একটি চিনি উৎপাদনকারী ফসল হলো আখ।
বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া কমলা চাষের জন্য উপযোগী। কমলায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকায় রোগীর পথ্য ও রুচি বর্ধনকারী হিসেবে জনপ্রিয়।
একটি কমলা গাছ ৫ বছর থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন দেয়। আবার একটি গাছ প্রতি বছরে ৩০০-৫০০টি কমলা ধারণ করে। প্রতিটি কমলার বাজারমূল্য ১৫ টাকা হিসেবে এক বছরে একটি গাছ থেকে ৪,৫০০-৭,৫০০ টাকা আয় করা সম্ভব। যে সময়ে বাংলাদেশের বাজারে দেশীয় ফলের স্বল্পতা থাকে সেটিই তখন কমলা সংগ্রহের সময়। তাই এদের বাজারে চাহিদাও বেশি। তাই বলা যায়, কমলা চাষ লাভজনক।
মনির কুল চাষ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কুল চাষ করতে কুঁড়ি সংযোজন করা প্রয়োজন।
এই কুঁড়ি সংযোজন করতে মনিরকে কিছু কাজ করতে হয়। উপজোড় গাছের ডালের প্রত্যেক পাতার গোড়ায় অবস্থিত যেসব কুঁড়ি ৪-৫ দিনের মধ্যে ফোটার সম্ভাবনা থাকে সেসব কুঁড়ি সমৃদ্ধ ডাল সংগ্রহ করতে হবে এবং বোঁটার কিছু অংশ রেখে সমস্ত পাতা কেটে ফেলতে হবে। কুলের ক্ষেত্রে প্যাচ বা তালি বাডিং-ই তুলনামূলকভাবে সহজ ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে চারা পেতে হলে নির্ধারিত স্থানে বীজ ও চারা তৈরি করে তার উপর বাডিং এর মাধ্যমে কলম করতে হবে। এ কলমের ক্ষেত্রে প্রথমে আদিজোড় শাখা থেকে আয়তকারে বাকল তুলে ফেলতে হবে। শূন্যস্থানে বাকলসহ কাঙ্ক্ষিত জাতের কুঁড়িটি হালকা চাপ দিয়ে কাঠের সাথে সুন্দরভাবে বসিয়ে দিতে হবে। বাডিং ফিতা বা পলিথিনের ফিতা দিয়ে বাকলসহ কুঁড়িটিকে আদিজোড় ডালের সহিত এমনভাবে পেঁচিয়ে বেঁধে দিতে হবে যেন শুধুমাত্র কুঁড়িটি উন্মুক্ত থাকে এবং বাকলটি আলগা হয়ে না যায়। এরপর কুঁড়ি বসানোর স্থান থেকে ৫.০-৭.৫ সেমি উপরে আদিজোড় ডালের মাথাটি কেটে ফেলতে হবে।
সুতরাং, কুল গাছের কুঁড়ি সংযোজনের ক্ষেত্রে মনিরকে উপরিল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
উদ্দীপকে কুলের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। কুল বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ফল। অম্লমধুর ও মিষ্টি স্বাদের জন্য প্রায় সব বয়সের মানুষ কুল পছন্দ করে। স্বাদ ও পুষ্টিমানের বিচারে কুল একটি উৎকৃষ্ট ফল। কুলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' ও 'এ' আছে। এতে সাধারণত ৮৫.৯ ভাগ পানি, ০.৮ ভাগ আমিষ, ০.১ ভাগ স্নেহ ও ১২.৮ ভাগ লৌহ থাকে। এছাড়াও কুলের প্রতি ১০০ গ্রাম শাঁসে ৫৫ ক্যালরি শক্তি, ৭০ আই. ইউ. ক্যারোটিন ও ৫০-১৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন 'সি' বিদ্যমান। এই ফল রক্ত শোধক, রক্ত পরিষ্কারক ও খাদ্য হজমে সহায়ক। পাশাপাশি পেটে বায়ু ও খাদ্যে অরুচি, কোষ্ঠবদ্ধতা, বাত রোগে ও রক্ত শোধনে কুল থেকে তৈরি ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
অর্থনৈতিক দিক দিয়েও কুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফল। মাঠ ফসলের চেয়ে কুল চাষ করা লাভজনক। কারণ হিসেবে দেখা গেছে, বারিকুল বা বাউকুল এক বিঘা জমিতে চাষ করলে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করা যায়। জ্বালানির কাজে ফল গাছের ডালপালা, পাতা ব্যবহৃত হয়। মাঠ ফসলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই, কম বাজারমূল্য, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি যা ফল চাষের ক্ষেত্রে কম। এছাড়া কুল থেকে তৈরি আচার, চাটনি, ক্যান্ডি ইত্যাদি খাবারের প্রচুর বাজার চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে কুলের শরবত ও অন্যান্য ফলের সাথে এটি মিশিয়ে জেলিও তৈরি করা হচ্ছে। কুলগাছে Tachardia lacca নামক এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র পোকা লালন করে লাক্ষা গালা তৈরি করা যায়।
সুতরাং আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, অর্থনৈতিক ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও রোগবালাই দূরীকরণে কুলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allজীববিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের ও অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন অন্যান্য জলজ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস, চাষ পদ্ধতি, প্রজনন, রোগতত্ত্ব, সংরক্ষণ, পরিবহণ ও বিপণন বিষয়ে আলোচনা করা হয় তাকে মাৎস্য বিজ্ঞান বলে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় প্রতি মাসে অথবা প্রয়োজন অনুসারে কৃষকদের নিয়ে কোনো একজন কৃষকের উঠোনে কৃষির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে বৈঠক করে তাকে উঠোন বৈঠক বলে।
মূলত উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকেরা কৃষি তথ্য ও সেবা পেয়ে থাকে। উঠোন বৈঠকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো- কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তি হস্তান্তর করা, কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কৃষকদের জ্ঞান, তথ্য, অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। ফলে দুর্বল কৃষকরা কৃষি তথ্যে সমৃদ্ধ হয়ে কৃষিকাজে আরও উৎসাহী হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)। এ প্রতিষ্ঠানটি নিম্নলিখিত কার্যাবলীর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে-
i. ফসলের নতুন নতুন জাত নির্বাচন, উদ্ভাবন ও উন্নয়ন সাধন।
ii. নির্বাচিত ও উদ্ভাবিত ফসলের জাতসমূহ চাষাবাদের জন্যে অনুমোদনের ব্যবস্থাকরণ এবং উন্নত চাষাবাদ কলাকৌশল উদ্ভাবন।
iii. বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক গবেষণা প্রকল্প তদারকীকরণ ও পরামর্শ প্রদান।
iv. উন্নত সেচ প্রযুক্তি উদ্ভাবন।
V. সার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন।
vi. মাটির উর্বরতা রক্ষার উপায় উদ্ভাবন ও উন্নয়ন।
vii. ফসলের প্রজাতি বা জিন সংরক্ষণ।
viii. চাষাবাদ ও পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র উদ্ভাবন।
ix. কৃষিপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার কৌশল উদ্ভাবন।
x. কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা প্রভৃতির আয়োজনকরণ।
xi. শস্য বিন্যাস পদ্ধতির আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন।
xii. কৃষি পরিবেশ ও অঞ্চলেভেদে দেশের চাহিদাভিত্তিক কৃষি গবেষণা পরিচালনা।
xiii. কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান।
xiv. কৃষিতে আইসিটি এর প্রয়োগকরণ।
পরিশেষে বলা যায়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন, কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র দূরীকরণে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উদ্দীপকে চাষকৃত ফুলটি হলো ডালিয়া। ডালিয়া ফুল গাছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া প্রভৃতি আক্রমণ করলে নানাবিধ রোগ হয়। এসব প্রতিরোধে দরকার প্রয়োজনীয় রোগ দমন ব্যবস্থাপনা।
ডালিয়ার পাউডারি মিলডিউ রোগ দমনে গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে। রোগের প্রকোপ কম হলে দ্রুত বেগে পানি স্প্রে করেও দমন করা যায়। সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ১ লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ৩-৫ বার স্প্রে করতে হবে। রোগ দেখা মাত্রই সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন- থিয়োভিট ৮০ ডব্লিউজি বা কুমুলাস ডিএফ) ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে অথবা প্রোপিকোনাজোল (যেমন- টিল্ট ২৫০ ইসি) ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। ঢলে পড়া রোগ দমনে রোগাক্রান্ত চারা/গাছ তুলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। মেটালেক্সিল + মেনকোজেব (যেমন- রিডোমিল গোল্ড) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে কন্দ আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে জমিতে বপন করতে হবে। আক্রান্ত গাছে অক্সিক্লোরাইড বা কপার জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। ডালিয়ার ড্যাম্পিং অফ রোগ হলে মেটালেক্সিল ও রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। ডালিয়ার কান্ড পচা রোগ হলে রোগাক্রান্ত গাছ ধ্বংস করে ফেলতে হবে। ডালিয়ার অ্যানথ্রাকনোজ রোগ প্রতিরোধে কার্বেন্ডাজিম দ্বারা কন্দ শোধন করতে হবে। আর এ রোগে আক্রান্ত গাছে কপার অক্সিক্লোরাইড ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া ভাইরাসঘটিত রোগের কোনো ঔষধ নাই। সুতরাং রোগাক্রান্ত গাছগুলি সঙ্গে সঙ্গে তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জাবপোকা, থ্রিপস, জ্যাসিড ইত্যাদি পোকা দ্বারা ভাইরাসের বিস্তার হয়। তাই সুস্থ গাছে নিয়মিত ডাইমেক্রন ১০০ ইসি (৫%) দ্রবণ প্রতি ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করলে এইসব পোকা দমন করা যায়।
অতএব, উপরে উল্লিখিত বিবিধ রোগ দমন ব্যবস্থাপনা গ্রহণের মাধ্যমে ডালিয়া ফুলের লাভজনক চাষ করা যায়।
ভূমিক্ষয় হলো বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক শক্তি যেমন- বৃষ্টিপাত, পানি, বায়ু, বরফ, তাপ, মধ্যাকর্ষণ শক্তি, ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া এবং পানি চলাচলের প্রভাবে মৃত্তিকা কণার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারণ হওয়া।
মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদমকে মাটির অম্লমান বা মাটির pH বলে। এটি মাটির একটি রাসায়নিক ধর্ম। মাটির অম্লমান বা pH ১-১৪ সংখ্যা দ্বারা উল্লেখ করা হয়। কোনো মাটির pH ৭.০ হলে তাকে প্রশম মাটি ধরা হয় আবার মাটির pH ৭.০ এর নিচে গেলে উক্ত মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হয় এবং pH ৭.০ এর উপরে উঠে গেলে মাটির ক্ষারত্ব দেখা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!