ISO হলো পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান যার পূর্ণরূপ হলো International Standard Organization.
যে ব্যবসায় গড়তে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ মূলধন দেন কিন্তু তার পিছনে মুনাফা অর্জন বা লভ্যাংশ প্রাপ্তির কোনো উদ্দেশ্য থাকে না; বরং সমাজের কল্যাণ ও দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যই থাকে মুখ্য তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে।
ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। এই মুনাফা প্রাপ্তির জন্যই ব্যবসায়ীরা অর্থ বিনিয়োগ করে। কিন্তু সামাজিক ব্যবসায় গড়ে তোলার পিছনে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্য থাকে একে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলে সমাজের মানুষের কল্যাণসাধন করা। এ ব্যবসায়ে বিনিয়োগকারী শুধু তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পায়, কোনো মুনাফা পায় না। মুনাফার অর্থ দিয়ে যাবতীয় খরচ নির্বাহ করা হয়, যা ব্যবসায় সম্প্রসারণে পুনঃবিনিয়োেগ হিসেবে ধরা হয়। সুতরাং, মানসিক সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মালিক এ ধরনের ব্যবসায়ে অর্থ বিনিয়োগ করে।
উদ্দীপকে ফলের উপর মৌমাছি না বসায় ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
ব্যবসায়ে ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, সঠিক-অসঠিক বিচারে প্রত্যাশিত আচরণ প্রদর্শনই হলো ব্যবসায় নৈতিকতা। ব্যবসায় ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ প্রভৃতি বিচার অপরিহার্য হয়ে পড়ে। মানুষের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীকে নৈতিকতা মেনে চলতে হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আব্দুর রাজ্জাক বাজারে ফল কিনতে গিয়ে লক্ষ করলেন, ফলের গায়ে একটিও মৌমাছি নেই। আর মৌমাছি সাধারণত ফুল, ফল ইত্যাদির উপর বসে। তবে ফলে রাসায়নিক দ্রব্য কিংবা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হলে ঐ ফলের উপর মৌমাছি বসতে দেখা যায় না। আর ফলে মৌমাছি না থাকায় ফলে কেমিক্যাল জাতীয় ক্ষতিকর দ্রব্যের উপস্থিতি নিয়ে জনাব আব্দুর রাজ্জাক সন্দিহান। আর এ কারণেই ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কেননা ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সুতরাং ফলের উপর মৌমাছি না বসায় ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
জনাব আব্দুর রাজ্জাকের শঙ্কা হ্রাসে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের অবশ্যই দায়বদ্ধতা আছে এবং তা পালনে ব্যবসায়ীদের সর্বদা সচেষ্ট থাকা উচিত।
মানুষ সামাজিক জীব। একতাবদ্ধ হয়ে বসবাস করা মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম। উৎপাদক, সরবরাহকারী, ক্রেতা, ভোক্তা, এলাকা, সরকার, মধ্যস্থ ব্যবসায়ী প্রভৃতি উপাদানের সমষ্টিই সমাজ। সমাজের এসব পক্ষের প্রতি ব্যবসায়কে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতি ব্যবসায় যে দায়িত্ব পালন করে, তাকে ব্যবসায়ের সামাজিক দায়িত্ব বলা হয়।
এক সময় ছিল যখন ব্যবসায় নিছক মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে মুনাফার্জনের চেয়ে সেবা প্রদানের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন ধারণার উন্নয়ন ঘটে। তাই আজ আর ব্যবসায় কেবল মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার নয়। সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতি ব্যবসায় প্রচুর দায়িত্ব পালন করছে।
সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই ব্যবসায়কে নিজের কল্যাণসাধন করতে হয়। কেবল দায়িত্ব পালন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থায়িত্ব লাভ করতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত। কিন্তু সমাজের প্রতি তাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, জনাব আব্দুর রাজ্জাকের শঙ্কা হ্রাসে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের অবশ্যই দায়বদ্ধতা আছে।
Related Question
View Allযে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকেই মূল্যবোধ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!