জনাব আব্দুর রাজ্জাক কিছু ফল কেনার জন্য বাজারে গেলেন। তিনি লক্ষ করলেন কোনো ফলের উপর মাছি নেই আবার পচনের কোনো দাগও ফলে দেখা যাচ্ছে না। তিনি ভাবলেন, অতীতে ফলের উপর মৌমাছি বা মাছি উড়তে দেখলেও এখন তা নেই কেন? বিষয়টি ভেবে তিনি কোনো ফল না কিনেই বাড়ি ফিরলেন। বিষয়টি তাকে বেশ শঙ্কিত করে তুলল।
যে ব্যবসায় গড়তে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ মূলধন দেন কিন্তু তার পিছনে মুনাফা অর্জন বা লভ্যাংশ প্রাপ্তির কোনো উদ্দেশ্য থাকে না; বরং সমাজের কল্যাণ ও দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যই থাকে মুখ্য তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে।
ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। এই মুনাফা প্রাপ্তির জন্যই ব্যবসায়ীরা অর্থ বিনিয়োগ করে। কিন্তু সামাজিক ব্যবসায় গড়ে তোলার পিছনে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্য থাকে একে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলে সমাজের মানুষের কল্যাণসাধন করা। এ ব্যবসায়ে বিনিয়োগকারী শুধু তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পায়, কোনো মুনাফা পায় না। মুনাফার অর্থ দিয়ে যাবতীয় খরচ নির্বাহ করা হয়, যা ব্যবসায় সম্প্রসারণে পুনঃবিনিয়োেগ হিসেবে ধরা হয়। সুতরাং, মানসিক সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মালিক এ ধরনের ব্যবসায়ে অর্থ বিনিয়োগ করে।
উদ্দীপকে ফলের উপর মৌমাছি না বসায় ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
ব্যবসায়ে ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, সঠিক-অসঠিক বিচারে প্রত্যাশিত আচরণ প্রদর্শনই হলো ব্যবসায় নৈতিকতা। ব্যবসায় ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ প্রভৃতি বিচার অপরিহার্য হয়ে পড়ে। মানুষের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীকে নৈতিকতা মেনে চলতে হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আব্দুর রাজ্জাক বাজারে ফল কিনতে গিয়ে লক্ষ করলেন, ফলের গায়ে একটিও মৌমাছি নেই। আর মৌমাছি সাধারণত ফুল, ফল ইত্যাদির উপর বসে। তবে ফলে রাসায়নিক দ্রব্য কিংবা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হলে ঐ ফলের উপর মৌমাছি বসতে দেখা যায় না। আর ফলে মৌমাছি না থাকায় ফলে কেমিক্যাল জাতীয় ক্ষতিকর দ্রব্যের উপস্থিতি নিয়ে জনাব আব্দুর রাজ্জাক সন্দিহান। আর এ কারণেই ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কেননা ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সুতরাং ফলের উপর মৌমাছি না বসায় ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
জনাব আব্দুর রাজ্জাকের শঙ্কা হ্রাসে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের অবশ্যই দায়বদ্ধতা আছে এবং তা পালনে ব্যবসায়ীদের সর্বদা সচেষ্ট থাকা উচিত।
মানুষ সামাজিক জীব। একতাবদ্ধ হয়ে বসবাস করা মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম। উৎপাদক, সরবরাহকারী, ক্রেতা, ভোক্তা, এলাকা, সরকার, মধ্যস্থ ব্যবসায়ী প্রভৃতি উপাদানের সমষ্টিই সমাজ। সমাজের এসব পক্ষের প্রতি ব্যবসায়কে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতি ব্যবসায় যে দায়িত্ব পালন করে, তাকে ব্যবসায়ের সামাজিক দায়িত্ব বলা হয়।
এক সময় ছিল যখন ব্যবসায় নিছক মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে মুনাফার্জনের চেয়ে সেবা প্রদানের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন ধারণার উন্নয়ন ঘটে। তাই আজ আর ব্যবসায় কেবল মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার নয়। সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতি ব্যবসায় প্রচুর দায়িত্ব পালন করছে।
সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই ব্যবসায়কে নিজের কল্যাণসাধন করতে হয়। কেবল দায়িত্ব পালন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থায়িত্ব লাভ করতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত। কিন্তু সমাজের প্রতি তাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, জনাব আব্দুর রাজ্জাকের শঙ্কা হ্রাসে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের অবশ্যই দায়বদ্ধতা আছে।
সৃষ্টিকর্তা মানুষকে ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সেজন্য মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব । প্রত্যেক মানুষ নিজের জন্য নিজের সন্তান-সন্ততির জন্য ভালো কিছু প্রত্যাশা করে । যা তার অন্যের জন্যও করা বা চাওয়া উচিত । এখানেই সামাজিক দায়িত্ববোধ, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রশ্ন । কোনো ব্যবসায়ী যখন জেনে-বুঝে পরিবেশ দূষণ করে, ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় তখন সে কতটা অনৈতিক ও অবিবেচকের মত কাজ করছে তা সম্পূর্ণ বুঝে উঠতে পারে না; মুনাফা অর্জনই তার কাছে হয়ে ওঠে মুখ্য । ক'দিন আগে টেলিভিশনে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের এক অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দেখলাম । যিনি তার তিন যুবক সন্তান হারিয়েছেন একে একে । পরে মৃত্যুর কারণ জানা গেল । তারা ক্ষেতে কীটনাশক বিষ স্প্রের কাজ করতো । কিন্তু নাকে-মুখে কাপড় দিত না । এই বিষ শরীরে ঢুকে প্রত্যেকেরই ক্যান্সারে মৃত্যু ঘটেছে । তাই ঝুঁকিমুক্ত ভাবে নিজে বাঁচতে ও অন্যকে বাঁচাতে সবাইকে আরো সচেতন ও সতর্ক হতে হবে ।সৃষ্টিকর্তা মানুষকে ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সেজন্য মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব । প্রত্যেক মানুষ নিজের জন্য নিজের সন্তান-সন্ততির জন্য ভালো কিছু প্রত্যাশা করে । যা তার অন্যের জন্যও করা বা চাওয়া উচিত । এখানেই সামাজিক দায়িত্ববোধ, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রশ্ন । কোনো ব্যবসায়ী যখন জেনে-বুঝে পরিবেশ দূষণ করে, ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় তখন সে কতটা অনৈতিক ও অবিবেচকের মত কাজ করছে তা সম্পূর্ণ বুঝে উঠতে পারে না; মুনাফা অর্জনই তার কাছে হয়ে ওঠে মুখ্য । ক'দিন আগে টেলিভিশনে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের এক অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দেখলাম । যিনি তার তিন যুবক সন্তান হারিয়েছেন একে একে । পরে মৃত্যুর কারণ জানা গেল । তারা ক্ষেতে কীটনাশক বিষ স্প্রের কাজ করতো । কিন্তু নাকে-মুখে কাপড় দিত না । এই বিষ শরীরে ঢুকে প্রত্যেকেরই ক্যান্সারে মৃত্যু ঘটেছে । তাই ঝুঁকিমুক্ত ভাবে নিজে বাঁচতে ও অন্যকে বাঁচাতে সবাইকে আরো সচেতন ও সতর্ক হতে হবে ।
চিত্র: CSR এর অন্যতম নিদর্শন সফল উদ্যোক্তা মরহুম জহুরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ
এ অধ্যায় পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা (শিখন ফল)
১. ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে
২. ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারবে
৩. ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে
৪. ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারবে
৫. সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে পারবে
৬. ব্যবসায়িক কারণে পরিবেশ দূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারবে
৭. পরিবেশ সংরক্ষণে বণিক সমিতি/ব্যবসায় সংগঠনসমূহের দায়িত্ব বিশ্লেষণ করতে পারবে
৮. সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের গৃহিত কার্যক্রম বিশ্লেষণ করতে পারবে
৯. খাদ্য সংরক্ষণে যে সকল রাসায়নিক ব্যবহার হয় সেগুলোর ক্ষতিকর দিক শনাক্ত করতে পারবে
১০. রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদিত খাদ্যের ক্ষতিকর দিকগুলো বিশ্লেষণ করতে পারবে
১১. ক্ষতিকারক পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো শনাক্ত করতে পারবে
১২. খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে রাসায়নিক ব্যবহারে সতর্কতা ও করণীয়দিকগুলো চিহ্নিত করতে পারবে