প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে পরিবেশের ওপর যে ধরনের ফলাফল বা প্রভাব পড়ে তাই পরিবেশ বিপর্যয়।
দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সহজেই দূষণ ঘটে।
কোনো কারণে একটি স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘূর্ণিঝড় হলে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানিগুলো স্বাদু পানির সাথে মিশে পানিকে দূষিত করে। আবার, প্রবল বেগের বায়ু প্রবাহের কারণে আশেপাশের বসতবাড়ি ভেঙে যায় এবং লবণাক্ত পানি দ্বারা মাটিদূষণ হয়। এভাবে দুর্যোগের ফলে মাটিদূষণ, পানিদূষণ প্রভৃতি ঘটে থাকে।
উদ্দীপকের জনাব আব্দুস সাত্তার সাহেব দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান এবং পুনরুদ্ধারে করণীয় দিক সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগের আগে বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় তবে এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম ফলদায়ক হতে পারে। যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, নদী খনন, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি। দুর্যোগ শুরু হওয়ার পূর্বে এমনসব কাজ করতে হয় যাতে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের সম্ভাবনা থাকে। যেমন- ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ। এটি চিহ্নিত করতে পারলে ঐসব ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে মানুষ সরিয়ে আনা যায়। এছাড়া দুর্যোগসংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে দুর্যোগ থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
দুর্যোগের পর পরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন পড়ে। যেমন-ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে তল্লাশি ও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তাদেরকে অন্যত্র নিরাপদে রাখা এবং তাদেরকে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে পুনরুদ্ধার আরম্ভ হয়। এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদেরকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ। সুতরাং বলা যায়, উল্লিখিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে মেনে চললে দুর্যোগের ভয়াবহতা থেকে কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ও দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে থাকে। ভৌগোলিকগতভাবেই এদেশটি দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ। কিছু প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিলে দুর্যোগের কবল থেকে অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভবপর হবে।
দুর্যোগ পূর্বকালীন যে সমস্ত করণীয় দিক রয়েছে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেমন- দুর্যোগের পূর্বে আশ্রয়কেন্দ্র ভালোভাবে নির্মাণ করতে হবে, দুর্যোগকবলিত এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং ঐ এলাকার মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং খাবার পানি প্রভৃতির ব্যবস্থা করা। এসব কাজ সঠিকভাবে করতে পারলে দুর্যোগ থেকে মানুষ রক্ষা পাবে। দুর্যোগকালীন সাড়াদান অর্থাৎ দুর্যোগ যখন শুরু হয় তখন দুর্যোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান। এর ফলে দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে দুর্যোগকালীন যেসব এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা চিহ্নিত করা এবং ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্নির্মাণে অংশগ্রহণ করা। যেমন- নতুন নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ, নিরাপদ পানির সরবরাহ প্রভৃতি।
উপরিউক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, বাংলাদেশের দুর্যোগকবলিত এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় উল্লিখিত করণীয় দিকগুলো বাস্তবজীবনে প্রয়োগ করতে পারলে দুর্যোগের ভয়াবহতা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাবে এবং দুর্যোগের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।
Related Question
View Allবায়ুদূষণের একটি অন্যতম উৎস হলো শিল্পকারখানার ধোঁয়া।
দরিদ্রতা অর্থনৈতিক দূষণের ফল।
অর্থনৈতিক দূষণের প্রত্যক্ষ ফল হলো দরিদ্রতা। যেকোনো দেশের সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিভিন্ন কারণে যখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয় অর্থাৎ দূষণের সম্মুখীন হয় তখন উন্নয়ন থমকে দাঁড়ায় আর উন্নয়ন থমকে দাঁড়ালে একটি দেশে দরিদ্রতা নেমে আসে। কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হয় এবং দারিদ্র্যতা দূরীকরণ হয়। তাই বলা যায়, দরিদ্রতা অর্থনৈতিক দূষণের ফল।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খনিজটি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস যার ভৌগোলিক অবস্থান নিচে দেখানো হলো।
বাংলাদেশের আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রসমূহ দেশের উত্তর-পূর্বাংশ, পূর্ব বাংলা এবং দক্ষিণ-পূর্বাংশের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রসমূহের মধ্যে সিলেট, ছাতক, রশিদপুর, তিতাস, কৈলাসটিলা, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, সেমুতাং, বেগমগঞ্জ, কুতুবদিয়া, বিয়ানীবাজার, ফেনী, কামতা, ফেঞ্চুগঞ্জ, জালালাবাদ, বেলাবো, মেঘনা, শাহবাজপুর, সাঙ্গু, বিবিয়ানা, সুন্দলপুর, শ্রীকাইল ও বাঙ্গুরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
এদের মধ্যে সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র, যা ১৯৫৫ সালে আবিষ্কৃত হয়।
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির সারমর্ম হলো প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন বনজসম্পদ রক্ষা পায় অন্যদিকে তেমনি কালো ধোঁয়ার হাত থেকে বায়ুদূষণ রোধ হয়।বাংলাদেশে ব্যাপক হারে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। শিল্প ক্ষেত্রে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ফলে জ্বালানির কাজে ব্যবহৃত কাঠের বিকল্প হিসেবে গ্যাস অধিক গ্রহণযোগ্য। এর ফলে কাঠের ব্যবহার হ্রাস পায় যার ফলে বনজসম্পদ রক্ষা পায়। জ্বালানি হিসেবে কাঠ, কয়লার ব্যবহার অধিক হারে বায়ুদূষণ করে। কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাসের কোনো কালো ধোঁয়া নেই। ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসের অধিক ব্যবহারের ফলে যেহেতু কাঠের ব্যবহার কম হয় তাই একদিকে যেমন বনজসম্পদ রক্ষা পায় অন্যদিকে কালো ধোঁয়া না থাকায় বায়ুদূষণ রোধ হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি সঠিক।
দুর্যোগ হলো এখন কোনো ঘটনা বা অবস্থা যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
যেকোনো ধরনের পরিকল্পনা যদি পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে তা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। কারণ পৃথিবীর সবকিছুই পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে এমন পরিকল্পনা টিকে থাকে না। তাই উন্নয়নকে চিরস্থায়ী করতে অর্থাৎ টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!