান রাখে, ৫. আপনার আগে যা নাজিল হয়েছে তার ওপর ইমান রাখে এবং ৬. আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে" (সুরা আল-বাকারা: ৩-৪)।
উদ্দীপকের জনাব আবদুল মতিন হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং হারাম থেকে বিরত থাকেন। জীবনের সবক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার চেষ্টা করেন। নিয়মিত সালাত আদায় ও কুরআন তিলাওয়াত করেন। আখিরাতের প্রতি তার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। আবদুল মতিনের এসব কর্মকাণ্ডের সাথে কুরআনে উল্লেখিত মুত্তাকির বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, তিনি একজন মুত্তাকি এবং তার জীবনে তাকওয়ার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য ব্যক্তিজীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তিজীবনে তাকওয়ার অভাবে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দেয়। মানুষের মধ্যে অন্যায়, অপরাধ ও পাপাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকের আব্দুল মতিন সাহেবের জীবনে তাকওয়ার প্রকাশ পেয়েছে। আর তাকওয়া জীবনযাপনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুত্তাকি আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় পাপাচার থেকে বিরত থাকেন। কেননা তিনি বিশ্বাস করেন, অন্য কেউ না দেখলেও আল্লাহ ঠিকই সবকিছু দেখেন। আর দুনিয়ার জীবনে আমাদের প্রতিটি কাজের জন্য পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই মুত্তাকিরা পরকালে জান্নাত লাভ করবেন। আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ভয় করবে ও কুপ্রবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকবে, তার স্থান হবে জান্নাত” (সুরা আন- নাযিআত: ৪০-৪১)। ইসলামি জীবনদর্শনে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান হলেন 'মুত্তাকিরা। একজন মুসলিমের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য তাকওয়া অপরিহার্য। এটি ছাড়া ইমানের পূর্ণতা আসে না।
পরিশেষে বলা যায়, তাকওয়াই মানুষকে সব ধরনের অন্যায় ও পাপের কাজ থেকে বিরত রেখে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে একজন মুমিন ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুসলিম হতে পারেন।
Related Question
View Allইসলামি শরিয়ত নির্দেশিত বৈধ উপায়ে উপার্জন করাকে হালাল উপার্জন বলে।
পারস্পরিক সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করা ইসলামি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সালাম অর্থ শান্তি। ইসলামি সংস্কৃতির রীতি অনুযায়ী এক মুসলমানের সঙ্গে অন্য মুসলমানের দেখা হলে প্রথমে সালাম বিনিময় করে। এর মাধ্যমে অন্যের শান্তি তথা কল্যাণ কামনা করা হয়। সালাম দেওয়া সুন্নত এবং সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। কেউ সালামের উত্তর না দিলে ইসলামের বিধান অনুযায়ী সে গুনাহগার হবে।
আবদুল বাতেন তার ছেলেকে আল্লাহর ইবাদতের নিয়ম- পদ্ধতি ও হালাল-হারামের বিধান শেখার জন্য ইসলাম শিক্ষা অধ্যয়ন করতে বলেছেন। যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। এটি কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক একটি আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থা। আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা, হালাল উপার্জন ও কর্মমুখী জীবন গঠন, দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতে মুক্তিলাভ প্রভৃতি ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য। আবদুল বাতেন তার ছেলেকে এ বিষয়টি অধ্যয়ন করতে বলেছেন।
উদ্দীপকের আবদুল বাতেন তার একমাত্র ছেলেকে আল্লাহর ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি ও হালাল-হারামের বিধান শেখানোর জন্য একটি বিশেষ বিষয় অধ্যয়ন করতে বলেন। তিনি এখানে ইসলাম শিক্ষার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং তা মানার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। ইসলামের বিধিবিধান এবং আল্লাহর ইবাদতের পদ্ধতি শেখানো, জীবনের সবক্ষেত্রে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং ব্যক্তির চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। ইসলাম শিক্ষা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ প্রদর্শন করে এবং অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রাখে। আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব সংরক্ষণ করাও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।
দৈনন্দিন জীবনে আবদুল বাতেন হালাল-হারামের বিধান মেনে চলেন। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। আবদুল বাতেন দৈনন্দিন জীবনে এ বিধানটি মেনে চলার চেষ্টা করেন।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, জনাব আবদুল বাতেন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলার চেষ্টা করেন। তিনি হালাল পথে উপার্জন করেন। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করেন। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের প্রধান পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন। হারাম বা অবৈধ জিনিস প্রহণের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এর জন্য পরকালে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক।
ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
হাক্কুল্লাহ বলতে আল্লাহর প্রতি মানুষের কর্তব্যকে বোঝায়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। আল্লাহর প্রতি মানুষের কর্তব্য পালনের মানে হচ্ছে যথাযথভাবে তার ইবাদত করা। জীবনের সবক্ষেত্রে তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। যেকোনো অবস্থায় আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করা এবং তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করা। তার নেয়ামতের শোকর করা এবং সুখে-দুঃখে তার ওপর ভরসা করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!